১০:২৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বারহাট্টায় মৃতকে জীবিত দেখিয়ে জমি দখলের অভিযোগ


‎ওমর ফারুক আহম্মদ (নেত্রকোণা) প্রতিনিধিঃ
নেত্রকোণা বারহাট্টা উপজেলা রায়পুর ‎২০১০ সালে মারা যাওয়া ব্যক্তিকে ২০১১ সালের দলিলে বিক্রেতা দেখানোর অভিযোগ।

‎”একজন মানুষ মারা গেছেন এক বছর আগেই। অথচ সেই মৃত ব্যক্তিকেই দেখানো হলো জীবিত। আর তার নামে হয়ে গেল জমি বিক্রির দলিল! সিনেমার গল্প নয়, এমনই চাঞ্চল্যকর জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে নেত্রকোণা বারহাট্টায় উপজেলা রায়পুর গ্রামে।

‎স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বারহাট্টা উপজেলার রায়পুর মৌজার ১৪ শতাংশ জমির প্রকৃত মালিক ছিলেন মুক্তুল হোসেন ও তাঁর স্ত্রী হাসনা বানু। নিঃসন্তান অবস্থায় দুজনের মৃত্যুর পর তাদের বৈধ ওয়ারিশরা জমির মালিকানা দাবি করেন।

‎কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, ২০১০ সালে মারা যাওয়া আব্দুর রহমানকে ২০১১ সালের একটি দলিলে জীবিত দেখিয়ে জমির বিক্রেতা বানানো হয়। একই দলিলে জীবিত নজরুল ইসলামকে বিক্রেতা দেখানো হলেও, তিনি নাকি এ বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে দাবি করা হয়েছে।

‎এই কথিত জাল দলিলের মাধ্যমে জমিটি নিজেদের নামে রেজিস্ট্রি করে নেন নেত্রকোণা খাদ্য পরিদর্শক দীপায়ন দত্ত মজুমদার ববি এবং তাঁর চাচাতো ভাই সুমন দত্ত মজুমদার। এ ঘটনায় প্রকৃত ওয়ারিশ জেসমিন আক্তার আদালতে মামলা দায়ের করেছেন।

‎ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, স্থানীয় ভূমি অফিস, দলিল লেখক ও তৎকালীন সাব-রেজিস্ট্রারের যোগসাজশে পুরো জালিয়াতির ঘটনাটি সংঘটিত হয়েছে। এমনকি সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের বাইরে একটি বাড়িতে বসেই দলিল সম্পাদনের অভিযোগও উঠেছে।

‎এদিকে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তাদের বক্তব্য সংরক্ষণ করতে গেলে সাংবাদিকদের টাকা দিয়ে ম্যানেজের চেষ্টা করে দিপায়ন দত্ত মজুমদার ববি।

‎মামলার বাদী জেসমিন আক্তার জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত প্রত্যেকের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। এখন দেখার বিষয়, আদালতের তদন্তে এই বহুল আলোচিত দলিল জালিয়াতির আসল রহস্য কতটা উন্মোচিত হয়।

নেত্রকোণা খাদ্য পরিদর্শক দীপায়ন দত্ত মজুমদার ববি বলেন-
ক্রয়কৃত জমি আমরা দুই ভাই কিনছি মুক্তুল হোসেন ওয়ারিশান বিআরএস উনার ভাগ্নেরা কাছ থেকে কিনেছি।
২০১১ সালে ছবি যুক্ত দলিল হয় বারহাট্টা সাব-রেজিস্ট্রারের অফিসে। জাল জালিয়াতি করার আসলেই কোনো সুযোগ নেই।আদালতে প্রমাণ সাপেক্ষে বিজ্ঞ বিচারক রায় না দেওয়া পর্যন্ত আইনের দৃষ্টিতে তা বৈধ দলিল। জাল প্রমাণ করতে হলে দেওয়ানি আদালতে দলিল বাতিলের মামলা করতে হবে। তখন জাল বলে গ্রহন যোগ্য হবে এর আগে না।

নেত্রকোণা বারহাট্টা উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রারের বলেন
জমি বা সম্পত্তির মালিকানা নিয়ে আদালতে মামলা চলমান থাকলে।তারা আইনগত বাধ্যবাধকতার কারণে আদালতের চূড়ান্ত রায় বা নির্দেশনার জন্য অপেক্ষা করেন।কোর্টের রায় পাওয়া গেলেই কেবল সেই অনুযায়ী পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা সম্ভব।

বারহাট্টা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ সাজেদুল ইসলাম বলেন -এর কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ে “জানা নেই তবে জেনে নিচ্ছি” তিনি তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি পরিষ্কার নন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গুলশানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল, ৫ দিন পর ওসি বদলি

