১০:২৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কালিয়াকৈরে প্রিপেইড মিটারের রাজত্ব-অন্ধকারে হাজারো মানুষের ভোগান্তি

 

শাকিল হোসেন, কালিয়াকৈর (গাজীপুর)প্রতিনিধিঃ

গাজীপুরের শিল্পাঞ্চল কালিয়াকৈর উপজেলায় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিটাল প্রিপেইড মিটার এখন জনগণের গলার কাঁটা। উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও কালিয়াকৈর পৌরসভা ৯টি ওয়ার্ডের লাখো গ্রাহক সার্ভার জট,মিটার নষ্ট, শুক্র-শনির ৪৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীনতা আর লোড কম-বেশির বিড়ম্বনায় অতিষ্ঠ। টাকা থাকার পরও ফ্রিজের মাছ-মাংস পচে যাচ্ছে, স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের পড়া বন্ধ, গরমে অসহ্য যন্ত্রণা। অফিসে গিয়ে লোড বাড়ালে সাময়িক সমাধান,রুম থেকে বের হলেই আবার লোড কমে যায়- এমন ভোগান্তির শেষ কোথায়।
টাকা কাটে, কারেন্ট আসে না সার্ভার জ্যাম ,গ্রাহকরা বলেন, বৃহস্পতিবার রাত ৮টার পর রিচার্জ সার্ভার জ্যাম হয়ে যায়। বিকাশ-নগদে টাকা গেলেও মিটারে ২০ ডিজিটের কোড আসে না। কালিয়াকৈর পৌরসভার ৫ নং ওয়ার্ডের মো.জাকির হোসেন বলেন ৫০০ টাকা রিচার্জ করলাম। টাকা কাটলো,কোড আসলো না। শুক্র-শনি অফিস বন্ধ। শনিবার রাত থেকে রবিবার পর্যন্ত অন্ধকার। বাচ্চাটা গরমে কান্না করছে,ফ্যান চলে না। এটা কোন ডিজিটাল সেবা?
মিটার নষ্ট বা ব্যালেন্স শেষ হলে ফ্রিজ বন্ধ। হাজার টাকার মাছ-মাংস-দুধ পচে যাচ্ছে।
বড়ইবাড়ি ইউনিয়নের গৃহিণী রোকেয়া বেগমবলেন,সোমবার মিটার নষ্ট। ১৬২০ তে ৩ বার ফোন দিলাম। আজ বুধবার,কেউ আসে নাই। ফ্রিজের ৩ হাজার টাকার মাছ-গোশত সব পচে গেছে। এই ক্ষতি কে দিবে?
সফিপুর বাজারের দোকানদার মো. সুমন মিয়া বলেন,শুক্রবার সকাল ১০টায় ব্যালেন্স শেষ। ফ্রিজে ১৫ হাজার টাকার আইসক্রিম-কোল্ড ড্রিংস। অফিস বন্ধ। রবিবার খুললে লোক আসবে। ২ দিনে ১৫ হাজার লস। প্রিপেইড মিটার লাগিয়ে অপরাধ করলাম।
গ্রাহকদের নতুন অভিযোগ – প্রিপেইড মিটারের লোড সীমা নিয়ে আরেক যন্ত্রনা। ২-৩টা ফ্যান-লাইট চললেই মিটার ওভার লোড দেখিয়ে বন্ধ হয়ে যায়। অফিসে দরখাস্ত দিয়ে লোড বাড়াতে হয়। লোড বাড়ানোর পর ও আবার মিটার ট্রিপ করে।
এক গার্মেন্টস কর্মী বলেন,রুমে ১টা ফ্যান,২টা লাইট জ্বালেই, রাইস কুকারে ভাত রান্না করলে মিটার বন্ধ। অফিসে গিয়ে ২ কিলো লোড বাড়াইলাম।তার পরে লোড ঠিকমত কাজ করেনা।এই যে বারবার অফিসে দৌড়ানো, এটার শেষ কোথায়।
রাতে ব্যালেন্স শেষ হলে ছাত্র-ছাত্রীরা পড়তে পারে না। হাসপাতাল-ডায়াগনস্টিক সেন্টারে জেনারেটর চালাতে ঘণ্টায় হাজার টাকা লস।
কালিয়াকৈর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডি জিএম প্রকৌশলী সাহারুল বলেন সার্ভার হাই লোডে স্লো হয়। আরইবি ঢাকা আপডেট দিচ্ছে। মিটার নষ্ট হলে ২৪ ঘণ্টায় বদলির নিয়ম, জনবল কম থাকায় দেরি হয়। তাছাড়া প্রিপেইড মিটারের জটিল সমস্যার জন্য সোহান নামে এক ব্যক্তির মোবাইল নাম্বার- ০১৭৫৫০৭৭৫৯১দেয়া হলো এই নাম্বারে যোগাযোগ করার জন্য।লোড বাড়ানোর আবেদন করলে নিয়ম মেনে বাড়ানো হয়। শুক্র-শনিতে ইমার্জেন্সি সেলের প্রস্তাব আরইবি চেয়ারম্যান বরাবর পাঠিয়েছি। বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার মধ্যে রিচার্জ করুন। টাকা কাটলে স্ক্রিনশট রাখুন।
জনপ্রতিনিধি ও বিশেষজ্ঞ মতামতে হাজারো অভিযোগ। শুক্র-শনিতে অন্তত ৩ ঘণ্টা ইমার্জেন্সি সেল খুলতেই হবে। জনগণের ভোগান্তি দেখার কেউ নেই -এটা হতে পারে না।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গুলশানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল, ৫ দিন পর ওসি বদলি

