১১:০৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মোহনগঞ্জে বাঁধের ব্লক চুরিতে বাধাদেওয়া এক যুবককে মারধর থানায় লিখিত অভিযোগ

মোঃ আলম খান,নেত্রকোনা প্রতিনিধিঃ

নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে কৃষকের ফসল রক্ষায় নির্মিত বেড়িবাঁধের সরকারি ব্লক রাতের আঁধারে সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে বাধা দেওয়ায় এক ব্যক্তিকে মারধর ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের পাশাপাশি পরদিন একই ঘটনার জেরে মাছের আড়তে হামলা, মারধর ও নগদ টাকা-মালামাল লুটের অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় মো. বজলু মিয়া (৬০) বাদী হয়ে মোহনগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে ২৮ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।
অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৮ আগস্ট রাত আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটে উপজেলার ৭ নম্বর গাগলাজুর ইউনিয়নের বরান্তর বাজারসংলগ্ন চিয়াডুবী বেড়িবাঁধ থেকে সরকারি ব্লক সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। বিষয়টি দেখতে গিয়ে বজলু মিয়া ও তাঁর সঙ্গে থাকা কয়েকজন বাধা দিলে আল আমিন (৩৫), রাব্বি মিয়া (২৭), বাবুল মিয়াসহ কয়েকজন তাঁদের বাধা দেন। একপর্যায়ে গালিগালাজ, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও মারধর করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, পরদিন ১৯ আগস্ট রাত আনুমানিক ১১টার দিকে উপজেলার ৪ নম্বর মাঘান সিয়াধার ইউনিয়নের খুরশিমাইল গ্রামের একটি মাছের আড়তে মাছ বিক্রি করতে গেলে আগের ঘটনার জের ধরে অভিযুক্তরা আরও কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে সেখানে হামলা চালান। এ সময় দেশীয় অস্ত্র দিয়ে মারধর করা হলে কয়েকজন আহত হন।
হামলার সময় মাছ বিক্রির নগদ ২০ হাজার টাকা, একটি মোবাইল ফোন ও একটি টর্চ লাইট নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। কয়েকজনকে টানাহেঁচড়া ও মারধর করে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করারও অভিযোগ রয়েছে। পরে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল থেকে চলে যান। আহতদের স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
অভিযোগকারী মো. বজলু মিয়া বলেন, “আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য থানায় অভিযোগ করেছি।”
স্থানীয় বাসিন্দা বাইজিদ হোসেন বলেন, “সরকারি অর্থে নির্মিত ফসল রক্ষা বাঁধের ব্লক সরিয়ে নেওয়া হলে বাঁধের স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে। বিশেষ করে হাওরাঞ্চলে বোরো ফসল রক্ষায় এসব বাঁধ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ব্লক চুরি বা বাঁধের কোনো অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। তাই বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।”
অপর স্থানীয় বাসিন্দা তমাল মিয়া বলেন, “এ এলাকায় প্রতিনিয়তই ফসল রক্ষা বাঁধের ব্লক চুরির অভিযোগ উঠছে। এমনকি এসব ব্লক বিক্রি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়ভাবে একশ ব্লক ৫ হাজার থেকে ৭ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি করা হচ্ছে বলে আমরা জানতে পারছি। সরকারি সম্পদ রক্ষায় দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।”
৭ নং গাগলাজুর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত প্যানেল চেয়ারম্যান ২ আশরাফ চৌধুরী বলেন, “আজকেও রাতে বানিহাড়ি গ্রামের লোকজন বেড়িবাঁধের ব্লক নিতে এসেছিল। বেড়িবাঁধ থেকে নৌকায় ব্লক উঠাচ্ছে—এমন অবস্থায় বরান্তর গ্রামের এক যুবক দেখতে পেয়ে গভীর রাতে আমাকে ফোন করে জানায়। পরে তাদের সঙ্গে কথা বলে নৌকায় তোলারত ৯টি ব্লক বেড়িবাঁধে রেখে চলে যেতে বলি। থানায় মামলা করার পরেও কীভাবে তারা বেড়িবাঁধ থেকে ব্লক লুট করার দুঃসাহস করে? এর আগে ব্লক নেওয়ার সময় বজলু মিয়া বাধা দিয়েছিল। যার ফলে তার ওপর হামলা করা হয়েছে। বিষয়টি খুবই দুঃখজনক।”
মোহনগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হাফিজুল ইসলাম হারুন বলেন, “আজ ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। অভিযান চলতেছে। কারও বাড়িতে ব্লক পাওয়া গেলে সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অভিযোগে ২৮ জনের নাম উল্লেখ করা হলেও তাঁদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা ও ঘটনায় প্রকৃত জড়িতদের বিষয়ে তদন্ত শেষে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গুলশানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল, ৫ দিন পর ওসি বদলি

