১১:০৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রামেবি ভিসিকে অপসারণে তিন দিনের আল্টিমেটাম কাজ দিতে ৯ শতাংশ কমিশন দাবির অভিযোগ সংবাদ সম্মেলন করে অস্বীকার করলেন ভিসি

কাগজ প্রতিবেদক,রাজশাহীঃ
কাজ দেওয়ার জন্য ঠিকাদারের কাছ থেকে ৯ শতাংশ ঘুষ দাবির অভিযোগ ওঠার পর রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (রামেবি) উপাচার্য (ভিসি) অধ্যাপক ডা. জাওয়াদুল হককে অপসারণে তিন দিনের আল্টিমেটাম দিয়েছে সচেতন রাজশাহীবাসী। বুধবার সকালে নগরের সাহেববাজার জিরোপয়েন্টে আয়োজিত এক মানববন্ধন থেকে এই আল্টিমেটাম দেওয়া হয়। এ দিন সংবাদ সম্মেলন করে ভিসি তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

রামেবির স্থায়ী ক্যাম্পাসে বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণে সম্প্রতি ছয়টি প্যাকেজে ৭৭৭ কোটি টাকার দরপত্র আহ্বান করেছেন প্রকল্প পরিচালক (পিডি) ও ভিসি অধ্যাপক ডা. জাওয়াদুল হক। এসব কাজ দিতে ঠিকাদারের কাছ থেকে ৯ শতাংশ কমিশন দাবির অভিযোগ উঠেছে। জেনিট কর্পোরেশন নামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের স্বত্ত্বাধিকারী আতাউর রহমান টিপুর দাবি, দরপত্রের মাধ্যমেই ভিসি তাকে কাজ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। বিনিময়ে চেয়েছিলেন ৯ শতাংশ কমিশন। এ নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে রাজশাহীতে তোলপাড় শুরু হয়। অনেকেই ভিসির অপসারণ দাবি করছেন।

এ দাবিতে বুধবার বেলা সাড়ে ১১টায় নগরের সাহেববাজার জিরোপয়েন্টে ‘সচেতন রাজশাহীবাসী’র ব্যানারে মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। সেখানে জননেতা আতাউর রহমান স্মৃতি পরিষদের সভাপতি সাইদুর রহমান ঘোষণা দেন, আগামী তিন দিনের মধ্যে ভিসি জাওয়াদুল হককে অপসারণ করতে হবে। তা না হলে ভিসির দপ্তর ঘেরাও করা হবে।

তিনি বলেন, ‘ভিসির আপাদমস্তক দুর্নীতিতে ভরা। তিনি দায়িত্ব নিয়েই ক্যাম্পাসের কয়েক হাজার গাছের আম লুট করলেন। টেন্ডার ছাড়াই কয়েক হাজার গাছ কাটলেন। পরে শত কোটি টাকার গাছ নামমাত্র মূল্যে একটা সিন্ডিকেটের হাতে তুলে দিলেন। এখন আবার ৭৭৭ কোটি টাকার কাজ দিতে ঠিকাদারের কাছ থেকে ৯ পার্সেন্ট কমিশন চেয়েছেন। এই দুর্নীতিগ্রস্ত ভিসিকে তিন দিনের মধ্যে অপসারণ করা না হলে তাঁর দপ্তর আমরা ঘেরাও করব।’

কর্মসূচিতে ক্যাবের রাজশাহীর সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা মামুন বলেন, ‘এই ভিসি আওয়ামী লীগের আমলে কলেজ পরিদর্শক, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকসহ গুরুত্বপূর্ণ সাতটি পদে ছিলেন। তখনই দুর্নীতি করে টাকা কামিয়েছেন। সেই টাকায় ভিসি হয়েছেন। এখন টাকা তুলতে ঠিকাদারদের কাছে কমিশন খাচ্ছেন। নিয়োগ দিয়েও বহু টাকা করছেন। সম্প্রতি একজন পরিচালক নিয়োগ দিয়েছেন, যার সনদই নেই। এই ভিসিকে অপসারণ করা না হলে তাকে টেনে হিঁচড়ে তার চেয়ার থেকে নামানো হবে। রাজশাহীর মানুষ আর সহ্য করবে না।’

কর্মসূচিতে অন্যদের মধ্যে আরও বক্তব্য দেন- বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান আলী বরজাহান বরজাহান, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদ, জননেতা আতাউর রহমান স্মৃতি পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আসলাম-উদ-দৌলা, সামাজিক সংগঠক সালাহউদ্দিন মিন্টু, ব্যবসায়ী নেতা শফিকুর রহমান প্রমুখ। এতে রাজশাহীর বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

এদিকে নিজের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠার পর এ দিন সকালেই নিজের দপ্তরে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভিসি জাওয়াদুল হক। সেখানে তিনি বলেন, যে দুটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে তারা এখনও পর্যন্ত রামেবির কোনো কাজই করেনি। তাই তাদের কাছে ঘুষ চাওয়ার অভিযোগ হাস্যকর। তিনি দাবি করেন, নিয়ম মেনেই সবকিছু করছেন। এ জন্য তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে। তিনি কোনো অনিয়ম করেননি বলেও দাবি করেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গুলশানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল, ৫ দিন পর ওসি বদলি