কালিয়াকৈরে প্রিপেইড মিটারের রাজত্ব-অন্ধকারে হাজারো মানুষের ভোগান্তি

Update Time : ০৪:৩৪:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

 

শাকিল হোসেন, কালিয়াকৈর (গাজীপুর)প্রতিনিধিঃ

গাজীপুরের শিল্পাঞ্চল কালিয়াকৈর উপজেলায় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিটাল প্রিপেইড মিটার এখন জনগণের গলার কাঁটা। উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও কালিয়াকৈর পৌরসভা ৯টি ওয়ার্ডের লাখো গ্রাহক সার্ভার জট,মিটার নষ্ট, শুক্র-শনির ৪৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীনতা আর লোড কম-বেশির বিড়ম্বনায় অতিষ্ঠ। টাকা থাকার পরও ফ্রিজের মাছ-মাংস পচে যাচ্ছে, স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের পড়া বন্ধ, গরমে অসহ্য যন্ত্রণা। অফিসে গিয়ে লোড বাড়ালে সাময়িক সমাধান,রুম থেকে বের হলেই আবার লোড কমে যায়- এমন ভোগান্তির শেষ কোথায়।
টাকা কাটে, কারেন্ট আসে না সার্ভার জ্যাম ,গ্রাহকরা বলেন, বৃহস্পতিবার রাত ৮টার পর রিচার্জ সার্ভার জ্যাম হয়ে যায়। বিকাশ-নগদে টাকা গেলেও মিটারে ২০ ডিজিটের কোড আসে না। কালিয়াকৈর পৌরসভার ৫ নং ওয়ার্ডের মো.জাকির হোসেন বলেন ৫০০ টাকা রিচার্জ করলাম। টাকা কাটলো,কোড আসলো না। শুক্র-শনি অফিস বন্ধ। শনিবার রাত থেকে রবিবার পর্যন্ত অন্ধকার। বাচ্চাটা গরমে কান্না করছে,ফ্যান চলে না। এটা কোন ডিজিটাল সেবা?
মিটার নষ্ট বা ব্যালেন্স শেষ হলে ফ্রিজ বন্ধ। হাজার টাকার মাছ-মাংস-দুধ পচে যাচ্ছে।
বড়ইবাড়ি ইউনিয়নের গৃহিণী রোকেয়া বেগমবলেন,সোমবার মিটার নষ্ট। ১৬২০ তে ৩ বার ফোন দিলাম। আজ বুধবার,কেউ আসে নাই। ফ্রিজের ৩ হাজার টাকার মাছ-গোশত সব পচে গেছে। এই ক্ষতি কে দিবে?
সফিপুর বাজারের দোকানদার মো. সুমন মিয়া বলেন,শুক্রবার সকাল ১০টায় ব্যালেন্স শেষ। ফ্রিজে ১৫ হাজার টাকার আইসক্রিম-কোল্ড ড্রিংস। অফিস বন্ধ। রবিবার খুললে লোক আসবে। ২ দিনে ১৫ হাজার লস। প্রিপেইড মিটার লাগিয়ে অপরাধ করলাম।
গ্রাহকদের নতুন অভিযোগ – প্রিপেইড মিটারের লোড সীমা নিয়ে আরেক যন্ত্রনা। ২-৩টা ফ্যান-লাইট চললেই মিটার ওভার লোড দেখিয়ে বন্ধ হয়ে যায়। অফিসে দরখাস্ত দিয়ে লোড বাড়াতে হয়। লোড বাড়ানোর পর ও আবার মিটার ট্রিপ করে।
এক গার্মেন্টস কর্মী বলেন,রুমে ১টা ফ্যান,২টা লাইট জ্বালেই, রাইস কুকারে ভাত রান্না করলে মিটার বন্ধ। অফিসে গিয়ে ২ কিলো লোড বাড়াইলাম।তার পরে লোড ঠিকমত কাজ করেনা।এই যে বারবার অফিসে দৌড়ানো, এটার শেষ কোথায়।
রাতে ব্যালেন্স শেষ হলে ছাত্র-ছাত্রীরা পড়তে পারে না। হাসপাতাল-ডায়াগনস্টিক সেন্টারে জেনারেটর চালাতে ঘণ্টায় হাজার টাকা লস।
কালিয়াকৈর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডি জিএম প্রকৌশলী সাহারুল বলেন সার্ভার হাই লোডে স্লো হয়। আরইবি ঢাকা আপডেট দিচ্ছে। মিটার নষ্ট হলে ২৪ ঘণ্টায় বদলির নিয়ম, জনবল কম থাকায় দেরি হয়। তাছাড়া প্রিপেইড মিটারের জটিল সমস্যার জন্য সোহান নামে এক ব্যক্তির মোবাইল নাম্বার- ০১৭৫৫০৭৭৫৯১দেয়া হলো এই নাম্বারে যোগাযোগ করার জন্য।লোড বাড়ানোর আবেদন করলে নিয়ম মেনে বাড়ানো হয়। শুক্র-শনিতে ইমার্জেন্সি সেলের প্রস্তাব আরইবি চেয়ারম্যান বরাবর পাঠিয়েছি। বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার মধ্যে রিচার্জ করুন। টাকা কাটলে স্ক্রিনশট রাখুন।
জনপ্রতিনিধি ও বিশেষজ্ঞ মতামতে হাজারো অভিযোগ। শুক্র-শনিতে অন্তত ৩ ঘণ্টা ইমার্জেন্সি সেল খুলতেই হবে। জনগণের ভোগান্তি দেখার কেউ নেই -এটা হতে পারে না।