১১:০৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাতক্ষীরা জেলা ক্রীড়া অফিসারের অপসারণ দাবিতে নারী খেলোয়াড়দের মানববন্ধন

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি :

দুর্নীতি, অনিয়ম ও খেলোয়াড়দের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণের অভিযোগ তুলে সাতক্ষীরা জেলা ক্রীড়া অফিসার মাহাবুবুর রহমানের অপসারণ দাবিতে মানববন্ধন করেছেন জেলার নারী খেলোয়াড়রা।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুর ১২টার দিকে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে জেলার বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের নারী খেলোয়াড়দের পাশাপাশি কয়েকজন পুরুষ খেলোয়াড়ও সংহতি প্রকাশ করে অংশ নেন।

মানববন্ধনে খেলোয়াড়দের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য দেন ক্রীড়া সংগঠক ও জাতীয় নারী ফুটবল দলের অধিনায়ক আফঈদা খন্দকার প্রান্তি–এর পিতা খন্দকার আরিফ হাসান প্রিন্স। এছাড়া বক্তব্য দেন খেলোয়াড় উম্মে ফাতেমা উর্মি, সোহেলী আক্তার শামীমা, সালমা খাতুন, নদী বিশ্বাস ও মেহেদী রাজুসহ আরও অনেকে।

বক্তারা অভিযোগ করেন, জেলা ক্রীড়া অফিস থেকে খেলোয়াড়দের প্রয়োজনীয় ক্রীড়া সরঞ্জাম, জার্সি ও অনুদান সঠিকভাবে বিতরণ করা হয় না। প্রকৃত খেলোয়াড়দের বাদ দিয়ে অফিস স্টাফ বা খেলাধুলার সঙ্গে সম্পৃক্ত নন—এমন ব্যক্তিদের নামে অনুদান দেওয়া হচ্ছে বলেও দাবি করেন তারা।

নারী খেলোয়াড়রা বলেন, দরিদ্র পরিবার থেকে উঠে এসে বাসা ভাড়া নিয়ে অনুশীলন করলেও তারা জেলা ক্রীড়া অফিস থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পাচ্ছেন না। বরং বিভিন্ন ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হতে হচ্ছে।

বক্তারা বলেন, “আমরা কঠোর পরিশ্রম করে জাতীয় পর্যায়ে সাতক্ষীরার সুনাম বয়ে আনছি। অথচ আমাদের ন্যায্য সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে অভিযুক্ত জেলা ক্রীড়া অফিসারের অপসারণ এবং একজন সৎ, দক্ষ ও খেলোয়াড়বান্ধব কর্মকর্তার নিয়োগ চাই।”

অভিযোগের বিষয়ে জেলা ক্রীড়া অফিসার মাহাবুবুর রহমান বলেন, “সাতক্ষীরা জেলা থেকে জাতীয় ক্রীড়াসেবী কল্যাণ ফাউন্ডেশনের ক্রীড়া ভাতা ও ক্রীড়া শিক্ষা বৃত্তির জন্য ১১৪ জন আবেদন করেছিলেন। জেলা প্রশাসকের উপস্থিতিতে জেলা কমিটির মাধ্যমে যাচাই-বাছাই শেষে ৯৮ জনের তালিকা জাতীয় ক্রীড়াসেবী কল্যাণ ফাউন্ডেশনে পাঠানো হয়। পরে জাতীয় কমিটি পুনরায় যাচাই-বাছাই করে ৪৩ জনকে ভাতার জন্য চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করেছে।”

তিনি আরও বলেন, “আমার কাছে মনে হয়েছে, ভাতা না পাওয়ার ক্ষোভ থেকেই কিছু খেলোয়াড় আমার বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেছে। তবে এখানে ব্যক্তিগতভাবে আমার কিছু করার ছিল না। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জাতীয় কমিটিই নিয়েছে।”

মানববন্ধন শেষে অংশগ্রহণকারীরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গুলশানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল, ৫ দিন পর ওসি বদলি