রামেবি ভিসিকে অপসারণে তিন দিনের আল্টিমেটাম কাজ দিতে ৯ শতাংশ কমিশন দাবির অভিযোগ সংবাদ সম্মেলন করে অস্বীকার করলেন ভিসি

Update Time : ০৫:৩৮:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬

কাগজ প্রতিবেদক,রাজশাহীঃ
কাজ দেওয়ার জন্য ঠিকাদারের কাছ থেকে ৯ শতাংশ ঘুষ দাবির অভিযোগ ওঠার পর রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (রামেবি) উপাচার্য (ভিসি) অধ্যাপক ডা. জাওয়াদুল হককে অপসারণে তিন দিনের আল্টিমেটাম দিয়েছে সচেতন রাজশাহীবাসী। বুধবার সকালে নগরের সাহেববাজার জিরোপয়েন্টে আয়োজিত এক মানববন্ধন থেকে এই আল্টিমেটাম দেওয়া হয়। এ দিন সংবাদ সম্মেলন করে ভিসি তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

রামেবির স্থায়ী ক্যাম্পাসে বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণে সম্প্রতি ছয়টি প্যাকেজে ৭৭৭ কোটি টাকার দরপত্র আহ্বান করেছেন প্রকল্প পরিচালক (পিডি) ও ভিসি অধ্যাপক ডা. জাওয়াদুল হক। এসব কাজ দিতে ঠিকাদারের কাছ থেকে ৯ শতাংশ কমিশন দাবির অভিযোগ উঠেছে। জেনিট কর্পোরেশন নামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের স্বত্ত্বাধিকারী আতাউর রহমান টিপুর দাবি, দরপত্রের মাধ্যমেই ভিসি তাকে কাজ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। বিনিময়ে চেয়েছিলেন ৯ শতাংশ কমিশন। এ নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে রাজশাহীতে তোলপাড় শুরু হয়। অনেকেই ভিসির অপসারণ দাবি করছেন।

এ দাবিতে বুধবার বেলা সাড়ে ১১টায় নগরের সাহেববাজার জিরোপয়েন্টে ‘সচেতন রাজশাহীবাসী’র ব্যানারে মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। সেখানে জননেতা আতাউর রহমান স্মৃতি পরিষদের সভাপতি সাইদুর রহমান ঘোষণা দেন, আগামী তিন দিনের মধ্যে ভিসি জাওয়াদুল হককে অপসারণ করতে হবে। তা না হলে ভিসির দপ্তর ঘেরাও করা হবে।

তিনি বলেন, ‘ভিসির আপাদমস্তক দুর্নীতিতে ভরা। তিনি দায়িত্ব নিয়েই ক্যাম্পাসের কয়েক হাজার গাছের আম লুট করলেন। টেন্ডার ছাড়াই কয়েক হাজার গাছ কাটলেন। পরে শত কোটি টাকার গাছ নামমাত্র মূল্যে একটা সিন্ডিকেটের হাতে তুলে দিলেন। এখন আবার ৭৭৭ কোটি টাকার কাজ দিতে ঠিকাদারের কাছ থেকে ৯ পার্সেন্ট কমিশন চেয়েছেন। এই দুর্নীতিগ্রস্ত ভিসিকে তিন দিনের মধ্যে অপসারণ করা না হলে তাঁর দপ্তর আমরা ঘেরাও করব।’

কর্মসূচিতে ক্যাবের রাজশাহীর সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা মামুন বলেন, ‘এই ভিসি আওয়ামী লীগের আমলে কলেজ পরিদর্শক, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকসহ গুরুত্বপূর্ণ সাতটি পদে ছিলেন। তখনই দুর্নীতি করে টাকা কামিয়েছেন। সেই টাকায় ভিসি হয়েছেন। এখন টাকা তুলতে ঠিকাদারদের কাছে কমিশন খাচ্ছেন। নিয়োগ দিয়েও বহু টাকা করছেন। সম্প্রতি একজন পরিচালক নিয়োগ দিয়েছেন, যার সনদই নেই। এই ভিসিকে অপসারণ করা না হলে তাকে টেনে হিঁচড়ে তার চেয়ার থেকে নামানো হবে। রাজশাহীর মানুষ আর সহ্য করবে না।’

কর্মসূচিতে অন্যদের মধ্যে আরও বক্তব্য দেন- বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান আলী বরজাহান বরজাহান, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদ, জননেতা আতাউর রহমান স্মৃতি পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আসলাম-উদ-দৌলা, সামাজিক সংগঠক সালাহউদ্দিন মিন্টু, ব্যবসায়ী নেতা শফিকুর রহমান প্রমুখ। এতে রাজশাহীর বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

এদিকে নিজের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠার পর এ দিন সকালেই নিজের দপ্তরে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভিসি জাওয়াদুল হক। সেখানে তিনি বলেন, যে দুটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে তারা এখনও পর্যন্ত রামেবির কোনো কাজই করেনি। তাই তাদের কাছে ঘুষ চাওয়ার অভিযোগ হাস্যকর। তিনি দাবি করেন, নিয়ম মেনেই সবকিছু করছেন। এ জন্য তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে। তিনি কোনো অনিয়ম করেননি বলেও দাবি করেন।