১২:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আবাসিক হোটেলে নারীর সঙ্গে রাতযাপনের অভিযোগ বিএনপি নেতা ‘ভাটা শহীদের’ বিরুদ্ধে

 

ঝালকাঠি প্রতিনিধি: ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী, বিএনপি নেতা ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম ওরফে ভাটা শহীদের বিরুদ্ধে স্থানীয় এক নারীর সঙ্গে পরকীয়ার অভিযোগ উঠেছে। ওই নারীকে নিয়ে পিরোজপুরের একটি আবাসিক হোটেলে রাতযাপনের অভিযোগও করেছেন তাঁর স্বজনরা। ঘটনার পর থেকে শহিদুল ইসলাম ওরফে ভাটা শহীদ এলাকায় নেই বলে জানা গেছে।

কাঁঠালিয়া উপজেলার ৫ নম্বর শৌলজালিয়া ইউনিয়নের সোনার বাংলা এলাকার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম ওরফে ভাটা শহীদের বিরুদ্ধে একই এলাকার এক নারীর সঙ্গে পরকীয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের বিষয়টি ঘিরে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শহীদ গাজীর বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক নারীর সঙ্গে পরকীয়ার অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় সূত্র ও ওই নারীর স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সম্প্রতি গত সোমবার (২৪ আগস্ট) দুই নারীকে নিয়ে পিরোজপুরের রয়েল নামে একটি আবাসিক হোটেলে ওঠার অভিযোগ ওঠে শহিদুল ইসলাম ওরফে ভাটা শহীদের বিরুদ্ধে। এরপর দুই নারীর পরিবারের লোকজন তাদের খুঁজে না পেয়ে কাঁঠালিয়া থানায় এবং বরিশাল কোতোয়ালি থানায় নিখোঁজ জিডি করেন। পরবর্তীতে বরিশাল থানা পুলিশ ওই দুই নারীর মোবাইল নম্বর ট্র্যাকিং করে তাদের অবস্থান শনাক্ত করে পিরোজপুরের রয়েল আবাসিক হোটেলে যায়। সেখানে গিয়ে পুলিশ তাদের রাতে থাকার বিষয়টি জানতে পারে। তবে পুলিশ সেখানে যাওয়ার আগেই তারা হোটেল থেকে পালিয়ে যায় বলে জানা গেছে। এরপর পুলিশ ও পরিবারের লোকজন মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে তাদের ধরতে সক্ষম হয়। ওই নারীর পরিবারের স্বজনরা জানান, স্থানীয় ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম ওরফে ভাটা শহীদের সঙ্গে বাড়ি থেকে পালিয়ে পিরোজপুরের একটি আবাসিক হোটেলে রাতে ছিল ওই নারী। তাদের খোঁজ না পেয়ে কাঁঠালিয়া থানায় এবং বরিশাল কোতোয়ালি থানায় নিখোঁজ জিডি করা হয়।

পরিবারের স্বজনদের দাবি, পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে পিরোজপুরের ওই আবাসিক হোটেলে গেলে তারা বিষয়টি টের পেয়ে সেখান থেকে পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ ও পরিবারের সদস্যরা মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে তাদের অবস্থান শনাক্ত করেন এবং ঢাকায় গিয়ে তাদের ধরতে সক্ষম হন। তবে পরকীয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শহিদুল ইসলাম ওরফে ভাটা শহীদ। তিনি বলেন, “আমার সাথে পিরোজপুর বসে দেখা হয়েছে। পরে রাতে যাবে কোথায়, তাই ওদের একটি আবাসিক হোটেলে থাকার জন্য সেখানে গিয়ে রুম ঠিক করে দিয়েছি এবং রাতে কিছু খাবার কিনে দিয়েছি। আমি ওদের সঙ্গে রাতে ছিলাম না। আমার বিরুদ্ধে পরকীয়ার অভিযোগ মিথ্যা।”

এ বিষয়ে কাঁঠালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ নাছের রায়হান বলেন, “নিখোঁজের ঘটনায় পরিবারের লোকজন থানায় একটি অভিযোগ দিয়েছিল। পরবর্তীতে তাদেরকে পাওয়া গেছে।”

ক্যাপশন:- পিরোজপুর রয়েল আবাসিক হোটেলের সিসি ক্যামেরার ছবি।

মো. নাঈম হাসান ঈমন
ঝালকাঠি প্রতিনিধি:

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গুলশানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল, ৫ দিন পর ওসি বদলি