সাতক্ষীরা জেলা ক্রীড়া অফিসারের অপসারণ দাবিতে নারী খেলোয়াড়দের মানববন্ধন

Update Time : ০৫:৩৬:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি :

দুর্নীতি, অনিয়ম ও খেলোয়াড়দের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণের অভিযোগ তুলে সাতক্ষীরা জেলা ক্রীড়া অফিসার মাহাবুবুর রহমানের অপসারণ দাবিতে মানববন্ধন করেছেন জেলার নারী খেলোয়াড়রা।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুর ১২টার দিকে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে জেলার বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের নারী খেলোয়াড়দের পাশাপাশি কয়েকজন পুরুষ খেলোয়াড়ও সংহতি প্রকাশ করে অংশ নেন।

মানববন্ধনে খেলোয়াড়দের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য দেন ক্রীড়া সংগঠক ও জাতীয় নারী ফুটবল দলের অধিনায়ক আফঈদা খন্দকার প্রান্তি–এর পিতা খন্দকার আরিফ হাসান প্রিন্স। এছাড়া বক্তব্য দেন খেলোয়াড় উম্মে ফাতেমা উর্মি, সোহেলী আক্তার শামীমা, সালমা খাতুন, নদী বিশ্বাস ও মেহেদী রাজুসহ আরও অনেকে।

বক্তারা অভিযোগ করেন, জেলা ক্রীড়া অফিস থেকে খেলোয়াড়দের প্রয়োজনীয় ক্রীড়া সরঞ্জাম, জার্সি ও অনুদান সঠিকভাবে বিতরণ করা হয় না। প্রকৃত খেলোয়াড়দের বাদ দিয়ে অফিস স্টাফ বা খেলাধুলার সঙ্গে সম্পৃক্ত নন—এমন ব্যক্তিদের নামে অনুদান দেওয়া হচ্ছে বলেও দাবি করেন তারা।

নারী খেলোয়াড়রা বলেন, দরিদ্র পরিবার থেকে উঠে এসে বাসা ভাড়া নিয়ে অনুশীলন করলেও তারা জেলা ক্রীড়া অফিস থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পাচ্ছেন না। বরং বিভিন্ন ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হতে হচ্ছে।

বক্তারা বলেন, “আমরা কঠোর পরিশ্রম করে জাতীয় পর্যায়ে সাতক্ষীরার সুনাম বয়ে আনছি। অথচ আমাদের ন্যায্য সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে অভিযুক্ত জেলা ক্রীড়া অফিসারের অপসারণ এবং একজন সৎ, দক্ষ ও খেলোয়াড়বান্ধব কর্মকর্তার নিয়োগ চাই।”

অভিযোগের বিষয়ে জেলা ক্রীড়া অফিসার মাহাবুবুর রহমান বলেন, “সাতক্ষীরা জেলা থেকে জাতীয় ক্রীড়াসেবী কল্যাণ ফাউন্ডেশনের ক্রীড়া ভাতা ও ক্রীড়া শিক্ষা বৃত্তির জন্য ১১৪ জন আবেদন করেছিলেন। জেলা প্রশাসকের উপস্থিতিতে জেলা কমিটির মাধ্যমে যাচাই-বাছাই শেষে ৯৮ জনের তালিকা জাতীয় ক্রীড়াসেবী কল্যাণ ফাউন্ডেশনে পাঠানো হয়। পরে জাতীয় কমিটি পুনরায় যাচাই-বাছাই করে ৪৩ জনকে ভাতার জন্য চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করেছে।”

তিনি আরও বলেন, “আমার কাছে মনে হয়েছে, ভাতা না পাওয়ার ক্ষোভ থেকেই কিছু খেলোয়াড় আমার বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেছে। তবে এখানে ব্যক্তিগতভাবে আমার কিছু করার ছিল না। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জাতীয় কমিটিই নিয়েছে।”

মানববন্ধন শেষে অংশগ্রহণকারীরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন।