১২:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভিসা ছাড়াই পায়ে হেঁটে হজে যাওয়ার পথে সিংড়ার দিনমজুর দুলাল

 

মোঃ ইব্রাহিম আলী, সিংড়া (নাটোর) প্রতিনিধি:
পাসপোর্ট আছে, সঙ্গে রয়েছে জাতীয় পরিচয়পত্র ও স্থানীয় চেয়ারম্যানের দেওয়া নাগরিকত্ব সনদ। তবে নেই কোনো ভিসা। তবুও অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও আল্লাহর ওপর ভরসা করে পায়ে হেঁটে পবিত্র হজ পালনের উদ্দেশ্যে মক্কার পথে রওনা হয়েছেন নাটোরের সিংড়ার দিনমজুর দুলাল হোসেন (৩৫)।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকাল ৮টায় উপজেলার ২ নং ডাহিয়া ইউনিয়নের তাড়াই বড়ইচড়া গ্রাম থেকে স্বজন ও এলাকাবাসীর কাছ থেকে বিদায় নিয়ে দীর্ঘ এই যাত্রা শুরু করেন তিনি। দুলাল ওই গ্রামের মৃত মকছেদ আলীর ছেলে।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় আড়াই মাস আগে গ্রামের একটি চায়ের দোকানে সাধারণ আলাপচারিতার সময় পায়ে হেঁটে হজ পালনের ইচ্ছার কথা জানান দুলাল। এরপর থেকেই তিনি দীর্ঘ এই যাত্রার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করতে থাকেন।

যাত্রার সময় তাঁর ব্যাগে ছিল পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্র, অল্প কিছু টাকা, শুকনো খাবার, প্রয়োজনীয় পোশাক এবং প্রতীকী হিসেবে এক টুকরো সাদা কাফনের কাপড়। যাত্রা শুরুর আগে স্বজন ও এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে একটি দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেন তিনি। পরে সবার কাছে ক্ষমা চেয়ে বিদায় নেন।

পেশায় ভূমিহীন ও দিনমজুর দুলাল হোসেন জানান, আর্থিক সংকটের কারণে ভিসা করার মতো টাকা তাঁর ছিল না। নিজের কষ্টার্জিত ও জমানো অর্থ দিয়ে কেবল পাসপোর্ট তৈরি করতে পেরেছেন তিনি।

দুলাল হোসেন বলেন, “টাকার অভাবে ভিসা করতে পারিনি। তবে মনে তীব্র ইচ্ছা ছিল। তাই আল্লাহর ওপর ভরসা করে বের হয়ে পড়েছি। সরকারের কাছে আমার আকুল আবেদন, আমাকে যেন একটি ভিসার ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়, যাতে আমি সুস্থভাবে পায়ে হেঁটে হজ পালন শেষে আবার দেশে ফিরতে পারি।”

ভিসা ছাড়া এভাবে পায়ে হেঁটে হজের উদ্দেশ্যে যাত্রা করায় স্থানীয়দের মধ্যে একদিকে আবেগ ও কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে, অন্যদিকে বিষয়টি নিয়ে চলছে নানা আলোচনা ও সমালোচনা। একজন সাধারণ দিনমজুরের এমন দুঃসাহসিক ও ঝুঁকিপূর্ণ উদ্যোগ এখন পুরো সিংড়া উপজেলায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গুলশানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল, ৫ দিন পর ওসি বদলি

ভিসা ছাড়াই পায়ে হেঁটে হজে যাওয়ার পথে সিংড়ার দিনমজুর দুলাল

Update Time : ০৫:০৪:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬

 

মোঃ ইব্রাহিম আলী, সিংড়া (নাটোর) প্রতিনিধি:
পাসপোর্ট আছে, সঙ্গে রয়েছে জাতীয় পরিচয়পত্র ও স্থানীয় চেয়ারম্যানের দেওয়া নাগরিকত্ব সনদ। তবে নেই কোনো ভিসা। তবুও অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও আল্লাহর ওপর ভরসা করে পায়ে হেঁটে পবিত্র হজ পালনের উদ্দেশ্যে মক্কার পথে রওনা হয়েছেন নাটোরের সিংড়ার দিনমজুর দুলাল হোসেন (৩৫)।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকাল ৮টায় উপজেলার ২ নং ডাহিয়া ইউনিয়নের তাড়াই বড়ইচড়া গ্রাম থেকে স্বজন ও এলাকাবাসীর কাছ থেকে বিদায় নিয়ে দীর্ঘ এই যাত্রা শুরু করেন তিনি। দুলাল ওই গ্রামের মৃত মকছেদ আলীর ছেলে।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় আড়াই মাস আগে গ্রামের একটি চায়ের দোকানে সাধারণ আলাপচারিতার সময় পায়ে হেঁটে হজ পালনের ইচ্ছার কথা জানান দুলাল। এরপর থেকেই তিনি দীর্ঘ এই যাত্রার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করতে থাকেন।

যাত্রার সময় তাঁর ব্যাগে ছিল পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্র, অল্প কিছু টাকা, শুকনো খাবার, প্রয়োজনীয় পোশাক এবং প্রতীকী হিসেবে এক টুকরো সাদা কাফনের কাপড়। যাত্রা শুরুর আগে স্বজন ও এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে একটি দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেন তিনি। পরে সবার কাছে ক্ষমা চেয়ে বিদায় নেন।

পেশায় ভূমিহীন ও দিনমজুর দুলাল হোসেন জানান, আর্থিক সংকটের কারণে ভিসা করার মতো টাকা তাঁর ছিল না। নিজের কষ্টার্জিত ও জমানো অর্থ দিয়ে কেবল পাসপোর্ট তৈরি করতে পেরেছেন তিনি।

দুলাল হোসেন বলেন, “টাকার অভাবে ভিসা করতে পারিনি। তবে মনে তীব্র ইচ্ছা ছিল। তাই আল্লাহর ওপর ভরসা করে বের হয়ে পড়েছি। সরকারের কাছে আমার আকুল আবেদন, আমাকে যেন একটি ভিসার ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়, যাতে আমি সুস্থভাবে পায়ে হেঁটে হজ পালন শেষে আবার দেশে ফিরতে পারি।”

ভিসা ছাড়া এভাবে পায়ে হেঁটে হজের উদ্দেশ্যে যাত্রা করায় স্থানীয়দের মধ্যে একদিকে আবেগ ও কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে, অন্যদিকে বিষয়টি নিয়ে চলছে নানা আলোচনা ও সমালোচনা। একজন সাধারণ দিনমজুরের এমন দুঃসাহসিক ও ঝুঁকিপূর্ণ উদ্যোগ এখন পুরো সিংড়া উপজেলায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।