০৯:০৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

টেকনাফে ১১ দলীয় ঐক্যের গণমিছিল ও সমাবেশ

 

‘জুলাই অভ্যুত্থান দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার ঐতিহাসিক দলিল’ — অধ্যক্ষ মাওলানা নুর আহমদ আনোয়ারী

মোহাম্মদ হোসাইন, টেকনাফ (কক্সবাজার):

কক্সবাজারের টেকনাফে গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে গণমিছিল ও সমাবেশ করেছে ১১ দলীয় ঐক্য। বুধবার (৫ আগস্ট) বিকেল ৩টায় টেকনাফ পৌরসভার ঈদগাহ মাঠ থেকে গণমিছিলটি শুরু হয়ে প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে মিল্কি রিসোর্টের সামনে আয়োজিত সমাবেশে মিলিত হয়। কক্সবাজার জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা নুর আহমদ আনোয়ারী গণমিছিলে নেতৃত্ব দেন। এ ছাড়া ১১ দলীয় ঐক্যের উপজেলা পর্যায়ের শীর্ষ নেতারাও গণমিছিল ও সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন।

গণমিছিল-পরবর্তী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কক্সবাজার জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা নুর আহমদ আনোয়ারী বলেন, “বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার এক ঐতিহাসিক দলিলের নাম জুলাই। জুলাইকে মুছে দেওয়ার চেষ্টা অনেকেই করেছে, কিন্তু কেউ সফল হতে পারেনি। যারা জুলাইকে মুছে দেওয়ার অপচেষ্টা করবে, তারাই ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হবে।”

তিনি আরও বলেন, “সরকারের প্রতি আমাদের আহ্বান—পুরোনো ফ্যাসিবাদের পথে না হেঁটে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাকে সমুন্নত রাখুন এবং শহীদদের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্যে গণরায়ের প্রতি সম্মান জানিয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করুন। একই সঙ্গে জুলাই গণহত্যার সঙ্গে জড়িতদের বিচার নিশ্চিত করতে হবে। জুলাইয়ের চেতনায় নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ এবং জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের প্রশ্নে কোনো ধরনের আপস চলবে না।”

মিছিল-পরবর্তী সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন টেকনাফ উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা রফিকুল্লাহ। উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি ও যুব বিভাগের সভাপতি সরওয়ার কামাল সিকদার এবং পৌর জামায়াতের সভাপতি রবিউল আলমের সঞ্চালনায় সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কক্সবাজার জেলা জামায়াতে ইসলামীর সমাজকল্যাণ সম্পাদক অধ্যক্ষ নুরুল হোসাইন ছিদ্দিকী, টেকনাফ পৌরসভার সাবেক ভারপ্রাপ্ত মেয়র মোহাম্মদ ইসমাইল, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) টেকনাফ উপজেলা প্রধান সমন্বয়ক সায়েম সিকদার, যুগ্ম সিনিয়র সমন্বয়ক বাহা উদ্দিন, উপজেলা জামায়াতের সাংগঠনিক সম্পাদক ও হ্নীলা ইউনিয়ন আমীর মাওলানা গিয়াস উদ্দিন, উপজেলা জামায়াতের অর্থ সম্পাদক ও হোয়াইক্যং ইউনিয়ন আমীর মুহাম্মদ হোসাইন, সদর ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি ও সাবেক জেলা শিবির সভাপতি আব্দুর রহিম নূরী, টেকনাফ উপজেলা শিবিরের সভাপতি শাহ কামাল শাফি, বাহারছড়া ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি মোহাম্মদ ইসলাম, জাতীয় নাগরিক পার্টির কক্সবাজার জেলা যুগ্ম সদস্যসচিব রফিকুল ইসলাম, যুবশক্তি টেকনাফের আহ্বায়ক আর. কে. রায়হান এবং জিয়াউল হক প্রমুখ।

সমাবেশে ১১ দলীয় ঐক্যের অন্যান্য নেতারা বলেন, “একটি গণতান্ত্রিক, বৈষম্যহীন ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে আমাদের সন্তানেরা রাজপথে নেমেছিল। তাঁদের আত্মত্যাগ দেশের ইতিহাসে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। শহীদদের আকাঙ্ক্ষার নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ না হওয়া পর্যন্ত ১১ দলীয় ঐক্য রাজপথে থাকবে।”

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গুলশানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল, ৫ দিন পর ওসি বদলি

