০৮:১২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পলাশবাড়ী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডা. মালিহার বিরুদ্ধে রোগীকে প্রাথমিক চিকিৎসা না দিয়েই রমেক এ রেফার্ডের অভিযোগ

আশরাফুজ্জামান,
গাইবান্ধাঃ-
গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাসেবা নিয়ে রোগী ও স্বজনদের মধ্যে অসন্তোষের অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি চোখে মরিচের গুঁড়ো যাওয়ার ঘটনায় এক নারী রোগীকে প্রাথমিক চিকিৎসা না দিয়ে রংপুরে রেফার করার অভিযোগ করেন রোগীর স্বজনরা।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ জুন রাত আনুমানিক ৮টার দিকে চোখে মরিচের গুঁড়ো যাওয়ায় এক নারী চিকিৎসা নিতে পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মালিহা রোগীকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা বা প্রাথমিক চিকিৎসা না দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুরে রেফার করার পরামর্শ দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
রোগীর স্বজনদের দাবি, রংপুরে যেতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে। তাই রেফার করার আগে অন্তত প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে রোগীর কষ্ট কিছুটা লাঘব করা যেত। তারা বলেন, স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মানুষ প্রথমে প্রাথমিক চিকিৎসা পাওয়ার আশায় আসে। কিন্তু সামান্য সমস্যাতেও রোগীদের বাইরে পাঠিয়ে দেওয়ার প্রবণতা উদ্বেগজনক।

এ বিষয়ে একাধিক ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন, পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অনেক ক্ষেত্রেই রোগীদের বিস্তারিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই রংপুরে রেফার্ড করা হয়। পরে ওই নারী রোগী স্থানীয় এক স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলে তার চোখ পরিষ্কার করা হয় এবং প্রয়োজনীয় ড্রপ দেওয়া হয় বলে স্বজনরা জানান। এতে রোগী কিছুটা সুস্থতা অনুভব করেন বলেও দাবি করা হয়েছে।

এ ঘটনায় রোগীর স্বজনরা সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের দায়িত্ব পালনের বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. ইসতিয়াক আমিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কোনো সন্তোষ জনক কোন উত্তর দিতে পারেন নাই।

এদিকে স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে সামান্য অসুস্থতা বা জটিলতাহীন অনেক রোগীকেও উচ্চতর চিকিৎসার জন্য রেফার করার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। তারা মনে করেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে নিম্ন আয়ের রোগীরা উপকৃত হবেন।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. মালিহার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গুলশানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল, ৫ দিন পর ওসি বদলি

পলাশবাড়ী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডা. মালিহার বিরুদ্ধে রোগীকে প্রাথমিক চিকিৎসা না দিয়েই রমেক এ রেফার্ডের অভিযোগ

Update Time : ০৫:২৪:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬

আশরাফুজ্জামান,
গাইবান্ধাঃ-
গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাসেবা নিয়ে রোগী ও স্বজনদের মধ্যে অসন্তোষের অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি চোখে মরিচের গুঁড়ো যাওয়ার ঘটনায় এক নারী রোগীকে প্রাথমিক চিকিৎসা না দিয়ে রংপুরে রেফার করার অভিযোগ করেন রোগীর স্বজনরা।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ জুন রাত আনুমানিক ৮টার দিকে চোখে মরিচের গুঁড়ো যাওয়ায় এক নারী চিকিৎসা নিতে পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মালিহা রোগীকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা বা প্রাথমিক চিকিৎসা না দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুরে রেফার করার পরামর্শ দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
রোগীর স্বজনদের দাবি, রংপুরে যেতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে। তাই রেফার করার আগে অন্তত প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে রোগীর কষ্ট কিছুটা লাঘব করা যেত। তারা বলেন, স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মানুষ প্রথমে প্রাথমিক চিকিৎসা পাওয়ার আশায় আসে। কিন্তু সামান্য সমস্যাতেও রোগীদের বাইরে পাঠিয়ে দেওয়ার প্রবণতা উদ্বেগজনক।

এ বিষয়ে একাধিক ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন, পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অনেক ক্ষেত্রেই রোগীদের বিস্তারিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই রংপুরে রেফার্ড করা হয়। পরে ওই নারী রোগী স্থানীয় এক স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলে তার চোখ পরিষ্কার করা হয় এবং প্রয়োজনীয় ড্রপ দেওয়া হয় বলে স্বজনরা জানান। এতে রোগী কিছুটা সুস্থতা অনুভব করেন বলেও দাবি করা হয়েছে।

এ ঘটনায় রোগীর স্বজনরা সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের দায়িত্ব পালনের বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. ইসতিয়াক আমিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কোনো সন্তোষ জনক কোন উত্তর দিতে পারেন নাই।

এদিকে স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে সামান্য অসুস্থতা বা জটিলতাহীন অনেক রোগীকেও উচ্চতর চিকিৎসার জন্য রেফার করার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। তারা মনে করেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে নিম্ন আয়ের রোগীরা উপকৃত হবেন।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. মালিহার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।