১১:৫৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাতক্ষীরায় আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবস উপলক্ষে মানববন্ধন

 

মোঃ মোকাররাম বিল্লাহ ইমন সাতক্ষীরা।।
মাদকাসক্ত ঐশী হত্যা করেছিল পুলিশ কর্মকর্তা তার বাবাকে। রমিছাকে হত্যা করেছিল মাদকাক্ত সোহেল। প্রতিদিন প্রায় কোন বাবা কিম্বা মা থানায় অভিযোগ করছে মাদকাসক্ত সন্তানের বিরুদ্ধে। এমনই অবস্থা মাদক আমাদের ভবিষ্যতকে ধংস করে দিচ্ছে।

এ থেকে পরিত্রাণের জন্য যুব সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে। প্রয়োজনে পাড়ায় পাড়ায়, মহলায় মহলায় মাদক বিরোধী কমিট গঠন করতে হবে। আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবস উপলক্ষে প্রথম আলো বন্ধসভার সহযোগিতায় ও প্রথম আলো ট্রাস্ট আয়োজিত মানববন্ধন ও আলোচনা সভার বক্তারা এসব কথা বলেন।

শুক্রবার বিকেল পাঁচটায় সাতক্ষীরা শহরের পোস্ট অফিস মোড়ে শহীদ রীমু সরণিতে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে অংশ নেয়। বন্ধসুভার সদস্যরা ছাড়া মুক্তিযোদ্ধা শিক্ষার্থী, শিক্ষক, সাংস্কৃতি কর্মী, ক্রীড়াবিদ আইনজীবী, সাংবাদিক, মানবাধিকার কর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ।

প্রথম আলো বন্ধুসভার সাতক্ষীরা সভাপতি মৃত্যুঞ্জয় বিশ্বাসের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, মুক্তিযোদ্ধ সুভাস সরকার, রসুলপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আশরাফুর রহমান, উদীচীর সাতক্ষীরার সভাপতি শেখ সিদ্দিকুর রহমান, ডিবিসি এর জেলা প্রতিনিধি বেলাল হোসেন, সাংবাদিক মনিরুল ইসলাম ছাড়াও বন্ধুসভার রাহাতুল ইসলাম, করিমন নেছা, গোলাম হোসেন, হৃদয় মন্ডল ও প্রথম আলোর সাতক্ষীরার নিজস্ব প্রতিবেদক কল্যাণ ব্যানার্জি প্রমুখ।

বক্তরা বলেন, সাতক্ষীরা জেলার প্রায় প্রতিটি মোড়ে মাদকের সেন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। তারা কমলপতি স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের কাছে এসব বিক্রি করছে। মাদকের কারণে সংসার ভেঙ্গে যাচ্ছে। মাদকসেবী ছেলে বাবা-মাকে মারপিট করছে। বিজিবি প্রায় প্রতিদিন সীমান্ত এলাকা থেকে মাদ্রকদব্য উদ্ধার করছে। কখনো কখনো আসামিও আটক করছে। কিন্তু মাদকের ভয়াবহতা কমছে না।

বক্তারা বলেন,‘একটি প্রবাদ আছে“ সৎ সঙ্গে স্বর্গবাস, আর অসৎ সঙ্গে সর্বনাশ।” বাবা-মা মাধ্যমিক কিম্বা কলেজের ছেলে-মেয়েদের হাতে ইচ্ছামতো টাকা দেওয়ার পাশাপাশি এন্ট্রোয়েড ফোন দেয়। আবার অনেককে ৩-৪ লাখ টাকা মটর সাইকেল কিনে দিচ্ছে।ছেলে-মেয়েরা সারাদিন কোথায় থাকছে, কি করছে-এসব নিয়ে তাদের মাথা ব্যথা নেই। যখন তারা বুঝতে পারে তখন আর উপায় থাকে না। মানববন্ধন থেকে মাদক নির্মূলে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের প্রতিটি মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগের পাশাপাশি আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর অগ্রণী ভূমিকার আবাহ্বান জানানো হয়।। বিশেষ করে তরুণ ও যুবসমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে মাদকের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার উপর গুরত্ব দেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গুলশানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল, ৫ দিন পর ওসি বদলি

