
মাসুদ রায়হান যশোর জেলা প্রতিনিধিঃ।
‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট সবার’—সম্প্রীতি, শান্তি ও মানবিকতার বার্তা নিয়ে যশোরের মণিরামপুরে ব্যাপক ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের শুভ জন্মাষ্টমী-২০২৬ উদযাপিত হয়েছে।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) মণিরামপুর পৌরশহরসহ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের মন্দিরে পূজা-অর্চনা, গীতাযজ্ঞ, বিশেষ প্রার্থনা ও পুষ্পাঞ্জলির আয়োজন করা হয়। সনাতন ধর্মাবলম্বীরা সকাল থেকে উপবাস থেকে মন্দিরে মন্দিরে শ্রীকৃষ্ণের চরণে পুষ্পাঞ্জলি অর্পণ করেন। পাশাপাশি দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অটুট রাখার জন্য বিশেষ প্রার্থনা করা হয়।
এ উপলক্ষে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের মণিরামপুর উপজেলা ও পৌর শাখার উদ্যোগে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন যশোর-৫ (মণিরামপুর) আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য অ্যাডঃ গাজী এনামুল হক। প্রধান আলোচক ছিলেন যশোর জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি দীপংকর দাস রতন। সভায় আরও বক্তব্য দেন জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক তপন কুমার ঘোষ, মণিরামপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র অ্যাডঃ শহীদ মো. ইকবাল হোসেন, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অধ্যাপক ফজলুল হক, রামকৃষ্ণ আশ্রমের সভাপতি তপন ভট্টাচার্য্যসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জীবন ও দর্শনের অন্যতম শিক্ষা হলো অন্যায়-অশুভের বিরুদ্ধে ন্যায় ও সত্যের প্রতিষ্ঠা। তাঁর আদর্শ মানুষকে হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে ভালোবাসা, মানবতা ও ন্যায়ের পথে চলার শিক্ষা দেয়। বাংলাদেশে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার যে ঐতিহ্য রয়েছে, তা আরও সুদৃঢ় করতে সবাইকে নিজ নিজ ধর্মের পাশাপাশি অন্যের ধর্ম ও বিশ্বাসের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের আহ্বান জানান তাঁরা।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি তুলসী দাস বসু, সাধারণ সম্পাদক তরুণ কুমার শীল, কেন্দ্রীয় দেলখোলা পূজা মন্দিরের সভাপতি গৌর কুমার ঘোষ, পৌর পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি সমীর হালদার, সাধারণ সম্পাদক পলাশ ঘোষ এবং জন্মাষ্টমী উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব গোবিন্দ ঘোষসহ বিভিন্ন মন্দির ও পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জন্মাষ্টমী উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক অরুণ পালিত।৷ মনিরামপুর মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যাপক শংকর প্রসাদ দত্ত বলেন,
জন্মাষ্টমী উপলক্ষে উৎসব নির্বিঘ্ন ও শান্তিপূর্ণ করতে মণিরামপুর থানা পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্দির এবং শোভাযাত্রার রুটে বিশেষ নিরাপত্তা ও নজরদারির ব্যবস্থা করা হয়। ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি উৎসবজুড়ে ছিল পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির আবহ।
প্রতিনিধির নাম 



