আবাসিক হোটেলে নারীর সঙ্গে রাতযাপনের অভিযোগ বিএনপি নেতা ‘ভাটা শহীদের’ বিরুদ্ধে

Update Time : ০১:১৯:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬

 

ঝালকাঠি প্রতিনিধি: ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী, বিএনপি নেতা ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম ওরফে ভাটা শহীদের বিরুদ্ধে স্থানীয় এক নারীর সঙ্গে পরকীয়ার অভিযোগ উঠেছে। ওই নারীকে নিয়ে পিরোজপুরের একটি আবাসিক হোটেলে রাতযাপনের অভিযোগও করেছেন তাঁর স্বজনরা। ঘটনার পর থেকে শহিদুল ইসলাম ওরফে ভাটা শহীদ এলাকায় নেই বলে জানা গেছে।

কাঁঠালিয়া উপজেলার ৫ নম্বর শৌলজালিয়া ইউনিয়নের সোনার বাংলা এলাকার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম ওরফে ভাটা শহীদের বিরুদ্ধে একই এলাকার এক নারীর সঙ্গে পরকীয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের বিষয়টি ঘিরে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শহীদ গাজীর বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক নারীর সঙ্গে পরকীয়ার অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় সূত্র ও ওই নারীর স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সম্প্রতি গত সোমবার (২৪ আগস্ট) দুই নারীকে নিয়ে পিরোজপুরের রয়েল নামে একটি আবাসিক হোটেলে ওঠার অভিযোগ ওঠে শহিদুল ইসলাম ওরফে ভাটা শহীদের বিরুদ্ধে। এরপর দুই নারীর পরিবারের লোকজন তাদের খুঁজে না পেয়ে কাঁঠালিয়া থানায় এবং বরিশাল কোতোয়ালি থানায় নিখোঁজ জিডি করেন। পরবর্তীতে বরিশাল থানা পুলিশ ওই দুই নারীর মোবাইল নম্বর ট্র্যাকিং করে তাদের অবস্থান শনাক্ত করে পিরোজপুরের রয়েল আবাসিক হোটেলে যায়। সেখানে গিয়ে পুলিশ তাদের রাতে থাকার বিষয়টি জানতে পারে। তবে পুলিশ সেখানে যাওয়ার আগেই তারা হোটেল থেকে পালিয়ে যায় বলে জানা গেছে। এরপর পুলিশ ও পরিবারের লোকজন মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে তাদের ধরতে সক্ষম হয়। ওই নারীর পরিবারের স্বজনরা জানান, স্থানীয় ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম ওরফে ভাটা শহীদের সঙ্গে বাড়ি থেকে পালিয়ে পিরোজপুরের একটি আবাসিক হোটেলে রাতে ছিল ওই নারী। তাদের খোঁজ না পেয়ে কাঁঠালিয়া থানায় এবং বরিশাল কোতোয়ালি থানায় নিখোঁজ জিডি করা হয়।

পরিবারের স্বজনদের দাবি, পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে পিরোজপুরের ওই আবাসিক হোটেলে গেলে তারা বিষয়টি টের পেয়ে সেখান থেকে পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ ও পরিবারের সদস্যরা মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে তাদের অবস্থান শনাক্ত করেন এবং ঢাকায় গিয়ে তাদের ধরতে সক্ষম হন। তবে পরকীয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শহিদুল ইসলাম ওরফে ভাটা শহীদ। তিনি বলেন, “আমার সাথে পিরোজপুর বসে দেখা হয়েছে। পরে রাতে যাবে কোথায়, তাই ওদের একটি আবাসিক হোটেলে থাকার জন্য সেখানে গিয়ে রুম ঠিক করে দিয়েছি এবং রাতে কিছু খাবার কিনে দিয়েছি। আমি ওদের সঙ্গে রাতে ছিলাম না। আমার বিরুদ্ধে পরকীয়ার অভিযোগ মিথ্যা।”

এ বিষয়ে কাঁঠালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ নাছের রায়হান বলেন, “নিখোঁজের ঘটনায় পরিবারের লোকজন থানায় একটি অভিযোগ দিয়েছিল। পরবর্তীতে তাদেরকে পাওয়া গেছে।”

ক্যাপশন:- পিরোজপুর রয়েল আবাসিক হোটেলের সিসি ক্যামেরার ছবি।

মো. নাঈম হাসান ঈমন
ঝালকাঠি প্রতিনিধি: