০৭:৩৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দুমকি উপজেলায়, বিএনপি কার্যালয় ভাঙচুর মামলা ঘিরে অর্থ আদায়ের অভিযোগ

 

দুমকি (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:

 

পটুয়াখালী জেলার দুমকি উপজেলায়, বিএনপি অফিস ভাঙচুর মামলার বাদি উপজেলা কৃষকদলের এক নেতার বিরুদ্ধে নিরীহ মানুষকে মামলায় জড়ানোর ভয় দেখিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, গ্রেফতার ও জামিনের নাম করে বিভিন্ন পরিবারের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায় করা হচ্ছে।
জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দুমকি থানায় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের ৮৮ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও দুই থেকে আড়াইশ অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা করেন উপজেলা কৃষকদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. গোলাম মর্তুজা। ওই মামলায় ইতোমধ্যে ৩০ থেকে ৩৫ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বাকিরা অধিকাংশই জামিনে রয়েছেন।
অভিযোগ রয়েছে, আত্মগোপনে থাকা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের মোবাইল ফোনে হুমকি দিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করা হচ্ছে। পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি দেখিয়ে ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত আদায়ের ঘটনা ঘটছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। টাকা না দিলে বাড়িতে গিয়ে হুমকি দেওয়া বা পুলিশে ধরিয়ে দেওয়ার কথাও বলা হচ্ছে। পরে জামিনে ছাড়ানোর আশ্বাস দিয়ে আবারও অর্থ নেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
মুরাদিয়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. জাহিদুল ইসলাম বাবুল অভিযোগ করেন, ৫ আগস্টের পর তার কাছে ২০ হাজার টাকা দাবি করেন মর্তুজা। টাকা দিতে অপারগতা জানালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার ডাকা এক সভা থেকে তাকে বাইরে ডেকে শারীরিকভাবে হেনস্থা করা হয় বলে দাবি করেন তিনি।
একই ইউনিয়নের রাকিব হাসান বাবু নামের এক যুবককে ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে পুলিশে ধরিয়ে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। পরে তাকে ছাড়িয়ে নিতে পরিবারের কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। নগদ ২০ হাজার টাকা দেওয়ার পরও বাকি টাকা না দেওয়ায় হয়রানির শিকার হতে হয়েছে বলে পরিবারের দাবি।
টাকা দিতে না পারায় ছেলেকে অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করানো হয়েছে বলে কান্নায় ভেঙে পড়েন বাবু’র মা শাহনাজ বেগম। তিনি দেশে আইন-বিচার আছে কিনা প্রশ্ন রাখেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, মর্তুজার একই বাড়ির বাসিন্দা ইউসুব মোল্লাকে কোনো মামলা ছাড়াই পুলিশ গ্রেফতার করে বিএনপি অফিস ভাঙচুর মামলার অজ্ঞাত আসামি হিসেবে আদালতে চালান দেয়। এতে মর্তুজার সংশ্লিষ্টতা ছিল বলে পরিবারের ধারণা।
এ ছাড়া মুরাদিয়া, শ্রীরামপুর, আঙ্গারিয়া ও লেবুখালী ইউনিয়নের কয়েকটি পরিবারের শিক্ষার্থীদের ছাত্রলীগের ট্যাগ দিয়ে মামলায় জড়ানোর হুমকি দিয়ে টাকা নেওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, চাঁদা না দিলে গ্রেফতারের ভয় দেখানো হচ্ছে। ভয়ে কেউ কেউ এলাকা ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।
অপর একটি সূত্র জানায়, মর্তুজারই আপন ভাই ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি মোস্তাকিম বিল্লাহ এলাকায় ঘোরাফেরা করছেন। একই সময়ে মর্তুজা বিএনপি অফিস ভাঙচুর মামলার ভয় দেখিয়ে নিরীহ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলা বিএনপির সভাপতি খলিলুর রহমান বলেন, আপনারা যথাযথ প্রমান দেন তাহলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে দল থেকে।
তবে মামলার বাদি গোলাম মর্তুজা তার বিরুদ্ধে ওঠা চাঁদাবাজি ও মামলা বাণিজ্যের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুমকি থানার এসআই অহিদুল ইসলাম প্রকাশ্যে মন্তব্য করতে রাজি হননি। দুমকি থানার অফিসার ইনচার্জ মো. সেলিম উদ্দিন বলেন, তার যোগদানের আগেই মামলাটি হয়েছে। বাদি টাকা আদায়ের সঙ্গে জড়িত-এমন কোনো অভিযোগ এখনো থানায় আসেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গুলশানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল, ৫ দিন পর ওসি বদলি

