১০:৩২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চুয়াডাঙ্গায় হারানো ২৮টি মোবাইল ও প্রতারণার ১.১৯ লক্ষ টাকা উদ্ধার: ভুক্তভোগীদের মুখে হাসি


মোঃ নাঈম উদ্দীন
বিশেষ প্রতিনিধি, চুয়াডাঙ্গা।

​আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ও পুলিশের নিরলস প্রচেষ্টায় চুয়াডাঙ্গা জেলায় সাইবার অপরাধ দমনে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে।

চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেলের দক্ষতায় উদ্ধার করা হয়েছে বিভিন্ন সময়ে হারিয়ে যাওয়া ২৮টি স্মার্টফোন এবং মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (MFS) মাধ্যমে প্রতারণা করে হাতিয়ে নেওয়া ১ লক্ষ ১৯ হাজার টাকা।

​আজ সোমবার (৯ মার্চ) বেলা ১২:০০ ঘটিকায় চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপারের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে উদ্ধারকৃত এসব মালামাল ও অর্থ প্রকৃত মালিকদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

​চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের আয়োজনে এই হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গার সুযোগ্য পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম।

তিনি ব্যক্তিগতভাবে ভুক্তভোগীদের হাতে তাদের প্রিয় মোবাইল ফোন এবং খোয়া যাওয়া টাকা বুঝিয়ে দেন।

​সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল তাদের সাম্প্রতিক অভিযানে নিম্নলিখিত সাফল্য অর্জন করে:

​স্মার্টফোন: বিভিন্ন নামী ব্র্যান্ডের মোট ২৮টি হ্যান্ডসেট।

​নগদ অর্থ: বিকাশ, নগদ ও রকেট প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া মোট ১,১৯,০০০/- (এক লক্ষ উনিশ হাজার) টাকা।

​অনুষ্ঠানে পুলিশ সুপার মহোদয় জানান যে, সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে এই উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেছে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ পাওয়ার পর ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট বিশ্লেষণ এবং তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় অপরাধীদের শনাক্ত করা এবং খোয়া যাওয়া সম্পদ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

​”পুলিশের প্রতি জনগণের আস্থা বৃদ্ধি করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। আপনার হারানো সম্পদ ফিরিয়ে দিতে পেরে আমরা আনন্দিত।” — পুলিশ সুপার, চুয়াডাঙ্গা।

​বক্তব্য প্রদানকালে পুলিশ সুপার বর্তমান সময়ে সাইবার অপরাধের ভয়াবহতা তুলে ধরেন। তিনি সাধারণ মানুষকে সচেতন করার উদ্দেশ্যে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ প্রদান করেন:

​গোপনীয়তা রক্ষা: মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (বিকাশ, নগদ ইত্যাদি) পিন বা ওটিপি (OTP) কারো সাথে শেয়ার না করা।

​দ্রুত পদক্ষেপ: মোবাইল ফোন হারিয়ে গেলে বা আর্থিক প্রতারণার শিকার হলে কালক্ষেপণ না করে নিকটস্থ থানায় সাধারণ ডায়েরি (GD) করা।

​সতর্কতা: অপরিচিত নম্বর থেকে আসা প্রলোভন বা লটারি জেতার ফাঁদে পা না দেওয়া।
​উপস্থিত কর্মকর্তাবৃন্দ

​অনুষ্ঠানে জেলা পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন, যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
মোঃ মিনহাজ-উল-ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ)। ​জামাল আল নাসের, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্)। ​মশিয়ার রহমান, অফিসার ইনচার্জ (ডিবি)। ​মোহাম্মদ সামসুদ্দোহা, ইনচার্জ, সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল। ​এছাড়াও সাইবার সেলের অন্যান্য সদস্যবৃন্দ এবং গণমাধ্যমকর্মীরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

​দীর্ঘদিন পর হারানো মোবাইল এবং প্রতারিত অর্থ ফেরত পেয়ে ভুক্তভোগীদের চোখে-মুখে আনন্দের ঝিলিক দেখা যায়। তারা চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের এই আন্তরিক প্রচেষ্টা এবং সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেলের পেশাদারিত্বের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। পুলিশের এই উদ্যোগ সাধারণ মানুষের মাঝে আস্থার জায়গা আরও সুদৃঢ় করেছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গুলশানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল, ৫ দিন পর ওসি বদলি

