১১:০৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

টিআর-কাবিখা প্রকল্পে বদলে যাচ্ছে নেছারাবাদের প্রত্যন্ত জনপদ

 

আজিজুল ইসলাম, (পিরোজপুর) প্রতিনিধি:

পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার উন্নয়নবঞ্চিত ও অবহেলিত ইউনিয়নগুলোর প্রত্যন্ত এলাকায় গ্রামীণ সড়ক যোগাযোগে দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে। যে সড়কগুলোতে একসময় বর্ষা মৌসুমে হাঁটুসমান কাদা মাড়িয়ে চলাচল করতে হতো, সেগুলো এখন ইটসলিং হয়ে যানবাহন চলাচলের উপযোগী হয়েছে। অটোরিকশা, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহন সহজেই চলাচল করছে এসব সড়কে। সরকারের টিআর, কাবিখা ও কাবিটা কর্মসূচির আওতায় বাস্তবায়িত উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে এ পরিবর্তন এসেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের দাবি, পিরোজপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও গৃহায়ন এবং গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহমদ সোহেল মনজুরের নির্দেশনা ও তদারকিতে সরকারি বরাদ্দের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত হওয়ায় উপজেলার গ্রামীণ সড়ক ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। একসময় টিআর, কাবিখা ও কাবিটা প্রকল্পের নাম শুনলেও প্রত্যন্ত এলাকার মানুষ এর বাস্তব সুফল তেমনভাবে পেত না। বর্তমানে এসব প্রকল্পের মাধ্যমে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের অবহেলিত সড়ক ও অবকাঠামো উন্নয়ন দৃশ্যমান হয়েছে।

উপকারভোগীরা জানান, একসময় যেসব রাস্তা ছিল দুর্ভোগের প্রতীক, সেগুলো এখন যাতায়াতের জন্য নিরাপদ ও সহজ হয়েছে। ফলে শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষের চলাচল যেমন সহজ হয়েছে, তেমনি গ্রামীণ অর্থনীতি ও যোগাযোগ ব্যবস্থায়ও ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

সমুদয়কাঠি ইউনিয়নের শেহাংগল গ্রামের বাসিন্দা মো. শাহ আলম বলেন, তাঁদের বাজারের ভেতরের রাস্তাটি দীর্ঘ বছর জরাজীর্ণ ছিল। বিভিন্ন দপ্তরে ধর্ণা দিয়েও শুধু আশ্বাস মিলেছিল। অবশেষে ২০২৫–২৬ অর্থবছরে টিআর-কাবিখা প্রকল্পের আওতায় রাস্তাটি ইটসলিং করা হয়েছে। এখন সহজেই অটোরিকশা চলাচল করছে। তিনি বলেন, আগে টিআর-কাবিখা বলতে শুধু নামই শুনতাম, এখন এর বাস্তব সুফল নিজের চোখে দেখছি।

জলাবাড়ী ইউনিয়নের স্থানীয় বাসিন্দা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ইদেলকাঠি বড় ব্রিজের নিচ থেকে ব্রাহ্মণকাঠি বিদ্যালয় অভিমুখী সড়কটি দীর্ঘদিন ইটসলিং না থাকায় মানুষের চরম দুর্ভোগ ছিল। জরাজীর্ণ ওই রাস্তা দিয়ে হেঁটে হাট-বাজারে যাতায়াত করতে হতো এবং শিক্ষার্থীদের স্কুলে যেতে ভোগান্তি পোহাতে হতো। টিআর-কাবিখা প্রকল্পের আওতায় সড়কটির উন্নয়ন হওয়ায় এলাকাবাসী এখন স্বস্তি পেয়েছে।

বলদিয়া ইউনিয়নে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘সবার আগে বলদিয়া’-এর সাধারণ সম্পাদক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ইউনিয়নের অধিকাংশ গ্রামীণ সড়ক দীর্ঘদিন বেহাল ছিল। সরকারি বরাদ্দের মাধ্যমে বিভিন্ন সড়কের উন্নয়ন হওয়ায় শিক্ষার্থী, কৃষক ও অসুস্থ রোগীদের চলাচল অনেক সহজ হয়েছে।

