০৮:১৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডুমুরিয়ায় আন্তর্জাতিক নারী দিবস উদযাপন উপলক্ষে আলোচনা সভা ও র‍্যালি অনুষ্ঠিত

শেখ মাহতাব হোসেন ডুমুরিয়া খুলনা।
৮ মার্চ রবিবার সকাল ১০টায় ডুমুরিয়া উপজেলা প্রশাসন ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর আয়োজনে ‌ডুমুরিয়া উপজেলা কমপ্লেক্স সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন ডুমুরিয়া উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা হাঁসি রাণী রায়, প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজ সাবিতা সরকার, বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ডুমুরিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি অমিত কুমার বিশ্বাস, ওসি তদন্ত আছের আলী,যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা এস এম কামরুজ্জামান, উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মনোরঞ্জন বিশ্বাস, সমাজ সেবা কর্মকর্তা মনোজ কান্তি রায়, আব্দুল কাইয়ুম জমাদার, আই সিটি কর্মকর্তা মোঃ রেজাউল করিম, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ ফহরাদ হোসেন, ডুমুরিয়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শেখ মাহতাব হোসেন, সাংবাদিক শেখ সিরাজুল ইসলাম খান আরিফুজ্জামান নয়ন সহ আরো অনেকে।
৮মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস। দিবসটি সামনে এলেই জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সেই ‘নারী’ কবিতার পঙ্ক্তিটি চলে আছে ‘অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর’। মানবসভ্যতা ও সৃষ্টির বিকাশে নারী ও পুরুষের সমান অবদান ও মর্যাদা অপরিহার্য। নারী-পুরুষ একে অপরের পরিপূরক, কেউ কারো চেয়ে কম নয়। কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশের উন্নয়ন ও আত্মসামাজিক কাঠামো সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে চলছে। নারী দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রীয় ও বেসরকারিভাবে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক নারী দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য ‘আজকের পদক্ষেপ, আগামীর ন্যায়বিচার, সুরক্ষিত হোক নারী ও কন্যার অধিকার’ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হয়েছে বলে আমি মনে করি।’ নারীর অধিকার, নারীর মর্যাদা নিয়ে শুধু কথা নয়, পদক্ষেপ চাই এখনই, নারীর অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক সাফল্য উদ্যাপনের উদ্দেশ্যে নানা আয়োজনে বিশ্বব্যাপী দিবসটি পালিত হচ্ছে। বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে নারীর অর্থনৈতিক অবস্থান অনেকটাই উন্নত। নারীরা এখন পোশাক শিল্প, আইসিটি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, ব্যাংক থেকে শুরু করে খেলাধুলার ক্ষেত্রেও নারীরা
উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক নারী দিবসের শুরুটা হয় শ্রমিক আন্দোলন থেকে, যা একসময় জাতিসংঘ স্বীকৃত বাৎসরিক দিবস হয়ে উঠে। আর এসব কিছুর শুরুটা হয় ১৯০৮ সালে, যখন এক সাথে প্রায় ১৫ হাজার নারী নিউ ইয়র্কের রাস্তায় নেমে আসে কর্মঘন্টা কমানো, বেতন বৃদ্ধি ও ভোটের অধিকারের দাবিতে। এখন এই দিবসকে আন্তর্জাতিকভাবে পালনের চিন্তাটা মাথায় আসে নারী অধিকার নিয়ে কাজ করা আইনজীবী ও সমাজতান্ত্রিক কর্মী ক্লারা জেটকিনের।
তিনি তার এই চিন্তাটা জানান ১৯১০ সালে কোপেনহেগেনে নারী শ্রমিকদের এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে। সেখানে ১৭টি দেশের ১০০ জন নারী উপস্থিত ছিলেন, এবং তারা সর্বসম্মতিক্রমে তার এই প্রস্তাব মেনে নেন। তবে প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালিত হয় অস্ট্রিয়া, ডেনমার্ক, জার্মানি এবং সুইটজারল্যান্ডে। আর এই দিবসের শতবর্ষ উদযাপিত হয় ২০১১ সালে। এই দিবসের সব কিছু আনুষ্ঠানিক রূপ পায় ১৯৭৫ সালে, যখন জাতিসংঘ এটা উদযাপন করতে শুরু করে। আর প্রথমবার এই দিবসের একটা প্রতিপাদ্য ঠিক হয় ১৯৯৬ সালে। জাতিসংঘ সেবার দিবসটি পালন করে ‘অতীতের উদযাপন, ভবিষ্যত ঘিরে পরিকল্পনা’ এই স্লোগান নিয়ে। প্রতি বছর এখন এই দিবসে উঠে আসে নারীরা সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে কতোটা এগিয়েছে সেই বিষয়টা। একইসঙ্গে লিঙ্গ বৈষম্যের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরিতে রাজনৈতিকভাবে নানা আন্দোলন ও প্রতিবাদের আয়োজন করা হয় এ দিনটি ঘিরে। প্রতি বছর ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস উদযাপন করা হয়।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গুলশানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল, ৫ দিন পর ওসি বদলি

