০৯:০৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঠাকুরগাঁওয়ে ওয়াকফ স্টেটের জমি দখল ও ভাঙচুর, থানায় অভিযোগ

 

জাহাঙ্গীর আলম ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার পূর্ব গোয়ালপাড়া এলাকায় পীরস্থানের জমি দখল, কবর ও ঘর ভাঙচুর এবং সেখানে পাকা প্রাচীর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সাতজনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও অজ্ঞাতনামা কয়েকজনের বিরুদ্ধে ঠাকুরগাঁও সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা সোহেল রানা (৪৪)।

অভিযোগে অভিযুক্তরা হলেন, কাশেম আলী, মোছাঃ রাবেয়া বেগম, নূর নবী, রশিদুল ইসলাম, মোছাঃ হেনা বেগম, জোবায়দুর রহমান এবং সাইদুর রহমান ওরফে বাবু।

লিখিত অভিযোগে সোহেল রানা দাবি করেন, পূর্ব গোয়ালপাড়া এলাকায় সিএস ও এসএ খতিয়ানে থাকা প্রায় পাঁচ শতক জমি পীরস্থানের ধর্মীয় ও জনসাধারণের ব্যবহারের সম্পত্তি হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় মুসলিমরা ব্যবহার করে আসছেন। অভিযোগকারীর দাবি, ওই জমি বিক্রয়যোগ্য না হলেও অভিযুক্তরা পরস্পর যোগসাজশে জমিটি নিজেদের দখলে নেওয়ার চেষ্টা করেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, অভিযুক্ত কাশেম আলী বিভিন্ন দলিলের মাধ্যমে জমি ক্রয় এবং পরবর্তীতে নামজারি করেন। অভিযোগকারীর দাবি, জমির মালিকানা নিয়ে জটিলতার মধ্যেই অভিযুক্তরা পীরস্থানের জমি দখলের পরিকল্পনা করেন।

লিখিত অভিযোগ অনুযায়ী, ২১ আগস্ট ২০২৬ রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে অভিযুক্তরা কয়েকজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে সঙ্গে নিয়ে দা, হাসুয়া, শাবল, কুড়াল ও কোদালসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম নিয়ে পীরস্থানের জমিতে প্রবেশ করেন। এ সময় সেখানে থাকা ঘর ও পীরের কবর ভাঙচুর করে প্রায় তিন শতক জমি দখল করে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে রাতেই ইট, বালু ও সিমেন্ট এনে সেখানে পাকা প্রাচীর নির্মাণের অভিযোগও করা হয়।

অভিযোগকারী আরও জানান, পরদিন ২২ আগস্ট দুপুরে স্থানীয় কয়েকশ মানুষ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রতিবাদ করলে অভিযুক্তরা তাদের ভয়ভীতি দেখান এবং বাধা দিলে হত্যার হুমকি দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময় পুলিশকে জানালে অভিযোগকারী ও সাক্ষীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয় বলে দাবি করেন তিনি।

এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে ঠাকুরগাঁও সদর থানায় অভিযোগ দিয়েছেন মোঃ সোহেল রানা। অভিযোগের সঙ্গে সিএস ও এসএ খতিয়ানের কপি, দলিল ও খারিজ খতিয়ানের কপি এবং স্থানীয়দের স্বাক্ষরযুক্ত গণপিটিশন সংযুক্ত করেছেন তিনি।

তবে অভিযুক্ত কাশেম আলী দাবি করে বলেন, নিয়ম মেনেই জমি ক্রয় করা হয়েছে। উভয় পক্ষে কয়েক দফায় আলোচনা হচ্ছে। সমাধান না হলে আইনী প্রদক্ষেপ নিব।

এ বিষয় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাজাহান আলী জানান, জমি দখলের বিষয়ে গণস্বাক্ষরিত যুক্ত একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গুলশানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল, ৫ দিন পর ওসি বদলি

ঠাকুরগাঁওয়ে ওয়াকফ স্টেটের জমি দখল ও ভাঙচুর, থানায় অভিযোগ

Update Time : ০৪:৪৫:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

 

জাহাঙ্গীর আলম ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার পূর্ব গোয়ালপাড়া এলাকায় পীরস্থানের জমি দখল, কবর ও ঘর ভাঙচুর এবং সেখানে পাকা প্রাচীর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সাতজনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও অজ্ঞাতনামা কয়েকজনের বিরুদ্ধে ঠাকুরগাঁও সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা সোহেল রানা (৪৪)।

অভিযোগে অভিযুক্তরা হলেন, কাশেম আলী, মোছাঃ রাবেয়া বেগম, নূর নবী, রশিদুল ইসলাম, মোছাঃ হেনা বেগম, জোবায়দুর রহমান এবং সাইদুর রহমান ওরফে বাবু।

লিখিত অভিযোগে সোহেল রানা দাবি করেন, পূর্ব গোয়ালপাড়া এলাকায় সিএস ও এসএ খতিয়ানে থাকা প্রায় পাঁচ শতক জমি পীরস্থানের ধর্মীয় ও জনসাধারণের ব্যবহারের সম্পত্তি হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় মুসলিমরা ব্যবহার করে আসছেন। অভিযোগকারীর দাবি, ওই জমি বিক্রয়যোগ্য না হলেও অভিযুক্তরা পরস্পর যোগসাজশে জমিটি নিজেদের দখলে নেওয়ার চেষ্টা করেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, অভিযুক্ত কাশেম আলী বিভিন্ন দলিলের মাধ্যমে জমি ক্রয় এবং পরবর্তীতে নামজারি করেন। অভিযোগকারীর দাবি, জমির মালিকানা নিয়ে জটিলতার মধ্যেই অভিযুক্তরা পীরস্থানের জমি দখলের পরিকল্পনা করেন।

লিখিত অভিযোগ অনুযায়ী, ২১ আগস্ট ২০২৬ রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে অভিযুক্তরা কয়েকজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে সঙ্গে নিয়ে দা, হাসুয়া, শাবল, কুড়াল ও কোদালসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম নিয়ে পীরস্থানের জমিতে প্রবেশ করেন। এ সময় সেখানে থাকা ঘর ও পীরের কবর ভাঙচুর করে প্রায় তিন শতক জমি দখল করে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে রাতেই ইট, বালু ও সিমেন্ট এনে সেখানে পাকা প্রাচীর নির্মাণের অভিযোগও করা হয়।

অভিযোগকারী আরও জানান, পরদিন ২২ আগস্ট দুপুরে স্থানীয় কয়েকশ মানুষ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রতিবাদ করলে অভিযুক্তরা তাদের ভয়ভীতি দেখান এবং বাধা দিলে হত্যার হুমকি দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময় পুলিশকে জানালে অভিযোগকারী ও সাক্ষীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয় বলে দাবি করেন তিনি।

এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে ঠাকুরগাঁও সদর থানায় অভিযোগ দিয়েছেন মোঃ সোহেল রানা। অভিযোগের সঙ্গে সিএস ও এসএ খতিয়ানের কপি, দলিল ও খারিজ খতিয়ানের কপি এবং স্থানীয়দের স্বাক্ষরযুক্ত গণপিটিশন সংযুক্ত করেছেন তিনি।

তবে অভিযুক্ত কাশেম আলী দাবি করে বলেন, নিয়ম মেনেই জমি ক্রয় করা হয়েছে। উভয় পক্ষে কয়েক দফায় আলোচনা হচ্ছে। সমাধান না হলে আইনী প্রদক্ষেপ নিব।

এ বিষয় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাজাহান আলী জানান, জমি দখলের বিষয়ে গণস্বাক্ষরিত যুক্ত একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।