
মোঃ নাঈম উদ্দীন
বিশেষ প্রতিনিধি, চুয়াডাঙ্গা।
চুয়াডাঙ্গা জেলায় মাদকের বিস্তার রোধ ও মাদক ব্যবসায়ীদের দমনে ব্যাপক তৎপরতা চালাচ্ছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। এরই ধারাবাহিকতায় আজ চুয়াডাঙ্গা জেলা কার্যালয়ের একটি চৌকস দল জেলার জীবননগর ও দর্শনা থানা এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ইয়াবা ও গাঁজাসহ তিন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে। উদ্ধার করা হয়েছে ১৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট এবং মোট ৪০ গ্রাম গাঁজা।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি), চুয়াডাঙ্গা জেলা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আজ ১১ জুন ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ, বৃহস্পতিবার সকাল ০৮:০০ ঘটিকা থেকে বিকেল ১৬:০০ ঘটিকা পর্যন্ত জেলাজুড়ে এই মাদকবিরোধী চিরুনি অভিযান চালানো হয়।
অভিযান সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একটি দল চুয়াডাঙ্গা জেলার জীবননগর থানাধীন জীবননগর টু চ্যাংখালী সড়কের শাখারিয়া পিচমোড় গ্রামস্থ ‘তিন ভাই স্টোর’ নামীয় দোকানের সামনে অবস্থান নেয়। সেখানে সন্দেহভাজন হিসেবে মোঃ মাসুদ রানা (৩৫) নামের এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়।
পরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে তার দেহ তল্লাশী করা হলে, তার পরিহিত জিন্স প্যান্টের সামনের ডান পকেট থেকে একটি নীল রঙয়ের জিপারযুক্ত ছোট পলিথিন প্যাকেটে রাখা ১৫ (পনের) পিস কমলা বর্ণের অবৈধ মাদকদ্রব্য অ্যামফিটামিনযুক্ত ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার ও জব্দ করা হয়। জব্দকৃত ১.৫ গ্রাম ওজনের এই ইয়াবা ট্যাবলেটের আনুমানিক বাজার মূল্য ৪,৫০০ (চার হাজার পাঁচশত) টাকা।
গ্রেফতারকৃত ইয়াবা ব্যবসায়ী মোঃ মাসুদ রানা জীবননগর থানার শাখারিয়া গ্রামের মোঃ আনিছুর রহমান ও মোছাঃ শামসুন্নাহার ফুলুর ছেলে। এই ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক জনাব মোঃ বদরুল হাসান বাদী হয়ে জীবননগর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি নিয়মিত মামলা রুজু করেছেন।
এদিকে, একই দিনে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে চুয়াডাঙ্গার দর্শনা থানাধীন বিভিন্ন এলাকায় অপর একটি মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো: শাহিন আলম।
দর্শনীয় এই অভিযানে গাঁজা বিক্রয় ও বহনের অপরাধে হাতেনাতে আরও দুই মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন— দর্শনা থানার মোহাম্মদপুর গ্রামের উজ্জ্বল দাসের ছেলে আশিক দাস (২০) এবং একই থানার জয়রামপুর শেখপাড়া গ্রামের মো: সাইফুল ইসলামের ছেলে মো: রাশিদুল ইসলাম (১৯)।
তল্লাশিকালে ২নং আসামী আশিক দাসের নিকট থেকে ২০ (বিশ) গ্রাম এবং ৩নং আসামী মো: রাশিদুল ইসলামের নিকট থেকে ২০ (বিশ) গ্রামসহ সর্বমোট ৪০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধারকৃত আলামত ও অপরাধ স্বীকার করায় ঘটনাস্থলেই এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো: শাহিন আলম মোবাইল কোর্ট (ভ্রাম্যমাণ আদালত) পরিচালনা করে আসামীদের সাজা প্রদান করেন। এর মধ্যে ২নং আসামী আশিক দাসকে ০৬ (ছয়) মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১০০ টাকা অর্থদণ্ড এবং ৩নং আসামী মো: রাশিদুল ইসলামকে ০৩ (তিন) মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১০০ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। সাজাপ্রাপ্ত আসামীদের চুয়াডাঙ্গা জেলা কারাগারে প্রেরণের প্রস্তুতি চলছে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি), চুয়াডাঙ্গা জেলা কার্যালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চুয়াডাঙ্গাকে মাদকমুক্ত করতে এবং যুবসমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে এই ধরণের মাদকবিরোধী আপসহীন অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে। মাদক ব্যবসায়ী ও কারবারিদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
প্রতিনিধির নাম 



















