
অথই নূরুল আমিন
আমি মনে জাতির বৃহৎ স্বার্থে রাষ্ট্রের সর্বাধিক নির্বাহী ক্ষমতার অধিকারী মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা নিয়োগ দেয়া হোক পত্র পত্রিকায় নিয়োগ আহবান করে। যেহেতু রাষ্ট্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদের জন্য এই নিয়োগ। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা পদের জন্য, এখানে যত বড় যোগ্য লোক অধিষ্ঠিত হবেন। ততই মঙ্গল গোটা জাতির জন্য তথা প্রধানমন্ত্রীর জন্যও ভালো।
আজকের এই লেখার মাধ্যমে, বাংলাদেশের সকল নাগরিকদের প্রতি সালাম, শুভেচ্ছাও অভিনন্দন জানিয়ে আজকের লেখাটি শুরু করছি। তার সাথে বাংলাদেশের বতর্মান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানকে ও জানাই একরাশ শুভেচ্ছা। তার সাথে বতর্মান গণ প্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি আজকের এই লেখায় । প্রিয় পাঠক – পাঠিকা এবং দেশবাসী, আশাকরি সকলেই মোটামুটি ভালো আছেন।
মোটামুটি বলার মুল কারণ হলো। আসলেই আমরা কেউই প্রকৃতপক্ষে ভালো নই। তার মুল কারণ হলো ভুলভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা করা হচ্ছে চুয়ান্ন বছর ধরে। তাই আমরা যেমন বঞ্চিত ভালো শিক্ষা থেকে, তেমনি বঞ্চিত স্বাস্থ্য সেবা থেকে। তেমনি দেশের সিংহভাগ জনগণ দুর্নীতির সাথে জড়িত। তাই প্রতিদিন দেশে সিন্ডিকেটের ভয়াবহ থাবা। আইনশৃঙ্খলায় চরম অবনতি। অর্থহীন বা দুর্বল লোকগুলো আর কোথাও তার পাপ্ত বিচার টুকু পায় না। এখানে প্রতিদিন প্রতিটা নাগরিক আমরা যেমন আছি অনেকেই আছি অর্থহীন। আবার অনেকেই ভুগছি নিরাপত্তাহীনতায়। এখানে অসতেরা সঙ্গবদ্ধ। আর সতেরা সবাই নিরুপায়।
প্রিয় আমার বন্ধুরা ও দেশবাসী, অনেকেই অবগত আছেন। আমি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে, সরকারের সফলতা এবং সরকারের ভুলগুলো নিয়ে জাতির বৃহৎ স্বার্থ রক্ষা নিয়ে লেখালেখি করে আসছি। আমার বেশকিছু বইও প্রকাশিত হয়েছে। যদি কেউ আমার লেখা বই পড়তে চান। ঠিকানা দিন। সৌজন্য বই উপহার হিসাবে পাঠিয়ে দেব।
আজকের এই লেখা শেষ করার পর, আর হয়তো তেমন লেখালেখি করা নাও হতে পারে ভবিষ্যতে । তাই আমার ভুলভ্রান্তি গুলো সবাই নিজ গুণে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন বলে আমি আশাবাদী।
আজকের লেখাটি সবচাইতে কঠিন এবং সবচাইতে কর্কষ ভাষায় লেখা একটি আলোচনা সমালোচনা প্রবন্ধ নিবন্ধ যে যাই বলুন । আজকের লেখাটি মূলত প্রধানমন্ত্রীদের অযোগ্য উপদেষ্টা গুলো নিয়েই বেশিরভাগ লেখা। আমার প্রথম প্রশ্ন হলো, প্রধানমন্ত্রীর মুখ চেনা বা ডেকে নিয়ে উপদেষ্টা বানানো, উপদেষ্টারা একজন প্রধানমন্ত্রীর কি আদৌ কোন কাজে আসে ? নাকি এগুলো শুধুমাত্র ফরমালিটি অনুযায়ী খালি ঘর পূরণ করা হয়ে থাকে? নাকি ভিতরে ভিতরে অন্য কিছু?
