০৭:৩৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যশোর সদর উপজেলার কাশিমপুর ইউনিয়নে কৃষি সম্ভাবনা ভেস্তে দিতে বসেছে কৃষি কর্মকর্তাদের উদাসীনতায় ক্ষুব্ধ প্রান্তিক কৃষকরা

 

​নিজস্ব প্রতিবেদক

যশোরের কাশিমপুর ইউনিয়ন এলাকায় অন্যতম সম্ভাবনাময় কৃষি তবে এই অঞ্চলের কৃষি খাত যখন সম্ভাবনার নতুন দুয়ার উন্মোচনের অপেক্ষায়, ঠিক তখনই উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা (ব্লক সুপারভাইজার) ও মাঠপর্যায়ের কৃষি কর্মীদের চরম অবহেলা ও উদাসীনতায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় কৃষকরা।

​নিয়ম অনুযায়ী, মাঠপর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তাদের নিয়মিত মাঠে গিয়ে প্রান্তিক কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া, সরকারের নানা সহায়তা পৌঁছে দেওয়া এবং সরাসরি তদারকি করার কথা।

কিন্তু কাশিমপুর ইউনিয়নে দেখা গেছে তার উল্টো চিত্র। অভিযোগ রয়েছে, কৃষি কর্মকর্তারা মাঠে আসার পরিবর্তে ফোনে কিংবা দু-একজনের সাথে যোগাযোগ করেই খাতাকলমে নিজেদের দায়িত্ব শেষ করেন।

অনেক এলাকার সাধারণ ও প্রান্তিক কৃষকরা আজও চেনেন না, তাদের ব্লকের দায়িত্বরত কৃষি কর্মকর্তাকে।

​স্থানীয়দের অভিযোগ, কর্মকর্তাদের আনাগোনা মূলত সীমাবদ্ধ থাকে কিছু দলীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি ও স্থানীয় সার-বীজ ডিলারদের কাছেই। ইউনিয়নে সরকারি অফিসে বসার উপযুক্ত জায়গা থাকা সত্ত্বেও সেখানে তাদের নিয়মিত উপস্থিতি মেলে না।

উপরন্তু, ভুয়া তথ্য ও হাতে গোনা কয়েকজন ‘নামধারী’ কৃষকের তথ্য সংগ্রহ করে অফিসিয়াল রিপোর্ট সাজানো হয়। এমনকি জমিজমা নেই—এমন ব্যক্তিকেও কৃষি প্রণোদনা দেওয়ার নজির রয়েছে, যা পরবর্তীতে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সচেতন মহলের মতে, উপজেলা কৃষি অফিসের মাঠপর্যায়ে কোনো শক্ত মনিটরিং না থাকায় এ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ করেন।

​ কৃষকরা বলেন”আমাদের জমিতে কী পোকা লাগলো কোন সার কখন দেওয়া লাগবে—এসব বিষয়ে কোনো পরামর্শ পাই না। অফিসারদের শুধু কাগজেই দেখি, মাঠে তাদের তেমন একটা নামতে দেখি না। ফোনের মাধ্যমে কাজ সেরে নেন তারা।

সার-বীজের প্রণোদনা প্রকৃত কৃষকরা না পেয়ে পায় প্রভাবশালী ও তাদের পরিচিত লোকজন।এবং কিছু মাঠ ব্লোক আছে তাদের কে সময় দিয়েই চলে যায়।

যার জমিই নেই, সেও প্রণোদনার সার পেয়ে বিক্রি করে দিচ্ছে! আমরা চাই কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত মাঠে আসুক এবং আমাদের পাশে দাঁড়ান।

​উপসহকারী কৃষি অফিসার অনুপ কুমার কাশিমপুর ইউনিয়নের ৪,৫,৬ নং ওয়ার্ড এর দায়িত্বে আছেন – ফোন দিয়ে তাকে সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ায় তিনি খুব ব্যাস্থতা দেখিয়ে বলেন আমি সরকারি কাজে ব্যাস্থ আছি যা জানার পরে ফোন দিয়ে জেনে নিবেন।

এ বিষয় উপসহকারী কৃষি অফিসার সপ্না মল্লিক কে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন আমি এখানে এসেছি ৫ মাস হয় এত বড় জায়গায় সকল কৃষকের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

পূর্বে ব্লোক সুপারভাইজারদের ফনিক্স সাইকেল ছিল তারা সকল কৃষকদের সাথে যোগাযোগ করতে পারত,এখন আমাদের ইউনিয়ন অফিসে নির্দিষ্ট জায়গা আছে ফোন নাম্বার আছে তারা চাইলে যোগাযোগ করতে পারে।কৃষকরা আমাদের ডাকলে অবশ্যই তাদের কাছে যাব। এই উপসহকারী কৃষি অফিসার স্বপ্না মল্লিক যে ভাবে কথা গুলো বলেছেন তাতে মনে হয়, কৃষক তাদের কাছে জিম্মি।

সদর ​উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রাজিয়া সুলতানা কে একাধিক বার মুঠোফোনে কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেন নাই।

​উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ শাহরিয়ার হক বলেন কৃষকদের একটু আমাদের সাথে যোগাযোগ করতে বলুন তাদের কি অভিযোগ বা কি দাবি সেটা জেনে ব্যাবস্থা নেয়া হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গুলশানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল, ৫ দিন পর ওসি বদলি

