
মামুনুর রশিদ মামুন, ময়মনসিংহ:
ময়মনসিংহ বিভাগজুড়ে বিদ্যুৎ সংকট এখন চরম আকার ধারণ করেছে। তীব্র গরমে ঘোষণা ছাড়াই ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ উধাও হয়ে যাওয়ায় স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন। বিদ্যুৎ বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে সংকট নিরসনে নিয়মিত আশ্বাসের বাণী শোনানো হলেও মাঠপর্যায়ের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। ফলে ক্রমেই তীব্র হচ্ছে গ্রাহক অসন্তোষ। বিদ্যুতের আসা-যাওয়ার লুকোচুরি খেলা: নগরী থেকে শুরু করে মফস্বল—সবত্রই এখন লোডশেডিং নিত্যদিনের রুটিনে পরিণত হয়েছে। দিনে ও রাতে মিলিয়ে কোথাও কোথাও ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না। বিশেষ করে রাতের বেলা লোডশেডিংয়ের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় তীব্র গরমে ঘুমাতে পারছেন না শিশু ও বয়স্করা। এ বিষয়ে ময়মনসিংহ নগরীর বাসিন্দা শিক্ষক রফিকুল ইসলাম আক্ষেপ করে বলেন, “দিনের বেলা তো অফিসে বা বাইরে কেটে যায়, কিন্তু রাতের বেলা এই গরম আর অন্ধকারের লুকোচুরি খেলায় জীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। বিদ্যুৎ অফিসকে ফোন করলেও সদুত্তর পাওয়া যায় না।” বিপর্যস্ত শিক্ষা, ব্যবসা ও স্বাস্থ্যসেবা
শিক্ষার্থীদের জীবন: বর্তমান সময়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গুলোতে বিভিন্ন পরীক্ষা চলছে। কিন্তু লোডশেডিংয়ের কারণে রাতে মোমবাতি জ্বালিয়ে বা জেনারেটরের বিকল্প ব্যবস্থার খোঁজে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ব্যবসায় ধস: আইটি ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান, সেলুন, বেকারি, কোল্ড স্টোরেজ এবং ছোট ও মাঝারি শিল্পকারখানা গুলোতে উৎপাদন ও কার্যক্রম থমকে গেছে। জেনারেটরের অতিরিক্ত জ্বালানি খরচ বহন করতে গিয়ে লোকসানের মুখে পড়ছেন ব্যবসায়ীরা। স্বাস্থ্যঝুঁকি: স্থানীয় হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার গুলোতে বিদ্যুৎহীন সময়ে রোগীদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছাচ্ছে। গরমে ঘেমে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীরা। কর্তৃপক্ষের বক্তব্য বনাম বাস্তব চিত্র: বিদ্যুৎ বিতরণকারী কর্তৃপক্ষের দাবি, জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদামতো বিদ্যুৎ সরবরাহ না পাওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। উৎপাদন ঘাটতি ও সঞ্চালন লাইনের নানা ত্রুটি দূর করতে প্রকৌশলীরা কাজ করছেন এবং খুব দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করছেন। তবে সাধারণ মানুষের প্রশ্ন—প্রতিবারই গরমের মৌসুম এলেই কেন একই অজুহাত দেওয়া হয়? দীর্ঘমেয়াদী কোনো কার্যকর পরিকল্পনা কেন দৃশ্যমান হচ্ছে না? টেকসই সমাধানের দাবি: বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, কেবল তাৎক্ষণিক আশ্বাস দিয়ে এই দীর্ঘস্থায়ী সংকট কাটানো সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন পুরনো ও জরাজীর্ণ সঞ্চালন লাইনের আধুনিকায়ন, গ্রিড উপকেন্দ্রে সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সুষম বিদ্যুৎ বণ্টন নিশ্চিত করা। অন্যথায় ময়মনসিংহের সাধারণ মানুষের এই জনদুর্ভোগ আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন সচেতন নাগরিক সমাজ। ময়মনসিংহের জনজীবনে এই সংকট স্থায়ী রূপ নেওয়ার আগেই সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারক মহলের জরুরি ও কার্যকর হস্তক্ষেপ এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।
প্রতিনিধির নাম 



