চুয়াডাঙ্গায় হারানো ২৮টি মোবাইল ও প্রতারণার ১.১৯ লক্ষ টাকা উদ্ধার: ভুক্তভোগীদের মুখে হাসি

Update Time : ১২:৫২:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬


মোঃ নাঈম উদ্দীন
বিশেষ প্রতিনিধি, চুয়াডাঙ্গা।

​আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ও পুলিশের নিরলস প্রচেষ্টায় চুয়াডাঙ্গা জেলায় সাইবার অপরাধ দমনে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে।

চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেলের দক্ষতায় উদ্ধার করা হয়েছে বিভিন্ন সময়ে হারিয়ে যাওয়া ২৮টি স্মার্টফোন এবং মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (MFS) মাধ্যমে প্রতারণা করে হাতিয়ে নেওয়া ১ লক্ষ ১৯ হাজার টাকা।

​আজ সোমবার (৯ মার্চ) বেলা ১২:০০ ঘটিকায় চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপারের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে উদ্ধারকৃত এসব মালামাল ও অর্থ প্রকৃত মালিকদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

​চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের আয়োজনে এই হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গার সুযোগ্য পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম।

তিনি ব্যক্তিগতভাবে ভুক্তভোগীদের হাতে তাদের প্রিয় মোবাইল ফোন এবং খোয়া যাওয়া টাকা বুঝিয়ে দেন।

​সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল তাদের সাম্প্রতিক অভিযানে নিম্নলিখিত সাফল্য অর্জন করে:

​স্মার্টফোন: বিভিন্ন নামী ব্র্যান্ডের মোট ২৮টি হ্যান্ডসেট।

​নগদ অর্থ: বিকাশ, নগদ ও রকেট প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া মোট ১,১৯,০০০/- (এক লক্ষ উনিশ হাজার) টাকা।

​অনুষ্ঠানে পুলিশ সুপার মহোদয় জানান যে, সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে এই উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেছে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ পাওয়ার পর ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট বিশ্লেষণ এবং তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় অপরাধীদের শনাক্ত করা এবং খোয়া যাওয়া সম্পদ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

​”পুলিশের প্রতি জনগণের আস্থা বৃদ্ধি করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। আপনার হারানো সম্পদ ফিরিয়ে দিতে পেরে আমরা আনন্দিত।” — পুলিশ সুপার, চুয়াডাঙ্গা।

​বক্তব্য প্রদানকালে পুলিশ সুপার বর্তমান সময়ে সাইবার অপরাধের ভয়াবহতা তুলে ধরেন। তিনি সাধারণ মানুষকে সচেতন করার উদ্দেশ্যে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ প্রদান করেন:

​গোপনীয়তা রক্ষা: মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (বিকাশ, নগদ ইত্যাদি) পিন বা ওটিপি (OTP) কারো সাথে শেয়ার না করা।

​দ্রুত পদক্ষেপ: মোবাইল ফোন হারিয়ে গেলে বা আর্থিক প্রতারণার শিকার হলে কালক্ষেপণ না করে নিকটস্থ থানায় সাধারণ ডায়েরি (GD) করা।

​সতর্কতা: অপরিচিত নম্বর থেকে আসা প্রলোভন বা লটারি জেতার ফাঁদে পা না দেওয়া।
​উপস্থিত কর্মকর্তাবৃন্দ

​অনুষ্ঠানে জেলা পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন, যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
মোঃ মিনহাজ-উল-ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ)। ​জামাল আল নাসের, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্)। ​মশিয়ার রহমান, অফিসার ইনচার্জ (ডিবি)। ​মোহাম্মদ সামসুদ্দোহা, ইনচার্জ, সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল। ​এছাড়াও সাইবার সেলের অন্যান্য সদস্যবৃন্দ এবং গণমাধ্যমকর্মীরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

​দীর্ঘদিন পর হারানো মোবাইল এবং প্রতারিত অর্থ ফেরত পেয়ে ভুক্তভোগীদের চোখে-মুখে আনন্দের ঝিলিক দেখা যায়। তারা চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের এই আন্তরিক প্রচেষ্টা এবং সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেলের পেশাদারিত্বের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। পুলিশের এই উদ্যোগ সাধারণ মানুষের মাঝে আস্থার জায়গা আরও সুদৃঢ় করেছে।