সমুদয়কাঠি ইউনিয়নের মৈশানি গ্রামের ইউপি সদস্য মো. রুবেল গাজী বলেন, রফিক ডাকুয়ার বাড়ি থেকে উমেশ হালদারের বাড়ি পর্যন্ত সড়কটি দীর্ঘদিন অবহেলিত ছিল। বর্ষাকালে হাঁটুসমান কাদা মাড়িয়ে চলতে হতো। ২০২৫–২৬ অর্থবছরে টিআর-কাবিখা প্রকল্পের আওতায় সড়কটি ইটসলিং হওয়ায় এখন মানুষের দুর্ভোগ অনেকটাই কমেছে। সরকারি বরাদ্দের সঠিক ব্যবহারের ফলে গ্রামের মানুষ বাস্তব সুফল পাচ্ছেন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

নেছারাবাদ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান জানান, সংসদ সদস্য ও গৃহায়ন এবং গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহমদ সোহেল মনজুরের বরাদ্দে উপজেলার গ্রামীণ সড়ক ও অবকাঠামোতে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। তাঁর দেওয়া প্রকল্পের আওতায় উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে ১১৯টি পাকা সড়ক, ৩টি কাঁচা সড়কের উন্নয়ন, ১৪টি প্রতিষ্ঠানে বালু ভরাট ও সোলার স্থাপন, ৪২টি স্থানে গভীর নলকূপ, পুল নির্মাণ, সংস্কার ও মেরামতের কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, এ ধরনের উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে নেছারাবাদের ১০টি ইউনিয়নের প্রত্যন্ত গ্রামেও টেকসই যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে উঠবে এবং গ্রামীণ জনজীবনের উন্নয়ন আরও বেগবান হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গুলশানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল, ৫ দিন পর ওসি বদলি

টিআর-কাবিখা প্রকল্পে বদলে যাচ্ছে নেছারাবাদের প্রত্যন্ত জনপদ

Update Time : ০৪:৩৫:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

 

আজিজুল ইসলাম, (পিরোজপুর) প্রতিনিধি:

পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার উন্নয়নবঞ্চিত ও অবহেলিত ইউনিয়নগুলোর প্রত্যন্ত এলাকায় গ্রামীণ সড়ক যোগাযোগে দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে। যে সড়কগুলোতে একসময় বর্ষা মৌসুমে হাঁটুসমান কাদা মাড়িয়ে চলাচল করতে হতো, সেগুলো এখন ইটসলিং হয়ে যানবাহন চলাচলের উপযোগী হয়েছে। অটোরিকশা, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহন সহজেই চলাচল করছে এসব সড়কে। সরকারের টিআর, কাবিখা ও কাবিটা কর্মসূচির আওতায় বাস্তবায়িত উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে এ পরিবর্তন এসেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের দাবি, পিরোজপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও গৃহায়ন এবং গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহমদ সোহেল মনজুরের নির্দেশনা ও তদারকিতে সরকারি বরাদ্দের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত হওয়ায় উপজেলার গ্রামীণ সড়ক ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। একসময় টিআর, কাবিখা ও কাবিটা প্রকল্পের নাম শুনলেও প্রত্যন্ত এলাকার মানুষ এর বাস্তব সুফল তেমনভাবে পেত না। বর্তমানে এসব প্রকল্পের মাধ্যমে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের অবহেলিত সড়ক ও অবকাঠামো উন্নয়ন দৃশ্যমান হয়েছে।

উপকারভোগীরা জানান, একসময় যেসব রাস্তা ছিল দুর্ভোগের প্রতীক, সেগুলো এখন যাতায়াতের জন্য নিরাপদ ও সহজ হয়েছে। ফলে শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষের চলাচল যেমন সহজ হয়েছে, তেমনি গ্রামীণ অর্থনীতি ও যোগাযোগ ব্যবস্থায়ও ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