রাষ্ট্রের একজন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা প্রধানমন্ত্রী নিজেই উনার টেবিলে বসেই কিছু চেনা মুখের নাম ঘোষণা করে থাকেন। এই সব উপদেষ্টাগণ একজন প্রধানমন্ত্রীর ব্যর্থতা অবশেষে কাঁধে নেন না। এমনকি দেশের অসংখ্য অসংগতি কাজেও তেমন পাওয়া যায় না। তাহলে উচ্চ মূল্যের বেতন ভাতায় এই উপদেষ্টা নিয়োগ দেয়ার মানেটা কি হতে পারে। যা আমি অবগত নই।
একজন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা যদি প্রধানমন্ত্রীর সামনে বসে সকল কাজে ভালো মন্ধ বিচার না করে, হ্যাঁ হ্যাঁ করতে থাকেন। তাহলে এখানে তো গলদ থাকতেই পারে। একজন বা একাধিক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা যদি তার নিয়োগ বাতিলের ভয়ে জী হুজুর জী হুজুর করে সময় পার করতে থাকে। আর এদিকে সরকারের ব্যর্থতার জন্য সরকারকে জনগণ দায়ী করতে করতে একসময় আন্দোলন চাঙ্গা হয়। আর তখনই সকল দোষের দোষী একমাত্র প্রধানমন্ত্রী হোন। তখনই মার্শাল ল জারি হতে পারে। প্রধানমন্ত্রীকে দেশ ছেড়ে বিদেশে যেতে হতে পারে বা জেল জরিমানা ও হতে পারে। এখানে জনগণ কিন্তু আর কোনো উপদেষ্টাকে দায়ী করতে দেখিনি। তার বড় কারণ হলো ঐ সকল উপদেষ্টাগণ ও ছিলেন তার দলেরই লোক তাই। এদিকে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা যদি পত্রিকায় নিয়োগ আহবান করে সর্বাধিক ইন্টারভিউর মাধ্যমে যথেষ্ট যোগ্য ব্যক্তি নিয়োগ দিতেন। তাহলে অনেক জনগণ একবার হলেও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাদের কে দায়ী করতে পারতেন। অন্য দিকে নিয়োগ প্রাপ্ত উপদেষ্টাগণও জনগণের জন্য কিছু না কিছু ভাবতেন।
নিজেদের টেবিলে বসে কিছু চেনামুখ কিছু লোককে প্রধানমন্ত্রী নিজেই প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা নিয়োগ দিয়ে থাকেন। আসলে যে তারা একজন প্রধানমন্ত্রীর যোগ্য উপদেষ্টা, এরকম নিশ্চিত একজন প্রধানমন্ত্রী কিভাবে হোন। এটাই আমার প্রশ্ন? আমি মনে করি প্রধানমন্ত্রীর
বানানো মনগড়া বা চেনামুখ উপদেষ্টাগণ কোনো কাজেই আসেন না কোনদিন । অতিত ইতিহাস থেকেই বলছি। আর সেই অতিত ইতিহাস থেকে কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা নিয়োগে জনাব তারেক রহমান কোন শিক্ষা নেননি বলেই আমার বিশ্বাস। আমি তাদের মেধা বা জ্ঞান নিয়ে খুবই চিন্তিত, বিশেষ করে একজন প্রধানমন্ত্রীর পরিচিত বা চেনা মুখগুলোকে যখন উপদেষ্টা করা হয়।
সেদিন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আমলে উনার গেজেট কৃত, কয়েকজন উপদেষ্টা ছিলেন। তার মধ্যে চারজন উপদেষ্টা ছিলেন অন্যতম। নাম প্রকাশ না শর্তে বলতে চাই, ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত। সেই চারজন উপদেষ্টা কিন্তু রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে বিন্দুমাত্র সু পরামর্শ দিতে পারেননি সেদিনের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে ! এমনকি সেদিন ওয়ান ইলেভেন ফেরাতেও পারেননি এবং ঠেকাতে ও পারেননি। শুনেছি চরম বিপদের আভাস পেয়ে, তারা আগেই পালিয়ে চলে গিয়েছিলেন ভারতসহ বিভিন্ন দেশে। কয়েকজন গিয়েছিলেন, দুইদিন পর।
এই দিকে আরেক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনার আমলে ও গেজেট করা সাতজন উপদেষ্টা ছিলেন। বিভিন্ন বিষয়ের উপর। সেই সাতজন উপদেষ্টা মিলেও ২০২৪ এর জুলাই আন্দোলন ঠেকাতে পারেননি। এমনকি কোটা সংস্কার নিয়ে একটি ভালো পরামর্শ পর্যন্ত দিতে পারেননি। জুলাই আন্দোলন নিয়ে তারা তাদের জায়গা থেকে কোনরকম বক্তব্য পর্যন্ত দিতে ব্যর্থ ছিলেন। সেই উপদেষ্টাগণহ শেখ হাসিনার পালিয়ে যাওয়া ঠেকাতে পারেননি। আন্দোলন কারীদের সাথে কোনো আলোচনাও করতে আসেননি।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সেই সাতজন গেজেট করা সাবেক উপদেষ্টারা, গত আঠারো মাস ধরে কোথায় কার বাল ছিড়ছেন। তাও এই দেশের জনগণের এখনও অজানা। এখানে লক্ষ্য করে দেখা যায়। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হয়ে থাকেন, বিশেষ করে দেশের বড় মাপের শিল্পপতি নতুবা বিদেশ থেকে বড় ডিগ্রীধারী নতুবা দেশের বড় মাপের সাংবাদিক কুটনৈতিক ইত্যাদি ইত্যাদি। আসলে একজন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হওয়া সত্যি খুবই যোগ্যতা লাগে। এখন কথা থাকে যে, আগে থেকেই যাকে মেকাপ করে যোগ্যতা সম্পন্ন করে রেখেছেন। তাকে উপদেষ্টা বানালে তো ভালোর চেয়ে খারাপই বেশি হবে তাই না?
বতর্মান প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের দশজন উপদেষ্টার নাম গেজেট হয়েছে মর্মে জানতে পারি। এই মুখ চেনা দশজন উপদেষ্টা কতটুকু পারবেন একজন প্রধানমন্ত্রীকে সু পরামর্শ দিতে? নেলসন ম্যান্ডেলা বা মাহাথীর মোহাম্মদ এর মত সারা বিশ্ব জুড়ে সুনাম ও খ্যাতি অর্জন করার মত যথেষ্ট প্ল্যান কি এই চেনা জানা দশজন উপদেষ্টার মধ্যে আছে? বিভিন্ন বিপদে আপদে সঠিক নির্দেশনা দিতে বা রক্ষা করার মত সক্ষমতা কি তাদের মধ্যে আছে ? নাকি কোনো বিপদ দেখলে প্রধানমন্ত্রীকে একা ফেলেই আগের দিন বিদেশে পাড়ি জমাবেন সবাই।
যাক তারপরও বতর্মান প্রধানমন্ত্রীর জীবনযাপন সুন্দর চলুক। দেশের আঠারো কোটি মানুষের জীবনমান উন্নত হোক। দেশে বিদেশে বাংলাদেশের সুনাম ছড়িয়ে পড়ুক। সেই কামনা করে আজকের লেখাটি এখানেই সমাপ্তি করছি।
প্রতিনিধির নাম 



















