০৭:৩৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ময়মনসিংহে আইনশৃঙ্খলার নতুন অধ্যায়: অভিযোগের অপেক্ষা নয়,প্রো-অ্যাকটিভ উদ্যোগ চায় জনগণ

 

মামুনুর রশীদ মামুন: ডিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন শেষে মোহাম্মদ কামরুল হাসান ময়মনসিংহ জেলার নতুন পুলিশ সুপার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। প্রশাসনিক দক্ষতা,মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা এবং পেশাদার নেতৃত্ব—সব মিলিয়ে এই নিয়োগকে জেলার মানুষ দেখছেন একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সূচনা হিসেবে। ময়মনসিংহে দীর্ঘদিন ধরেই কিছু এলাকায় চাঁদাবাজি,লুটপাট,সন্ত্রাস,চুরি,ছিনতাই এবং মাদক কারবারের অভিযোগ শোনা যায়। তবে ভুক্তভোগীরা নিরাপত্তাহীনতার কারণে লিখিত অভিযোগ করতে সাহস পান না। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী কি কেবল “অভিযোগ পাইনি” বলেই দায়িত্ব শেষ করবে, নাকি প্রো-অ্যাকটিভ উদ্যোগ নেবে—এটাই এখন সময়ের বড় প্রশ্ন। বাংলাদেশের সংবিধান নাগরিকের নিরাপত্তা ও আইনের সমান সুরক্ষার নিশ্চয়তা দিয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী নিজ উদ্যোগে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারে। তাই ভুক্তভোগীরা নীরব থাকলেও রাষ্ট্রও নীরব থাকবে না—এটাই এখন প্রত্যাশা। নতুন পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে ময়মনসিংহবাসী দেখতে চায়: দৃশ্যমান ও নিয়মিত টহল,গোয়েন্দা কার্যক্রমে তৎপরতা বৃদ্ধি,গোপন অভিযোগ গ্রহণের নিরাপদ ব্যবস্থা,অপরাধচক্রের আর্থিক নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়ার উদ্যোগ,প্রভাব ও প্রতিপত্তির ঊর্ধ্বে উঠে নিরপেক্ষ আইন প্রয়োগ।
স্থানীয় প্রশাসন বলছে, “নীরবতা কখনো অপরাধ কমায় না,বরং অপরাধীদের সাহস বাড়ায়। একটি পেশাদার অপরাধ চক্র শুধু কয়েকজন ভুক্তভোগীর ক্ষতি করে না,এটি পুরো জেলার সামাজিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলে।” ময়মনসিংহবাসী আশা করছেন, নতুন নেতৃত্বে পুলিশ প্রশাসন দেখাবে দৃশ্যমান কঠোরতা,স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি। ভয়মুক্ত সমাজ গড়তে রাষ্ট্রের প্রো-অ্যাকটিভ ভূমিকা এখন সময়ের দাবি। আইন সবার জন্য সমান—এই বার্তা প্রতিটি মহল্লা,বাজার ও গ্রামে পৌঁছানো প্রয়োজন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গুলশানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল, ৫ দিন পর ওসি বদলি

ময়মনসিংহে আইনশৃঙ্খলার নতুন অধ্যায়: অভিযোগের অপেক্ষা নয়,প্রো-অ্যাকটিভ উদ্যোগ চায় জনগণ

Update Time : ১০:৪৪:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬

 

মামুনুর রশীদ মামুন: ডিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন শেষে মোহাম্মদ কামরুল হাসান ময়মনসিংহ জেলার নতুন পুলিশ সুপার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। প্রশাসনিক দক্ষতা,মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা এবং পেশাদার নেতৃত্ব—সব মিলিয়ে এই নিয়োগকে জেলার মানুষ দেখছেন একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সূচনা হিসেবে। ময়মনসিংহে দীর্ঘদিন ধরেই কিছু এলাকায় চাঁদাবাজি,লুটপাট,সন্ত্রাস,চুরি,ছিনতাই এবং মাদক কারবারের অভিযোগ শোনা যায়। তবে ভুক্তভোগীরা নিরাপত্তাহীনতার কারণে লিখিত অভিযোগ করতে সাহস পান না। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী কি কেবল “অভিযোগ পাইনি” বলেই দায়িত্ব শেষ করবে, নাকি প্রো-অ্যাকটিভ উদ্যোগ নেবে—এটাই এখন সময়ের বড় প্রশ্ন। বাংলাদেশের সংবিধান নাগরিকের নিরাপত্তা ও আইনের সমান সুরক্ষার নিশ্চয়তা দিয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী নিজ উদ্যোগে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারে। তাই ভুক্তভোগীরা নীরব থাকলেও রাষ্ট্রও নীরব থাকবে না—এটাই এখন প্রত্যাশা। নতুন পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে ময়মনসিংহবাসী দেখতে চায়: দৃশ্যমান ও নিয়মিত টহল,গোয়েন্দা কার্যক্রমে তৎপরতা বৃদ্ধি,গোপন অভিযোগ গ্রহণের নিরাপদ ব্যবস্থা,অপরাধচক্রের আর্থিক নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়ার উদ্যোগ,প্রভাব ও প্রতিপত্তির ঊর্ধ্বে উঠে নিরপেক্ষ আইন প্রয়োগ।
স্থানীয় প্রশাসন বলছে, “নীরবতা কখনো অপরাধ কমায় না,বরং অপরাধীদের সাহস বাড়ায়। একটি পেশাদার অপরাধ চক্র শুধু কয়েকজন ভুক্তভোগীর ক্ষতি করে না,এটি পুরো জেলার সামাজিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলে।” ময়মনসিংহবাসী আশা করছেন, নতুন নেতৃত্বে পুলিশ প্রশাসন দেখাবে দৃশ্যমান কঠোরতা,স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি। ভয়মুক্ত সমাজ গড়তে রাষ্ট্রের প্রো-অ্যাকটিভ ভূমিকা এখন সময়ের দাবি। আইন সবার জন্য সমান—এই বার্তা প্রতিটি মহল্লা,বাজার ও গ্রামে পৌঁছানো প্রয়োজন।