সমুদয়কাঠি ইউনিয়নের শেহাংগল গ্রামের বাসিন্দা মো. শাহ আলম বলেন, তাঁদের বাজারের ভেতরের রাস্তাটি দীর্ঘ বছর জরাজীর্ণ ছিল। বিভিন্ন দপ্তরে ধর্ণা দিয়েও শুধু আশ্বাস মিলেছিল। অবশেষে ২০২৫–২৬ অর্থবছরে টিআর-কাবিখা প্রকল্পের আওতায় রাস্তাটি ইটসলিং করা হয়েছে। এখন সহজেই অটোরিকশা চলাচল করছে। তিনি বলেন, আগে টিআর-কাবিখা বলতে শুধু নামই শুনতাম, এখন এর বাস্তব সুফল নিজের চোখে দেখছি।

জলাবাড়ী ইউনিয়নের স্থানীয় বাসিন্দা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ইদেলকাঠি বড় ব্রিজের নিচ থেকে ব্রাহ্মণকাঠি বিদ্যালয় অভিমুখী সড়কটি দীর্ঘদিন ইটসলিং না থাকায় মানুষের চরম দুর্ভোগ ছিল। জরাজীর্ণ ওই রাস্তা দিয়ে হেঁটে হাট-বাজারে যাতায়াত করতে হতো এবং শিক্ষার্থীদের স্কুলে যেতে ভোগান্তি পোহাতে হতো। টিআর-কাবিখা প্রকল্পের আওতায় সড়কটির উন্নয়ন হওয়ায় এলাকাবাসী এখন স্বস্তি পেয়েছে।

বলদিয়া ইউনিয়নে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘সবার আগে বলদিয়া’-এর সাধারণ সম্পাদক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ইউনিয়নের অধিকাংশ গ্রামীণ সড়ক দীর্ঘদিন বেহাল ছিল। সরকারি বরাদ্দের মাধ্যমে বিভিন্ন সড়কের উন্নয়ন হওয়ায় শিক্ষার্থী, কৃষক ও অসুস্থ রোগীদের চলাচল অনেক সহজ হয়েছে।

সমুদয়কাঠি ইউনিয়নের মৈশানি গ্রামের ইউপি সদস্য মো. রুবেল গাজী বলেন, রফিক ডাকুয়ার বাড়ি থেকে উমেশ হালদারের বাড়ি পর্যন্ত সড়কটি দীর্ঘদিন অবহেলিত ছিল। বর্ষাকালে হাঁটুসমান কাদা মাড়িয়ে চলতে হতো। ২০২৫–২৬ অর্থবছরে টিআর-কাবিখা প্রকল্পের আওতায় সড়কটি ইটসলিং হওয়ায় এখন মানুষের দুর্ভোগ অনেকটাই কমেছে। সরকারি বরাদ্দের সঠিক ব্যবহারের ফলে গ্রামের মানুষ বাস্তব সুফল পাচ্ছেন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

নেছারাবাদ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান জানান, সংসদ সদস্য ও গৃহায়ন এবং গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহমদ সোহেল মনজুরের বরাদ্দে উপজেলার গ্রামীণ সড়ক ও অবকাঠামোতে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। তাঁর দেওয়া প্রকল্পের আওতায় উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে ১১৯টি পাকা সড়ক, ৩টি কাঁচা সড়কের উন্নয়ন, ১৪টি প্রতিষ্ঠানে বালু ভরাট ও সোলার স্থাপন, ৪২টি স্থানে গভীর নলকূপ, পুল নির্মাণ, সংস্কার ও মেরামতের কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, এ ধরনের উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে নেছারাবাদের ১০টি ইউনিয়নের প্রত্যন্ত গ্রামেও টেকসই যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে উঠবে এবং গ্রামীণ জনজীবনের উন্নয়ন আরও বেগবান হবে।