সাতক্ষীরায় আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবস উপলক্ষে মানববন্ধন

Update Time : ০৪:০১:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬

 

মোঃ মোকাররাম বিল্লাহ ইমন সাতক্ষীরা।।
মাদকাসক্ত ঐশী হত্যা করেছিল পুলিশ কর্মকর্তা তার বাবাকে। রমিছাকে হত্যা করেছিল মাদকাক্ত সোহেল। প্রতিদিন প্রায় কোন বাবা কিম্বা মা থানায় অভিযোগ করছে মাদকাসক্ত সন্তানের বিরুদ্ধে। এমনই অবস্থা মাদক আমাদের ভবিষ্যতকে ধংস করে দিচ্ছে।

এ থেকে পরিত্রাণের জন্য যুব সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে। প্রয়োজনে পাড়ায় পাড়ায়, মহলায় মহলায় মাদক বিরোধী কমিট গঠন করতে হবে। আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবস উপলক্ষে প্রথম আলো বন্ধসভার সহযোগিতায় ও প্রথম আলো ট্রাস্ট আয়োজিত মানববন্ধন ও আলোচনা সভার বক্তারা এসব কথা বলেন।

শুক্রবার বিকেল পাঁচটায় সাতক্ষীরা শহরের পোস্ট অফিস মোড়ে শহীদ রীমু সরণিতে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে অংশ নেয়। বন্ধসুভার সদস্যরা ছাড়া মুক্তিযোদ্ধা শিক্ষার্থী, শিক্ষক, সাংস্কৃতি কর্মী, ক্রীড়াবিদ আইনজীবী, সাংবাদিক, মানবাধিকার কর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ।

প্রথম আলো বন্ধুসভার সাতক্ষীরা সভাপতি মৃত্যুঞ্জয় বিশ্বাসের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, মুক্তিযোদ্ধ সুভাস সরকার, রসুলপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আশরাফুর রহমান, উদীচীর সাতক্ষীরার সভাপতি শেখ সিদ্দিকুর রহমান, ডিবিসি এর জেলা প্রতিনিধি বেলাল হোসেন, সাংবাদিক মনিরুল ইসলাম ছাড়াও বন্ধুসভার রাহাতুল ইসলাম, করিমন নেছা, গোলাম হোসেন, হৃদয় মন্ডল ও প্রথম আলোর সাতক্ষীরার নিজস্ব প্রতিবেদক কল্যাণ ব্যানার্জি প্রমুখ।

বক্তরা বলেন, সাতক্ষীরা জেলার প্রায় প্রতিটি মোড়ে মাদকের সেন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। তারা কমলপতি স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের কাছে এসব বিক্রি করছে। মাদকের কারণে সংসার ভেঙ্গে যাচ্ছে। মাদকসেবী ছেলে বাবা-মাকে মারপিট করছে। বিজিবি প্রায় প্রতিদিন সীমান্ত এলাকা থেকে মাদ্রকদব্য উদ্ধার করছে। কখনো কখনো আসামিও আটক করছে। কিন্তু মাদকের ভয়াবহতা কমছে না।

বক্তারা বলেন,‘একটি প্রবাদ আছে“ সৎ সঙ্গে স্বর্গবাস, আর অসৎ সঙ্গে সর্বনাশ।” বাবা-মা মাধ্যমিক কিম্বা কলেজের ছেলে-মেয়েদের হাতে ইচ্ছামতো টাকা দেওয়ার পাশাপাশি এন্ট্রোয়েড ফোন দেয়। আবার অনেককে ৩-৪ লাখ টাকা মটর সাইকেল কিনে দিচ্ছে।ছেলে-মেয়েরা সারাদিন কোথায় থাকছে, কি করছে-এসব নিয়ে তাদের মাথা ব্যথা নেই। যখন তারা বুঝতে পারে তখন আর উপায় থাকে না। মানববন্ধন থেকে মাদক নির্মূলে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের প্রতিটি মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগের পাশাপাশি আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর অগ্রণী ভূমিকার আবাহ্বান জানানো হয়।। বিশেষ করে তরুণ ও যুবসমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে মাদকের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার উপর গুরত্ব দেন।