টেকনাফে ১১ দলীয় ঐক্যের গণমিছিল ও সমাবেশ

Update Time : ০৫:৫৯:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬

 

‘জুলাই অভ্যুত্থান দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার ঐতিহাসিক দলিল’ — অধ্যক্ষ মাওলানা নুর আহমদ আনোয়ারী

মোহাম্মদ হোসাইন, টেকনাফ (কক্সবাজার):

কক্সবাজারের টেকনাফে গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে গণমিছিল ও সমাবেশ করেছে ১১ দলীয় ঐক্য। বুধবার (৫ আগস্ট) বিকেল ৩টায় টেকনাফ পৌরসভার ঈদগাহ মাঠ থেকে গণমিছিলটি শুরু হয়ে প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে মিল্কি রিসোর্টের সামনে আয়োজিত সমাবেশে মিলিত হয়। কক্সবাজার জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা নুর আহমদ আনোয়ারী গণমিছিলে নেতৃত্ব দেন। এ ছাড়া ১১ দলীয় ঐক্যের উপজেলা পর্যায়ের শীর্ষ নেতারাও গণমিছিল ও সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন।

গণমিছিল-পরবর্তী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কক্সবাজার জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা নুর আহমদ আনোয়ারী বলেন, “বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার এক ঐতিহাসিক দলিলের নাম জুলাই। জুলাইকে মুছে দেওয়ার চেষ্টা অনেকেই করেছে, কিন্তু কেউ সফল হতে পারেনি। যারা জুলাইকে মুছে দেওয়ার অপচেষ্টা করবে, তারাই ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হবে।”

তিনি আরও বলেন, “সরকারের প্রতি আমাদের আহ্বান—পুরোনো ফ্যাসিবাদের পথে না হেঁটে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাকে সমুন্নত রাখুন এবং শহীদদের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্যে গণরায়ের প্রতি সম্মান জানিয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করুন। একই সঙ্গে জুলাই গণহত্যার সঙ্গে জড়িতদের বিচার নিশ্চিত করতে হবে। জুলাইয়ের চেতনায় নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ এবং জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের প্রশ্নে কোনো ধরনের আপস চলবে না।”

মিছিল-পরবর্তী সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন টেকনাফ উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা রফিকুল্লাহ। উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি ও যুব বিভাগের সভাপতি সরওয়ার কামাল সিকদার এবং পৌর জামায়াতের সভাপতি রবিউল আলমের সঞ্চালনায় সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কক্সবাজার জেলা জামায়াতে ইসলামীর সমাজকল্যাণ সম্পাদক অধ্যক্ষ নুরুল হোসাইন ছিদ্দিকী, টেকনাফ পৌরসভার সাবেক ভারপ্রাপ্ত মেয়র মোহাম্মদ ইসমাইল, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) টেকনাফ উপজেলা প্রধান সমন্বয়ক সায়েম সিকদার, যুগ্ম সিনিয়র সমন্বয়ক বাহা উদ্দিন, উপজেলা জামায়াতের সাংগঠনিক সম্পাদক ও হ্নীলা ইউনিয়ন আমীর মাওলানা গিয়াস উদ্দিন, উপজেলা জামায়াতের অর্থ সম্পাদক ও হোয়াইক্যং ইউনিয়ন আমীর মুহাম্মদ হোসাইন, সদর ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি ও সাবেক জেলা শিবির সভাপতি আব্দুর রহিম নূরী, টেকনাফ উপজেলা শিবিরের সভাপতি শাহ কামাল শাফি, বাহারছড়া ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি মোহাম্মদ ইসলাম, জাতীয় নাগরিক পার্টির কক্সবাজার জেলা যুগ্ম সদস্যসচিব রফিকুল ইসলাম, যুবশক্তি টেকনাফের আহ্বায়ক আর. কে. রায়হান এবং জিয়াউল হক প্রমুখ।

সমাবেশে ১১ দলীয় ঐক্যের অন্যান্য নেতারা বলেন, “একটি গণতান্ত্রিক, বৈষম্যহীন ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে আমাদের সন্তানেরা রাজপথে নেমেছিল। তাঁদের আত্মত্যাগ দেশের ইতিহাসে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। শহীদদের আকাঙ্ক্ষার নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ না হওয়া পর্যন্ত ১১ দলীয় ঐক্য রাজপথে থাকবে।”