০৯:৫৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তাহিরপুরে ৮ বছরের শিশুকে পালাক্রমে ধর্ষণ


‎স্টাফ রিপোর্টার

‎সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর উপজেলা সীমান্তে ৮ বছরের হতদরিদ্র এক এতিম শিশুকে পালাক্রমে দুই কিশোরের ধর্ষণের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চলের সৃষ্টি হয়েছে।

‎ধর্ষণের ঘটনা জানাজানির পর থেকেই কাউকে না জানানোর জন্য ভুক্তভোগী শিশুর পরিবারকে বিভিন্নভাবে হুমকি ধামকি ও ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে এই দুই ধর্ষণকারীর পরিবারের পক্ষ থেকে এমন অভিযোগ ভুক্তভোগীর পরিবারের। শুধু তাই নয়! ধর্ষণের পর থেকে শিশুটির অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিতেও বাধা দিচ্ছে ধর্ষণকারীর পরিবারের লোকজন। তবে ভাইরাল হওয়া ধর্ষণের ঘটনাটি জানেন না ওসি।

‎এ ঘটনাটি ঘটেছে গত ৪ জুন বৃহস্পতিবার বিকালে উপজেলার উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের সীমান্ত লাগোয়া কলাগাঁও গ্রামে।

‎আজ শনিবার দুপুরে এ বিষয়ে ভুক্তভোগী শিশুটির নানীর একটি ভিডিও বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফেইসবুকে পোস্ট করার পর মুহূর্তের ভাইরাল হয়ে যায় ভিডিও।

‎এর সত্যতা নিশ্চিত করতে উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের কলাগাঁও গ্রামের স্থানীয় ইউপি সদস্যই আব্দুর রশিদ বলেন, ভুক্তভোগী শিশুটির নানী আমাকে জানিয়েছে। ছেলে মেয়ে তিনজনই ছোট।

‎স্থানীয় এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্র জানাযায়, গত বৃহস্পতিবার বিকালে উপজেলার কলাগাঁও গ্রামের আল আমিনের ছেলে সাকিব মিয়া (১৪) ও রনি মিয়ার ছেলে রিসাল মিয়া(১৪) হতদরিদ্র ওই শিশুটিকে বাড়িতে একা পেয়ে জোরপূর্বক বাড়ির পিচনে টয়লেটে নিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। এ সময় শিশুটির রক্তক্ষরণ শুরু হলে ধর্ষণকারী দুই কিশোর শিশুটিকে টয়লেটে ফেলে চলে যায়। পরে ধর্ষণের ঘটনা শিশুটির পরিবার জানার পর ধর্ষণকারীদের পরিবারের লোকজন শিশুটিকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেয় এবং টাকা দিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়া চেষ্টা করে। এবং এ ঘটনা কাউকে না জানানোর জন্য হুমকি ও ভয়ভীতি দেখানো হয়।

‎ধর্ষিতা শিশুটির নানী জানান, এর আগেও গত অগ্রহায়ণ মাসে আমি( নানী) বাড়িতে না থাকায় কলাগাঁও গ্রামের আল আমিনের ছেলে সাকিব মিয়া ও রনির ছেলে রিসাল মিয়া আমার নাতিরে ধর্ষণ করে। তহন হেরা ঘটনা কেউরে কইতাম না কইছে । হেরা শক্তিশালী মানুষ। আমরা গরীব মানুষ। তাই ভয়ে তহন কইছি না। এহন আবার গত বিসুদবার ( বৃহস্পতিবার) আসরের নামাজের পরে বারিত(বাড়িতে) একলা পাইয়া এই পুলারা( সাকিব ও রিসাল) জোর কইরা টাইন্না বাড়ির পাছে ল্যাপ্টিন (টয়লেট) নিয়া ধর্ষণ করছে। আমরা গরীব মানুষ। এর সূক্ষ্ম বিচার চাই।

‎এ বিষয়ে জানতে তাহিরপুর থানার ওসি আমিনুর ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে এখনো কেউ অভিযোগ নিয়ে আসেনি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গুলশানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল, ৫ দিন পর ওসি বদলি

