০৮:৩৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যশোর সদর উপজেলার ইছালী ইউনিয়ন পরিষদে বিদ্যুৎ সংকটের মধ্যেও দায়িত্বহীনতার চিত্র দিনের পর দিন জ্বলছে হ্যালোজেন বাতি

নিজস্ব প্রতিবেদক

সারাদেশে যখন চলমান বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় সরকার আলোকসজ্জা বর্জন, বিদ্যুৎ অপচয় রোধে কঠোর নির্দেশনা ও সরকারি দপ্তরের কর্মঘণ্টা কমানোর মতো নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, ঠিক সে মুহূর্তে প্রশাসনিক চরম দায়িত্বহীনতা ও অবহেলার চিত্র দেখা গেছে যশোরের ৩ নং ইছালী ইউনিয়ন পরিষদে।

পরিষদ প্রাঙ্গণে টানা কয়েক দিন ধরে অহেতুক জ্বলছে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন হ্যালোজেন বাতি।

​স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী সপ্তাহের পর সপ্তাহ ধরে অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ এই ইউনিয়ন পরিষদটি।

প্রতি বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পরিষদের নিরাপত্তা বাতি জ্বালিয়ে রেখে চলে যায়, টানা শুক্রবার এবং শনিবার পার হয়ে রবিবার সকালে বাতি বন্ধ করা হয়।

দিনের আলোতেও অবলীলায় বাতি জ্বলতে দেখা গেলেও তা বন্ধ করার মতো কেউ নেই ইছালী ইউনিয়ন পরিষদে।

​শুধু বিদ্যুৎ অপচয়ই নয়, পরিষদের সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তায় দেখা গেছে চরম বিশৃঙ্খলা।

প্রশাসনিক নিয়ম অনুযায়ী ইউনিয়ন পরিষদের চাবিসমূহ সার্বক্ষণিক ইউনিয়ন পরিষদ সচিব মিজানুর রহমানের দায়িত্ব ও হেফাজতে থাকার কথা থাকলেও, এখানে সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে তা রাখা হচ্ছে এক স্থানীয় দোকানদার মাহাবুবের কাছে।

​এ বিষয়ে ইছালী ১ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আনিচুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তারা প্রতি বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় লাইট জ্বালিয়ে চলে যান।

টানা দুই দিন ও দুই রাত আলো জ্বলার পর রবিবার সকালে বাতি বন্ধ করা হয়।

সরকারি সম্পদ ও বিদ্যুতের এমন অপচয় চরম দায়িত্বহীনতা।

​পরিষদের চাবি ব্যবস্থাপনার বিষয়ে জানতে চাইলে ১ নং ওয়ার্ড মেম্বার মারুফ হোসেন স্বীকার করেন, ইউনিয়ন পরিষদের চাবি তাঁর জিম্মায় ছিল এবং তা এক দোকানদারের কাছে রাখা হয়েছে। তিনি জানান, মাহাবুবের দোকানে ইউনিয়ন পরিষদের চাবি জমা রাখা থাকে।

​অনুরূপ বক্তব্য দেন দোকানদার মাহাবুব হোসেন। তিনি বলেন, মারুফ মেম্বার নিজেই আমার কাছে ইউনিয়ন পরিষদের চাবি রেখে গেছেন।

​পরিষদের নিরাপত্তা এবং সরকারি সম্পদের এমন অপচয়ের বিষয়ে প্রশাসনিক তদারকির তীব্র অভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে।

পরিষদে নিয়োজিত দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) উদাসীনতা ও নজরদারির অভাবেই সরকারি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান এভাবে অবহেলা ও নিয়মনীতিহীনভাবে চলছে বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

ইছালী ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মিজানুর রহমান বাতি জ্বালানোর বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি দায় এরানোর মতো করে বলেন আমি তো নতুন আসছি, তবে পরিষদের চাবি মারুফ মেম্বারের কাছে,তিনি নাকি দোকানদারের কাছে রাখে দোকানদার এসে ভাল্ব বন্ধ করে, তবে চাবি এভাবে দোকানদারের কাছে রাখা ঠিক না,আমি কালকে অফিসে গিয়ে এবিষয় নিয়ে বসব।

ইছালী ইউনিয়নে প্রশাসক হিসেবে দায়িত্বে থাকা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ইয়ারুল হক কে বাতি জ্বালানোর বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন সচিব আছে তাকে এটা জিজ্ঞেস করে দেখি,এটা তো আপনার কাছে জানতে পারলাম সচিবের কাছে জিজ্ঞেস করে নেই, চাবির বিষয় জানতে চাইলে তিনি বলেন এটা তো সচিবের কাছে থাকার কথা অফিসের বাহিরের লোকের কাছে তো চাবি রাখা অন্যায়, যার ফল্ট হবে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

​এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ এবং দায়িত্বপ্রাপ্তদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গুলশানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল, ৫ দিন পর ওসি বদলি