দুমকি উপজেলায়, বিএনপি কার্যালয় ভাঙচুর মামলা ঘিরে অর্থ আদায়ের অভিযোগ

Update Time : ০১:০৬:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬

 

দুমকি (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:

 

পটুয়াখালী জেলার দুমকি উপজেলায়, বিএনপি অফিস ভাঙচুর মামলার বাদি উপজেলা কৃষকদলের এক নেতার বিরুদ্ধে নিরীহ মানুষকে মামলায় জড়ানোর ভয় দেখিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, গ্রেফতার ও জামিনের নাম করে বিভিন্ন পরিবারের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায় করা হচ্ছে।
জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দুমকি থানায় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের ৮৮ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও দুই থেকে আড়াইশ অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা করেন উপজেলা কৃষকদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. গোলাম মর্তুজা। ওই মামলায় ইতোমধ্যে ৩০ থেকে ৩৫ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বাকিরা অধিকাংশই জামিনে রয়েছেন।
অভিযোগ রয়েছে, আত্মগোপনে থাকা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের মোবাইল ফোনে হুমকি দিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করা হচ্ছে। পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি দেখিয়ে ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত আদায়ের ঘটনা ঘটছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। টাকা না দিলে বাড়িতে গিয়ে হুমকি দেওয়া বা পুলিশে ধরিয়ে দেওয়ার কথাও বলা হচ্ছে। পরে জামিনে ছাড়ানোর আশ্বাস দিয়ে আবারও অর্থ নেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
মুরাদিয়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. জাহিদুল ইসলাম বাবুল অভিযোগ করেন, ৫ আগস্টের পর তার কাছে ২০ হাজার টাকা দাবি করেন মর্তুজা। টাকা দিতে অপারগতা জানালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার ডাকা এক সভা থেকে তাকে বাইরে ডেকে শারীরিকভাবে হেনস্থা করা হয় বলে দাবি করেন তিনি।
একই ইউনিয়নের রাকিব হাসান বাবু নামের এক যুবককে ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে পুলিশে ধরিয়ে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। পরে তাকে ছাড়িয়ে নিতে পরিবারের কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। নগদ ২০ হাজার টাকা দেওয়ার পরও বাকি টাকা না দেওয়ায় হয়রানির শিকার হতে হয়েছে বলে পরিবারের দাবি।
টাকা দিতে না পারায় ছেলেকে অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করানো হয়েছে বলে কান্নায় ভেঙে পড়েন বাবু’র মা শাহনাজ বেগম। তিনি দেশে আইন-বিচার আছে কিনা প্রশ্ন রাখেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, মর্তুজার একই বাড়ির বাসিন্দা ইউসুব মোল্লাকে কোনো মামলা ছাড়াই পুলিশ গ্রেফতার করে বিএনপি অফিস ভাঙচুর মামলার অজ্ঞাত আসামি হিসেবে আদালতে চালান দেয়। এতে মর্তুজার সংশ্লিষ্টতা ছিল বলে পরিবারের ধারণা।
এ ছাড়া মুরাদিয়া, শ্রীরামপুর, আঙ্গারিয়া ও লেবুখালী ইউনিয়নের কয়েকটি পরিবারের শিক্ষার্থীদের ছাত্রলীগের ট্যাগ দিয়ে মামলায় জড়ানোর হুমকি দিয়ে টাকা নেওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, চাঁদা না দিলে গ্রেফতারের ভয় দেখানো হচ্ছে। ভয়ে কেউ কেউ এলাকা ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।
অপর একটি সূত্র জানায়, মর্তুজারই আপন ভাই ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি মোস্তাকিম বিল্লাহ এলাকায় ঘোরাফেরা করছেন। একই সময়ে মর্তুজা বিএনপি অফিস ভাঙচুর মামলার ভয় দেখিয়ে নিরীহ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলা বিএনপির সভাপতি খলিলুর রহমান বলেন, আপনারা যথাযথ প্রমান দেন তাহলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে দল থেকে।
তবে মামলার বাদি গোলাম মর্তুজা তার বিরুদ্ধে ওঠা চাঁদাবাজি ও মামলা বাণিজ্যের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুমকি থানার এসআই অহিদুল ইসলাম প্রকাশ্যে মন্তব্য করতে রাজি হননি। দুমকি থানার অফিসার ইনচার্জ মো. সেলিম উদ্দিন বলেন, তার যোগদানের আগেই মামলাটি হয়েছে। বাদি টাকা আদায়ের সঙ্গে জড়িত-এমন কোনো অভিযোগ এখনো থানায় আসেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।