
নিজস্ব প্রতিবেদক
সরকারি নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে যশোর সদর উপজেলার নারাঙ্গালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্লাস রুমে চলছে সহকারী শিক্ষক মোঃ শরিফুল ইসলামের কোচিং বাণিজ্যের বাজিমাত শিক্ষার্থী প্রতি নেওয়া হচ্ছে ৫০০/ টাকা উপজেলা শিক্ষা অফিসার এবং সহকারী শিক্ষা অফিসারের নীরবতা পালন।
সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে তিনি নিয়মিত টাকার বিনিময়ে শিক্ষার্থীদের কোচিং করানোর অভিযোগ উঠেছে সহকারী শিক্ষক শরিফুলের বিরুদ্ধে।
প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে সকাল ৮:০০টা পর্যন্ত বিদ্যালয়ের পুরাতন ভবনে দীর্ঘদিন ধরে চালিয়ে যাচ্ছে কোচিং কার্যক্রম।
এতে তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণীর প্রায় ৪০ থেকে ৫০ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। নিয়ম বহির্ভূতভাবে এই কোচিংয়ের জন্য প্রতি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে কোচিং ফি বাবদ ৫০০ টাকা নেওয়ার তথ্য রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, যেখানে সরকার বিদ্যালয়ে বা শিক্ষকদের দ্বারা কোচিং বাণিজ্য বন্ধের কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে, সেখানে এ বিদ্যালয়ে সরকারি আদেশকে রীতিমতো বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানো হচ্ছে।
পুরাতন ভবনে নিয়মিত পাঠদান চলার পাশাপাশি এই বাণিজ্যিক কোচিং চালানোয় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকার সচেতন মহল।
শিক্ষাবিদ ও স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের এমন কোচিং বাণিজ্যি মনোবৃত্তির কারণে স্বাভাবিক লেখাপড়ার মান চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
দ্রুত এই অসাধু চর্চা রহিত করা না গেলে প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মানে ধস নামবে বলে তারা আশঙ্কা করছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক শরিফুল ইসলাম নিজের সাফাই গেয়ে বলেন, আমি কি একা পড়াচ্ছি? বিভিন্ন স্কুলেও তো শিক্ষকরা কোচিং ও প্রাইভেট পড়াচ্ছেন।
আমি স্কুলের মূল ভবনের ভেতরে তো কোচিং করাচ্ছি না।
তবে কোচিংয়ে পড়ানো যাবে না—এমন কোনো নিয়ম আমার জানা নেই।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা আসমা সুলতানা কোচিংয়ের বিষয়টি অন্যায় স্বীকার করলেও দায় এড়ানোর সুরে বলেন, “স্কুলে কোচিং ক্লাস করানো ঠিক নয়।
তবে জিলা স্কুল ও মমিন গার্লস স্কুলের শিক্ষকরাও তো পড়াচ্ছেন তাদের স্কুলে তো আপনাদের যেতে দেখা যায় না।
কোচিংয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে সদর উপজেলার শিক্ষা অফিসার সোহেল রানা বলেন স্কুল কম্পাউন্ডের ভেতরে এবং নির্ধারিত স্কুল সময়ে কোনোভাবেই কোনো ধরনের কোচিং করানো যাবে না।
তবে স্কুল সময়ের পর কোনো শিক্ষক ব্যক্তিগতভাবে বাইরে কী করবেন
তা তাদের নিজস্ব বিষয়।
নিয়ম ভেঙে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভিতরে এভাবে প্রকাশ্যে কোচিং বাণিজ্যের রমরমা ব্যবসা চালিয়ে যায় তাহলে শিক্ষার মান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি অনতিবিলম্বে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ ও কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন অভিভাবকরা।
প্রতিনিধির নাম 



