যশোর সদর উপজেলার ইছালী ইউনিয়ন পরিষদে বিদ্যুৎ সংকটের মধ্যেও দায়িত্বহীনতার চিত্র দিনের পর দিন জ্বলছে হ্যালোজেন বাতি

Update Time : ০১:২৬:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক

সারাদেশে যখন চলমান বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় সরকার আলোকসজ্জা বর্জন, বিদ্যুৎ অপচয় রোধে কঠোর নির্দেশনা ও সরকারি দপ্তরের কর্মঘণ্টা কমানোর মতো নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, ঠিক সে মুহূর্তে প্রশাসনিক চরম দায়িত্বহীনতা ও অবহেলার চিত্র দেখা গেছে যশোরের ৩ নং ইছালী ইউনিয়ন পরিষদে।

পরিষদ প্রাঙ্গণে টানা কয়েক দিন ধরে অহেতুক জ্বলছে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন হ্যালোজেন বাতি।

​স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী সপ্তাহের পর সপ্তাহ ধরে অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ এই ইউনিয়ন পরিষদটি।

প্রতি বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পরিষদের নিরাপত্তা বাতি জ্বালিয়ে রেখে চলে যায়, টানা শুক্রবার এবং শনিবার পার হয়ে রবিবার সকালে বাতি বন্ধ করা হয়।

দিনের আলোতেও অবলীলায় বাতি জ্বলতে দেখা গেলেও তা বন্ধ করার মতো কেউ নেই ইছালী ইউনিয়ন পরিষদে।

​শুধু বিদ্যুৎ অপচয়ই নয়, পরিষদের সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তায় দেখা গেছে চরম বিশৃঙ্খলা।

প্রশাসনিক নিয়ম অনুযায়ী ইউনিয়ন পরিষদের চাবিসমূহ সার্বক্ষণিক ইউনিয়ন পরিষদ সচিব মিজানুর রহমানের দায়িত্ব ও হেফাজতে থাকার কথা থাকলেও, এখানে সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে তা রাখা হচ্ছে এক স্থানীয় দোকানদার মাহাবুবের কাছে।

​এ বিষয়ে ইছালী ১ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আনিচুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তারা প্রতি বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় লাইট জ্বালিয়ে চলে যান।

টানা দুই দিন ও দুই রাত আলো জ্বলার পর রবিবার সকালে বাতি বন্ধ করা হয়।

সরকারি সম্পদ ও বিদ্যুতের এমন অপচয় চরম দায়িত্বহীনতা।

​পরিষদের চাবি ব্যবস্থাপনার বিষয়ে জানতে চাইলে ১ নং ওয়ার্ড মেম্বার মারুফ হোসেন স্বীকার করেন, ইউনিয়ন পরিষদের চাবি তাঁর জিম্মায় ছিল এবং তা এক দোকানদারের কাছে রাখা হয়েছে। তিনি জানান, মাহাবুবের দোকানে ইউনিয়ন পরিষদের চাবি জমা রাখা থাকে।

​অনুরূপ বক্তব্য দেন দোকানদার মাহাবুব হোসেন। তিনি বলেন, মারুফ মেম্বার নিজেই আমার কাছে ইউনিয়ন পরিষদের চাবি রেখে গেছেন।

​পরিষদের নিরাপত্তা এবং সরকারি সম্পদের এমন অপচয়ের বিষয়ে প্রশাসনিক তদারকির তীব্র অভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে।

পরিষদে নিয়োজিত দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) উদাসীনতা ও নজরদারির অভাবেই সরকারি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান এভাবে অবহেলা ও নিয়মনীতিহীনভাবে চলছে বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

ইছালী ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মিজানুর রহমান বাতি জ্বালানোর বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি দায় এরানোর মতো করে বলেন আমি তো নতুন আসছি, তবে পরিষদের চাবি মারুফ মেম্বারের কাছে,তিনি নাকি দোকানদারের কাছে রাখে দোকানদার এসে ভাল্ব বন্ধ করে, তবে চাবি এভাবে দোকানদারের কাছে রাখা ঠিক না,আমি কালকে অফিসে গিয়ে এবিষয় নিয়ে বসব।

ইছালী ইউনিয়নে প্রশাসক হিসেবে দায়িত্বে থাকা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ইয়ারুল হক কে বাতি জ্বালানোর বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন সচিব আছে তাকে এটা জিজ্ঞেস করে দেখি,এটা তো আপনার কাছে জানতে পারলাম সচিবের কাছে জিজ্ঞেস করে নেই, চাবির বিষয় জানতে চাইলে তিনি বলেন এটা তো সচিবের কাছে থাকার কথা অফিসের বাহিরের লোকের কাছে তো চাবি রাখা অন্যায়, যার ফল্ট হবে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

​এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ এবং দায়িত্বপ্রাপ্তদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।