যশোর সদর উপজেলার কাশিমপুর ইউনিয়নে কৃষি সম্ভাবনা ভেস্তে দিতে বসেছে কৃষি কর্মকর্তাদের উদাসীনতায় ক্ষুব্ধ প্রান্তিক কৃষকরা

Update Time : ০৩:৫৬:৩২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬

 

​নিজস্ব প্রতিবেদক

যশোরের কাশিমপুর ইউনিয়ন এলাকায় অন্যতম সম্ভাবনাময় কৃষি তবে এই অঞ্চলের কৃষি খাত যখন সম্ভাবনার নতুন দুয়ার উন্মোচনের অপেক্ষায়, ঠিক তখনই উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা (ব্লক সুপারভাইজার) ও মাঠপর্যায়ের কৃষি কর্মীদের চরম অবহেলা ও উদাসীনতায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় কৃষকরা।

​নিয়ম অনুযায়ী, মাঠপর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তাদের নিয়মিত মাঠে গিয়ে প্রান্তিক কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া, সরকারের নানা সহায়তা পৌঁছে দেওয়া এবং সরাসরি তদারকি করার কথা।

কিন্তু কাশিমপুর ইউনিয়নে দেখা গেছে তার উল্টো চিত্র। অভিযোগ রয়েছে, কৃষি কর্মকর্তারা মাঠে আসার পরিবর্তে ফোনে কিংবা দু-একজনের সাথে যোগাযোগ করেই খাতাকলমে নিজেদের দায়িত্ব শেষ করেন।

অনেক এলাকার সাধারণ ও প্রান্তিক কৃষকরা আজও চেনেন না, তাদের ব্লকের দায়িত্বরত কৃষি কর্মকর্তাকে।

​স্থানীয়দের অভিযোগ, কর্মকর্তাদের আনাগোনা মূলত সীমাবদ্ধ থাকে কিছু দলীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি ও স্থানীয় সার-বীজ ডিলারদের কাছেই। ইউনিয়নে সরকারি অফিসে বসার উপযুক্ত জায়গা থাকা সত্ত্বেও সেখানে তাদের নিয়মিত উপস্থিতি মেলে না।

উপরন্তু, ভুয়া তথ্য ও হাতে গোনা কয়েকজন ‘নামধারী’ কৃষকের তথ্য সংগ্রহ করে অফিসিয়াল রিপোর্ট সাজানো হয়। এমনকি জমিজমা নেই—এমন ব্যক্তিকেও কৃষি প্রণোদনা দেওয়ার নজির রয়েছে, যা পরবর্তীতে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সচেতন মহলের মতে, উপজেলা কৃষি অফিসের মাঠপর্যায়ে কোনো শক্ত মনিটরিং না থাকায় এ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ করেন।

​ কৃষকরা বলেন”আমাদের জমিতে কী পোকা লাগলো কোন সার কখন দেওয়া লাগবে—এসব বিষয়ে কোনো পরামর্শ পাই না। অফিসারদের শুধু কাগজেই দেখি, মাঠে তাদের তেমন একটা নামতে দেখি না। ফোনের মাধ্যমে কাজ সেরে নেন তারা।

সার-বীজের প্রণোদনা প্রকৃত কৃষকরা না পেয়ে পায় প্রভাবশালী ও তাদের পরিচিত লোকজন।এবং কিছু মাঠ ব্লোক আছে তাদের কে সময় দিয়েই চলে যায়।

যার জমিই নেই, সেও প্রণোদনার সার পেয়ে বিক্রি করে দিচ্ছে! আমরা চাই কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত মাঠে আসুক এবং আমাদের পাশে দাঁড়ান।

​উপসহকারী কৃষি অফিসার অনুপ কুমার কাশিমপুর ইউনিয়নের ৪,৫,৬ নং ওয়ার্ড এর দায়িত্বে আছেন – ফোন দিয়ে তাকে সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ায় তিনি খুব ব্যাস্থতা দেখিয়ে বলেন আমি সরকারি কাজে ব্যাস্থ আছি যা জানার পরে ফোন দিয়ে জেনে নিবেন।

এ বিষয় উপসহকারী কৃষি অফিসার সপ্না মল্লিক কে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন আমি এখানে এসেছি ৫ মাস হয় এত বড় জায়গায় সকল কৃষকের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

পূর্বে ব্লোক সুপারভাইজারদের ফনিক্স সাইকেল ছিল তারা সকল কৃষকদের সাথে যোগাযোগ করতে পারত,এখন আমাদের ইউনিয়ন অফিসে নির্দিষ্ট জায়গা আছে ফোন নাম্বার আছে তারা চাইলে যোগাযোগ করতে পারে।কৃষকরা আমাদের ডাকলে অবশ্যই তাদের কাছে যাব। এই উপসহকারী কৃষি অফিসার স্বপ্না মল্লিক যে ভাবে কথা গুলো বলেছেন তাতে মনে হয়, কৃষক তাদের কাছে জিম্মি।

সদর ​উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রাজিয়া সুলতানা কে একাধিক বার মুঠোফোনে কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেন নাই।

​উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ শাহরিয়ার হক বলেন কৃষকদের একটু আমাদের সাথে যোগাযোগ করতে বলুন তাদের কি অভিযোগ বা কি দাবি সেটা জেনে ব্যাবস্থা নেয়া হবে।