মোহনগঞ্জে বাঁধের ব্লক চুরিতে বাধাদেওয়া এক যুবককে মারধর থানায় লিখিত অভিযোগ

Update Time : ০৫:০৯:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

মোঃ আলম খান,নেত্রকোনা প্রতিনিধিঃ

নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে কৃষকের ফসল রক্ষায় নির্মিত বেড়িবাঁধের সরকারি ব্লক রাতের আঁধারে সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে বাধা দেওয়ায় এক ব্যক্তিকে মারধর ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের পাশাপাশি পরদিন একই ঘটনার জেরে মাছের আড়তে হামলা, মারধর ও নগদ টাকা-মালামাল লুটের অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় মো. বজলু মিয়া (৬০) বাদী হয়ে মোহনগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে ২৮ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।
অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৮ আগস্ট রাত আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটে উপজেলার ৭ নম্বর গাগলাজুর ইউনিয়নের বরান্তর বাজারসংলগ্ন চিয়াডুবী বেড়িবাঁধ থেকে সরকারি ব্লক সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। বিষয়টি দেখতে গিয়ে বজলু মিয়া ও তাঁর সঙ্গে থাকা কয়েকজন বাধা দিলে আল আমিন (৩৫), রাব্বি মিয়া (২৭), বাবুল মিয়াসহ কয়েকজন তাঁদের বাধা দেন। একপর্যায়ে গালিগালাজ, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও মারধর করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, পরদিন ১৯ আগস্ট রাত আনুমানিক ১১টার দিকে উপজেলার ৪ নম্বর মাঘান সিয়াধার ইউনিয়নের খুরশিমাইল গ্রামের একটি মাছের আড়তে মাছ বিক্রি করতে গেলে আগের ঘটনার জের ধরে অভিযুক্তরা আরও কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে সেখানে হামলা চালান। এ সময় দেশীয় অস্ত্র দিয়ে মারধর করা হলে কয়েকজন আহত হন।
হামলার সময় মাছ বিক্রির নগদ ২০ হাজার টাকা, একটি মোবাইল ফোন ও একটি টর্চ লাইট নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। কয়েকজনকে টানাহেঁচড়া ও মারধর করে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করারও অভিযোগ রয়েছে। পরে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল থেকে চলে যান। আহতদের স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
অভিযোগকারী মো. বজলু মিয়া বলেন, “আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য থানায় অভিযোগ করেছি।”
স্থানীয় বাসিন্দা বাইজিদ হোসেন বলেন, “সরকারি অর্থে নির্মিত ফসল রক্ষা বাঁধের ব্লক সরিয়ে নেওয়া হলে বাঁধের স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে। বিশেষ করে হাওরাঞ্চলে বোরো ফসল রক্ষায় এসব বাঁধ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ব্লক চুরি বা বাঁধের কোনো অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। তাই বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।”
অপর স্থানীয় বাসিন্দা তমাল মিয়া বলেন, “এ এলাকায় প্রতিনিয়তই ফসল রক্ষা বাঁধের ব্লক চুরির অভিযোগ উঠছে। এমনকি এসব ব্লক বিক্রি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়ভাবে একশ ব্লক ৫ হাজার থেকে ৭ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি করা হচ্ছে বলে আমরা জানতে পারছি। সরকারি সম্পদ রক্ষায় দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।”
৭ নং গাগলাজুর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত প্যানেল চেয়ারম্যান ২ আশরাফ চৌধুরী বলেন, “আজকেও রাতে বানিহাড়ি গ্রামের লোকজন বেড়িবাঁধের ব্লক নিতে এসেছিল। বেড়িবাঁধ থেকে নৌকায় ব্লক উঠাচ্ছে—এমন অবস্থায় বরান্তর গ্রামের এক যুবক দেখতে পেয়ে গভীর রাতে আমাকে ফোন করে জানায়। পরে তাদের সঙ্গে কথা বলে নৌকায় তোলারত ৯টি ব্লক বেড়িবাঁধে রেখে চলে যেতে বলি। থানায় মামলা করার পরেও কীভাবে তারা বেড়িবাঁধ থেকে ব্লক লুট করার দুঃসাহস করে? এর আগে ব্লক নেওয়ার সময় বজলু মিয়া বাধা দিয়েছিল। যার ফলে তার ওপর হামলা করা হয়েছে। বিষয়টি খুবই দুঃখজনক।”
মোহনগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হাফিজুল ইসলাম হারুন বলেন, “আজ ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। অভিযান চলতেছে। কারও বাড়িতে ব্লক পাওয়া গেলে সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অভিযোগে ২৮ জনের নাম উল্লেখ করা হলেও তাঁদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা ও ঘটনায় প্রকৃত জড়িতদের বিষয়ে তদন্ত শেষে নিশ্চিত হওয়া যাবে।