বারহাট্টায় মৃতকে জীবিত দেখিয়ে জমি দখলের অভিযোগ

Update Time : ০৪:৩৯:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬


‎ওমর ফারুক আহম্মদ (নেত্রকোণা) প্রতিনিধিঃ
নেত্রকোণা বারহাট্টা উপজেলা রায়পুর ‎২০১০ সালে মারা যাওয়া ব্যক্তিকে ২০১১ সালের দলিলে বিক্রেতা দেখানোর অভিযোগ।

‎”একজন মানুষ মারা গেছেন এক বছর আগেই। অথচ সেই মৃত ব্যক্তিকেই দেখানো হলো জীবিত। আর তার নামে হয়ে গেল জমি বিক্রির দলিল! সিনেমার গল্প নয়, এমনই চাঞ্চল্যকর জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে নেত্রকোণা বারহাট্টায় উপজেলা রায়পুর গ্রামে।

‎স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বারহাট্টা উপজেলার রায়পুর মৌজার ১৪ শতাংশ জমির প্রকৃত মালিক ছিলেন মুক্তুল হোসেন ও তাঁর স্ত্রী হাসনা বানু। নিঃসন্তান অবস্থায় দুজনের মৃত্যুর পর তাদের বৈধ ওয়ারিশরা জমির মালিকানা দাবি করেন।

‎কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, ২০১০ সালে মারা যাওয়া আব্দুর রহমানকে ২০১১ সালের একটি দলিলে জীবিত দেখিয়ে জমির বিক্রেতা বানানো হয়। একই দলিলে জীবিত নজরুল ইসলামকে বিক্রেতা দেখানো হলেও, তিনি নাকি এ বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে দাবি করা হয়েছে।

‎এই কথিত জাল দলিলের মাধ্যমে জমিটি নিজেদের নামে রেজিস্ট্রি করে নেন নেত্রকোণা খাদ্য পরিদর্শক দীপায়ন দত্ত মজুমদার ববি এবং তাঁর চাচাতো ভাই সুমন দত্ত মজুমদার। এ ঘটনায় প্রকৃত ওয়ারিশ জেসমিন আক্তার আদালতে মামলা দায়ের করেছেন।

‎ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, স্থানীয় ভূমি অফিস, দলিল লেখক ও তৎকালীন সাব-রেজিস্ট্রারের যোগসাজশে পুরো জালিয়াতির ঘটনাটি সংঘটিত হয়েছে। এমনকি সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের বাইরে একটি বাড়িতে বসেই দলিল সম্পাদনের অভিযোগও উঠেছে।

‎এদিকে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তাদের বক্তব্য সংরক্ষণ করতে গেলে সাংবাদিকদের টাকা দিয়ে ম্যানেজের চেষ্টা করে দিপায়ন দত্ত মজুমদার ববি।

‎মামলার বাদী জেসমিন আক্তার জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত প্রত্যেকের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। এখন দেখার বিষয়, আদালতের তদন্তে এই বহুল আলোচিত দলিল জালিয়াতির আসল রহস্য কতটা উন্মোচিত হয়।

নেত্রকোণা খাদ্য পরিদর্শক দীপায়ন দত্ত মজুমদার ববি বলেন-
ক্রয়কৃত জমি আমরা দুই ভাই কিনছি মুক্তুল হোসেন ওয়ারিশান বিআরএস উনার ভাগ্নেরা কাছ থেকে কিনেছি।
২০১১ সালে ছবি যুক্ত দলিল হয় বারহাট্টা সাব-রেজিস্ট্রারের অফিসে। জাল জালিয়াতি করার আসলেই কোনো সুযোগ নেই।আদালতে প্রমাণ সাপেক্ষে বিজ্ঞ বিচারক রায় না দেওয়া পর্যন্ত আইনের দৃষ্টিতে তা বৈধ দলিল। জাল প্রমাণ করতে হলে দেওয়ানি আদালতে দলিল বাতিলের মামলা করতে হবে। তখন জাল বলে গ্রহন যোগ্য হবে এর আগে না।

নেত্রকোণা বারহাট্টা উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রারের বলেন
জমি বা সম্পত্তির মালিকানা নিয়ে আদালতে মামলা চলমান থাকলে।তারা আইনগত বাধ্যবাধকতার কারণে আদালতের চূড়ান্ত রায় বা নির্দেশনার জন্য অপেক্ষা করেন।কোর্টের রায় পাওয়া গেলেই কেবল সেই অনুযায়ী পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা সম্ভব।

বারহাট্টা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ সাজেদুল ইসলাম বলেন -এর কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ে “জানা নেই তবে জেনে নিচ্ছি” তিনি তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি পরিষ্কার নন।