ডুমুরিয়ায় আন্তর্জাতিক নারী দিবস উদযাপন উপলক্ষে আলোচনা সভা ও র‍্যালি অনুষ্ঠিত

Update Time : ০২:১৩:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬

শেখ মাহতাব হোসেন ডুমুরিয়া খুলনা।
৮ মার্চ রবিবার সকাল ১০টায় ডুমুরিয়া উপজেলা প্রশাসন ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর আয়োজনে ‌ডুমুরিয়া উপজেলা কমপ্লেক্স সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন ডুমুরিয়া উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা হাঁসি রাণী রায়, প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজ সাবিতা সরকার, বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ডুমুরিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি অমিত কুমার বিশ্বাস, ওসি তদন্ত আছের আলী,যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা এস এম কামরুজ্জামান, উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মনোরঞ্জন বিশ্বাস, সমাজ সেবা কর্মকর্তা মনোজ কান্তি রায়, আব্দুল কাইয়ুম জমাদার, আই সিটি কর্মকর্তা মোঃ রেজাউল করিম, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ ফহরাদ হোসেন, ডুমুরিয়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শেখ মাহতাব হোসেন, সাংবাদিক শেখ সিরাজুল ইসলাম খান আরিফুজ্জামান নয়ন সহ আরো অনেকে।
৮মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস। দিবসটি সামনে এলেই জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সেই ‘নারী’ কবিতার পঙ্ক্তিটি চলে আছে ‘অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর’। মানবসভ্যতা ও সৃষ্টির বিকাশে নারী ও পুরুষের সমান অবদান ও মর্যাদা অপরিহার্য। নারী-পুরুষ একে অপরের পরিপূরক, কেউ কারো চেয়ে কম নয়। কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশের উন্নয়ন ও আত্মসামাজিক কাঠামো সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে চলছে। নারী দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রীয় ও বেসরকারিভাবে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক নারী দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য ‘আজকের পদক্ষেপ, আগামীর ন্যায়বিচার, সুরক্ষিত হোক নারী ও কন্যার অধিকার’ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হয়েছে বলে আমি মনে করি।’ নারীর অধিকার, নারীর মর্যাদা নিয়ে শুধু কথা নয়, পদক্ষেপ চাই এখনই, নারীর অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক সাফল্য উদ্যাপনের উদ্দেশ্যে নানা আয়োজনে বিশ্বব্যাপী দিবসটি পালিত হচ্ছে। বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে নারীর অর্থনৈতিক অবস্থান অনেকটাই উন্নত। নারীরা এখন পোশাক শিল্প, আইসিটি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, ব্যাংক থেকে শুরু করে খেলাধুলার ক্ষেত্রেও নারীরা
উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক নারী দিবসের শুরুটা হয় শ্রমিক আন্দোলন থেকে, যা একসময় জাতিসংঘ স্বীকৃত বাৎসরিক দিবস হয়ে উঠে। আর এসব কিছুর শুরুটা হয় ১৯০৮ সালে, যখন এক সাথে প্রায় ১৫ হাজার নারী নিউ ইয়র্কের রাস্তায় নেমে আসে কর্মঘন্টা কমানো, বেতন বৃদ্ধি ও ভোটের অধিকারের দাবিতে। এখন এই দিবসকে আন্তর্জাতিকভাবে পালনের চিন্তাটা মাথায় আসে নারী অধিকার নিয়ে কাজ করা আইনজীবী ও সমাজতান্ত্রিক কর্মী ক্লারা জেটকিনের।
তিনি তার এই চিন্তাটা জানান ১৯১০ সালে কোপেনহেগেনে নারী শ্রমিকদের এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে। সেখানে ১৭টি দেশের ১০০ জন নারী উপস্থিত ছিলেন, এবং তারা সর্বসম্মতিক্রমে তার এই প্রস্তাব মেনে নেন। তবে প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালিত হয় অস্ট্রিয়া, ডেনমার্ক, জার্মানি এবং সুইটজারল্যান্ডে। আর এই দিবসের শতবর্ষ উদযাপিত হয় ২০১১ সালে। এই দিবসের সব কিছু আনুষ্ঠানিক রূপ পায় ১৯৭৫ সালে, যখন জাতিসংঘ এটা উদযাপন করতে শুরু করে। আর প্রথমবার এই দিবসের একটা প্রতিপাদ্য ঠিক হয় ১৯৯৬ সালে। জাতিসংঘ সেবার দিবসটি পালন করে ‘অতীতের উদযাপন, ভবিষ্যত ঘিরে পরিকল্পনা’ এই স্লোগান নিয়ে। প্রতি বছর এখন এই দিবসে উঠে আসে নারীরা সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে কতোটা এগিয়েছে সেই বিষয়টা। একইসঙ্গে লিঙ্গ বৈষম্যের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরিতে রাজনৈতিকভাবে নানা আন্দোলন ও প্রতিবাদের আয়োজন করা হয় এ দিনটি ঘিরে। প্রতি বছর ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস উদযাপন করা হয়।