তাহিরপুরে ৮ বছরের শিশুকে পালাক্রমে ধর্ষণ

Update Time : ০৩:৫৩:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬


‎স্টাফ রিপোর্টার

‎সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর উপজেলা সীমান্তে ৮ বছরের হতদরিদ্র এক এতিম শিশুকে পালাক্রমে দুই কিশোরের ধর্ষণের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চলের সৃষ্টি হয়েছে।

‎ধর্ষণের ঘটনা জানাজানির পর থেকেই কাউকে না জানানোর জন্য ভুক্তভোগী শিশুর পরিবারকে বিভিন্নভাবে হুমকি ধামকি ও ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে এই দুই ধর্ষণকারীর পরিবারের পক্ষ থেকে এমন অভিযোগ ভুক্তভোগীর পরিবারের। শুধু তাই নয়! ধর্ষণের পর থেকে শিশুটির অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিতেও বাধা দিচ্ছে ধর্ষণকারীর পরিবারের লোকজন। তবে ভাইরাল হওয়া ধর্ষণের ঘটনাটি জানেন না ওসি।

‎এ ঘটনাটি ঘটেছে গত ৪ জুন বৃহস্পতিবার বিকালে উপজেলার উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের সীমান্ত লাগোয়া কলাগাঁও গ্রামে।

‎আজ শনিবার দুপুরে এ বিষয়ে ভুক্তভোগী শিশুটির নানীর একটি ভিডিও বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফেইসবুকে পোস্ট করার পর মুহূর্তের ভাইরাল হয়ে যায় ভিডিও।

‎এর সত্যতা নিশ্চিত করতে উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের কলাগাঁও গ্রামের স্থানীয় ইউপি সদস্যই আব্দুর রশিদ বলেন, ভুক্তভোগী শিশুটির নানী আমাকে জানিয়েছে। ছেলে মেয়ে তিনজনই ছোট।

‎স্থানীয় এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্র জানাযায়, গত বৃহস্পতিবার বিকালে উপজেলার কলাগাঁও গ্রামের আল আমিনের ছেলে সাকিব মিয়া (১৪) ও রনি মিয়ার ছেলে রিসাল মিয়া(১৪) হতদরিদ্র ওই শিশুটিকে বাড়িতে একা পেয়ে জোরপূর্বক বাড়ির পিচনে টয়লেটে নিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। এ সময় শিশুটির রক্তক্ষরণ শুরু হলে ধর্ষণকারী দুই কিশোর শিশুটিকে টয়লেটে ফেলে চলে যায়। পরে ধর্ষণের ঘটনা শিশুটির পরিবার জানার পর ধর্ষণকারীদের পরিবারের লোকজন শিশুটিকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেয় এবং টাকা দিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়া চেষ্টা করে। এবং এ ঘটনা কাউকে না জানানোর জন্য হুমকি ও ভয়ভীতি দেখানো হয়।

‎ধর্ষিতা শিশুটির নানী জানান, এর আগেও গত অগ্রহায়ণ মাসে আমি( নানী) বাড়িতে না থাকায় কলাগাঁও গ্রামের আল আমিনের ছেলে সাকিব মিয়া ও রনির ছেলে রিসাল মিয়া আমার নাতিরে ধর্ষণ করে। তহন হেরা ঘটনা কেউরে কইতাম না কইছে । হেরা শক্তিশালী মানুষ। আমরা গরীব মানুষ। তাই ভয়ে তহন কইছি না। এহন আবার গত বিসুদবার ( বৃহস্পতিবার) আসরের নামাজের পরে বারিত(বাড়িতে) একলা পাইয়া এই পুলারা( সাকিব ও রিসাল) জোর কইরা টাইন্না বাড়ির পাছে ল্যাপ্টিন (টয়লেট) নিয়া ধর্ষণ করছে। আমরা গরীব মানুষ। এর সূক্ষ্ম বিচার চাই।

‎এ বিষয়ে জানতে তাহিরপুর থানার ওসি আমিনুর ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে এখনো কেউ অভিযোগ নিয়ে আসেনি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।