১০:২৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তাহিরপুরে বিদ্যালয়, মাদ্রাসা ও কবরস্থানের আশপাশে অবৈধ বালু উত্তোলন: আতঙ্কে শিক্ষার্থী ও অভিভাবক, এসি ল্যান্ড বরাবর অভিযোগ

আমির হোসাইন
‎স্টাফ রিপোর্টার
‎সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার বড়দল উত্তর ইউনিয়নের শিমুলতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সূর্য্যেরটেক কবরস্থান এবং শিমুলতলা মাদ্রাসা সংলগ্ন এলাকা থেকে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু কোয়ারী করে তা বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় গ্রামবাসীর অভিযোগ, ওই গ্রামের মৃত আক্রম আলী কমান্ডারের ছেলে মোঃ হাবিবুর রহমান (৫০) প্রতিনিয়ত কোনো রকম নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে এসব স্পর্শকাতর এলাকার আশপাশ থেকে বালু উত্তোলন করে আসছেন।
‎স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শিমুলতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসা ও সূর্য্যেরটেক কবরস্থানের অতি নিকটে মাটি ও বালু খুড়ে বড় বড় গর্ত তৈরি করা হয়েছে। পরবর্তীতে অবৈধভাবে উত্তোলিত এসব বালু ট্রলি ও নৌকাযোগে বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করা হচ্ছে। বালু উত্তোলনের ফলে সৃষ্ট এসব গভীর গর্তে বর্ষার পানি জমে থাকায় বিদ্যালয় ও মাদ্রাসায় আসা-যাওয়ার পথে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা চরম হুমকির মুখে পড়েছে। যেকোনো মুহূর্তে গর্তে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা বা প্রাণহানির আশঙ্কা করছেন উদ্বিগ্ন অভিভাবক ও শিক্ষকরা।
‎এ ছাড়া কবরস্থান সংলগ্ন স্থান থেকে প্রতিনিয়ত বালু তোলায় বর্ষাকালে সেখানে ভয়াবহ ভূমিধসের ঝুঁকি দেখা দিয়েছে। এর ফলে ভবিষ্যতে সেখানে স্বাভাবিকভাবে লাশ দাফন কার্যক্রম বিঘ্নিত হতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।
‎অভিযোগ রয়েছে, এসব স্থান থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে বড়দল উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ হাবিবুর রহমানকে একাধিকবার নিষেধ ও স সতর্ক করেছেন। তবে তিনি কারো কথা না শুনে নিজের মতো করে বালু উত্তোলন অব্যাহত রেখেছেন।
‎অবশেষে স্পর্শকাতর এসব প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা রক্ষা ও বালু উত্তোলন স্থায়ীভাবে বন্ধে পদক্ষেপ নিতে তাহিরপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর গত ২৭ জুলাই ২০২৬ তারিখে গ্রামবাসীর পক্ষে এক লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ওই গ্রামের নুর ইসলামের ছেলে আনোয়ার হোসেন।
‎এ বিষয়ে এলাকাবাসী অনতিবিলম্বে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তপূর্বক অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বালু উত্তোলন বন্ধে প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

‎এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত হাবিবুর রহমান বলেন, বালু তুলতেছি এইডা সত্য। তবে আমার জায়গা থেকেই আমি বালু তুলে বিক্রি করছি। এটা আমার রেকর্ড হইয়া জায়গা। যে অভিযোগ করেছে হে একটা পাগল।

‎এ বিষয়ে জানতে তাহিরপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি শারুখ আলম শান্তনু বলেন, অভিযোগ আমি পাইনি। আজ আপনার মাধ্যমে জেনেছি। এখনি তহশিলদারকে ফরওয়ার্ড করেছি। এ বিষয়ে দ্রুততার সাথে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার জন্য নির্দেশ দাওয়া হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গুলশানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল, ৫ দিন পর ওসি বদলি

তাহিরপুরে বিদ্যালয়, মাদ্রাসা ও কবরস্থানের আশপাশে অবৈধ বালু উত্তোলন: আতঙ্কে শিক্ষার্থী ও অভিভাবক, এসি ল্যান্ড বরাবর অভিযোগ

Update Time : ০১:৩০:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬

আমির হোসাইন
‎স্টাফ রিপোর্টার
‎সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার বড়দল উত্তর ইউনিয়নের শিমুলতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সূর্য্যেরটেক কবরস্থান এবং শিমুলতলা মাদ্রাসা সংলগ্ন এলাকা থেকে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু কোয়ারী করে তা বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় গ্রামবাসীর অভিযোগ, ওই গ্রামের মৃত আক্রম আলী কমান্ডারের ছেলে মোঃ হাবিবুর রহমান (৫০) প্রতিনিয়ত কোনো রকম নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে এসব স্পর্শকাতর এলাকার আশপাশ থেকে বালু উত্তোলন করে আসছেন।
‎স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শিমুলতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসা ও সূর্য্যেরটেক কবরস্থানের অতি নিকটে মাটি ও বালু খুড়ে বড় বড় গর্ত তৈরি করা হয়েছে। পরবর্তীতে অবৈধভাবে উত্তোলিত এসব বালু ট্রলি ও নৌকাযোগে বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করা হচ্ছে। বালু উত্তোলনের ফলে সৃষ্ট এসব গভীর গর্তে বর্ষার পানি জমে থাকায় বিদ্যালয় ও মাদ্রাসায় আসা-যাওয়ার পথে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা চরম হুমকির মুখে পড়েছে। যেকোনো মুহূর্তে গর্তে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা বা প্রাণহানির আশঙ্কা করছেন উদ্বিগ্ন অভিভাবক ও শিক্ষকরা।
‎এ ছাড়া কবরস্থান সংলগ্ন স্থান থেকে প্রতিনিয়ত বালু তোলায় বর্ষাকালে সেখানে ভয়াবহ ভূমিধসের ঝুঁকি দেখা দিয়েছে। এর ফলে ভবিষ্যতে সেখানে স্বাভাবিকভাবে লাশ দাফন কার্যক্রম বিঘ্নিত হতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।
‎অভিযোগ রয়েছে, এসব স্থান থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে বড়দল উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ হাবিবুর রহমানকে একাধিকবার নিষেধ ও স সতর্ক করেছেন। তবে তিনি কারো কথা না শুনে নিজের মতো করে বালু উত্তোলন অব্যাহত রেখেছেন।
‎অবশেষে স্পর্শকাতর এসব প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা রক্ষা ও বালু উত্তোলন স্থায়ীভাবে বন্ধে পদক্ষেপ নিতে তাহিরপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর গত ২৭ জুলাই ২০২৬ তারিখে গ্রামবাসীর পক্ষে এক লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ওই গ্রামের নুর ইসলামের ছেলে আনোয়ার হোসেন।
‎এ বিষয়ে এলাকাবাসী অনতিবিলম্বে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তপূর্বক অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বালু উত্তোলন বন্ধে প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

‎এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত হাবিবুর রহমান বলেন, বালু তুলতেছি এইডা সত্য। তবে আমার জায়গা থেকেই আমি বালু তুলে বিক্রি করছি। এটা আমার রেকর্ড হইয়া জায়গা। যে অভিযোগ করেছে হে একটা পাগল।

‎এ বিষয়ে জানতে তাহিরপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি শারুখ আলম শান্তনু বলেন, অভিযোগ আমি পাইনি। আজ আপনার মাধ্যমে জেনেছি। এখনি তহশিলদারকে ফরওয়ার্ড করেছি। এ বিষয়ে দ্রুততার সাথে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার জন্য নির্দেশ দাওয়া হয়েছে।