১০:২২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইটভাটার ধোঁয়ায় বিপর্যস্ত জনজীবন, ফসল রক্ষায় পরিবেশ অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ

 

বগুড়া জেলা প্রতিনিধিঃ বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার চকপাড়া এলাকায় মেসার্স সুপার এস,আর,বি ব্রিকস নামক একটি ইটভাটার ধোঁয়া, ছাই ও বর্জ্যে পরিবেশ দূষণ এবং কৃষিজমির ফসল নষ্ট হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বগুড়া জেলা প্রশাসক ও পরিবেশ অধিদপ্তর বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন এলাকাবাসী।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বগুড়া-রংপুর মহাসড়কের কাগইল রাস্তার মোড় (চকপাড়া) এলাকায় অবস্থিত এস,আর,বি ইটভাটা থেকে নির্গত ধোঁয়া, ধুলা ও কালো ছাই আশপাশের পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত করছে। ইটভাটার কারণে পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। এতে প্রায় শতাধিক বিঘা জমি অনাবাদি হয়ে পড়েছে।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, এলাকায় একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থাকলেও বায়ুদূষণের কারণে শিক্ষার্থীরা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছে। ধোঁয়া ও ধুলাবালির কারণে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে এবং অনেকেই বিভিন্ন রোগে ভুগছেন।

চকপাড়া গ্রামের কৃষক সরোয়ার ইসলাম স্বপন, জাহিদুল ইসলাম রতন, খোকা মিয়াসহ অনেকেই অভিযোগ করে বলেন, ইটভাটার কালো ধোঁয়া ও ছাই কৃষিজমিতে পড়ে ফসল নষ্ট করছে। ফলে কৃষকরা ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। একই সঙ্গে ধোঁয়া ও ধুলাবালির কারণে শিশু ও বৃদ্ধসহ অনেকেই শ্বাসকষ্ট, হাঁপানিসহ বিভিন্ন শ্বাসজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।

এদিকে বুধবার (৪ মার্চ) বিকেলে অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সরেজমিন পরিদর্শন করতে যান বগুড়া পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মাহমুদুল হাসান। এসময় তিনি সাংবাদিকদের উপস্থিতি দেখে বিচলিত হয়ে পরেন এবং অসদাচার করে বলেন যে, এখানে সাংবাদিক কেন আসবে? সাংবাদিকের প্রয়োজন নাই।
একপর্যায়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের ওই কর্মকর্তা অভিযোগকারী স্বপন নামে এক ব্যক্তির ওপর উত্তেজিত হয়ে বলেন, একটা ইটভাটা তো হঠাৎ করে গড়ে ওঠে না। এজন্য ইটভাটা তুলে দেওয়া সম্ভব নয়। এসময় ইট ভাটার মালিকের পালিত  কিছু লোকজন অভিযোগকারী স্বপনকে মারপিটের জন্য তার দিকে তেড়ে যায় এবং তার সাথে ধস্তাধস্তিও হয়।

এবিষয়ে কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি ইটভাটা পরিদর্শন করতে আসা পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মাহমুদুল হাসান। ইটভাটার মালিক আতিকুর রহমান বাদলের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেনি।

বগুড়া জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান বলেন,ইতোমধ্যে জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কয়েকটি অবৈধ ইটভাটা ভেঙ্গে দেওয়া হয়েছে। এসব বিষয় প্রশাসনের নজরদারিতে রয়েছে এবং পরিবেশ রক্ষায় এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গুলশানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল, ৫ দিন পর ওসি বদলি

ইটভাটার ধোঁয়ায় বিপর্যস্ত জনজীবন, ফসল রক্ষায় পরিবেশ অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ

Update Time : ০১:১০:৪৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ মার্চ ২০২৬

 

বগুড়া জেলা প্রতিনিধিঃ বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার চকপাড়া এলাকায় মেসার্স সুপার এস,আর,বি ব্রিকস নামক একটি ইটভাটার ধোঁয়া, ছাই ও বর্জ্যে পরিবেশ দূষণ এবং কৃষিজমির ফসল নষ্ট হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বগুড়া জেলা প্রশাসক ও পরিবেশ অধিদপ্তর বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন এলাকাবাসী।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বগুড়া-রংপুর মহাসড়কের কাগইল রাস্তার মোড় (চকপাড়া) এলাকায় অবস্থিত এস,আর,বি ইটভাটা থেকে নির্গত ধোঁয়া, ধুলা ও কালো ছাই আশপাশের পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত করছে। ইটভাটার কারণে পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। এতে প্রায় শতাধিক বিঘা জমি অনাবাদি হয়ে পড়েছে।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, এলাকায় একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থাকলেও বায়ুদূষণের কারণে শিক্ষার্থীরা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছে। ধোঁয়া ও ধুলাবালির কারণে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে এবং অনেকেই বিভিন্ন রোগে ভুগছেন।

চকপাড়া গ্রামের কৃষক সরোয়ার ইসলাম স্বপন, জাহিদুল ইসলাম রতন, খোকা মিয়াসহ অনেকেই অভিযোগ করে বলেন, ইটভাটার কালো ধোঁয়া ও ছাই কৃষিজমিতে পড়ে ফসল নষ্ট করছে। ফলে কৃষকরা ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। একই সঙ্গে ধোঁয়া ও ধুলাবালির কারণে শিশু ও বৃদ্ধসহ অনেকেই শ্বাসকষ্ট, হাঁপানিসহ বিভিন্ন শ্বাসজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।

এদিকে বুধবার (৪ মার্চ) বিকেলে অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সরেজমিন পরিদর্শন করতে যান বগুড়া পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মাহমুদুল হাসান। এসময় তিনি সাংবাদিকদের উপস্থিতি দেখে বিচলিত হয়ে পরেন এবং অসদাচার করে বলেন যে, এখানে সাংবাদিক কেন আসবে? সাংবাদিকের প্রয়োজন নাই।
একপর্যায়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের ওই কর্মকর্তা অভিযোগকারী স্বপন নামে এক ব্যক্তির ওপর উত্তেজিত হয়ে বলেন, একটা ইটভাটা তো হঠাৎ করে গড়ে ওঠে না। এজন্য ইটভাটা তুলে দেওয়া সম্ভব নয়। এসময় ইট ভাটার মালিকের পালিত  কিছু লোকজন অভিযোগকারী স্বপনকে মারপিটের জন্য তার দিকে তেড়ে যায় এবং তার সাথে ধস্তাধস্তিও হয়।

এবিষয়ে কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি ইটভাটা পরিদর্শন করতে আসা পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মাহমুদুল হাসান। ইটভাটার মালিক আতিকুর রহমান বাদলের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেনি।

বগুড়া জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান বলেন,ইতোমধ্যে জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কয়েকটি অবৈধ ইটভাটা ভেঙ্গে দেওয়া হয়েছে। এসব বিষয় প্রশাসনের নজরদারিতে রয়েছে এবং পরিবেশ রক্ষায় এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।