১১:০৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কটিয়াদীতে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ,পৌর বিএনপির তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা

 

​কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি:

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলা পৌর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান সিরাজীর বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার ও ভিত্তিহীন গুজব ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছে কটিয়াদী পৌর বিএনপি এবং স্থানীয় এলাকাবাসী।
​আজ দুপুরে নিজ বাসভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন ভুক্তভোগী বিএনপি নেতা শাহজাহান সিরাজী।

তিনি বলেন, “বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর একজন ক্ষুদ্র কর্মী হিসেবে ফ্যাসিষ্ট হাসিনা সরকারের আমলে অনেক প্রতিকূল পথ পাড়ি দিয়ে সামাজিক উন্নয়নমুলক কাজ করেছি এবং অপরাধ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করেছি। চব্বিশের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানেও জীবন বাজি রেখে জনগণের পাশে ছিলাম।”

​তিনি অভিযোগ করে বলেন, “সম্প্রতি একটি স্থানীয় নিউজ পোর্টালে আমাকে জড়িয়ে সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে। স্বৈরাচারের কিছু দোসর ও দুষ্কৃতকারী নারী-পুরুষ আমার রাজনৈতিক ও পারিবারিক সুনাম নষ্ট করতে এই ষড়যন্ত্র করছে। ভিডিওতে যে নারীকে দিয়ে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য বলানো হয়েছিল, তিনি পরবর্তীতে স্বীকার করেছেন যে একটি কুচক্রী মহলের প্ররোচনায় ও টাকার বিনিময়ে তিনি ক্যামেরার সামনে এসব বলতে বাধ্য হয়েছিলেন।”

​বিএনপি নেতা আরও যোগ করেন, “দলীয় নেতা তারেক রহমানের নির্দেশনায় গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে জনগণের জানমাল রক্ষায় আমি সর্বদা সজাগ ছিলাম। মূলত বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যারা জামায়াতের পক্ষে কাজ করেছিল এবং যাদের সাথে আমার পারিবারিক জমি সংক্রান্ত বিরোধ রয়েছে, তারাই এই সাজানো নাটকটি করেছে। এর পেছনে বিএনপি নামধারী দু-একজন ব্যক্তি ও ফ্যাসিষ্টদের দোসররা জড়িত। আমি আমাদের নেতা তারেক রহমান এবং স্থানীয় মাননীয় সংসদ সদস্যের কাছে এই কুচক্রী মহলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।”

​এদিকে ঘটনার বিষয়ে অভিযুক্ত পক্ষ জানায়,শাহজাহান সিরাজীর বিরুদ্ধে করা অভিযোগগুলো সত্য নয় এবং এটি একটি ভুল বোঝাবুঝি ছিল। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে তাদের কোনো অভিযোগ নেই এবং তার কার্যকলাপে তারা সন্তুষ্ট।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ মে (রবিবার) কটিয়াদী পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের তেলিচাড়া গ্রামে অসহায় ও দরিদ্রদের মাঝে সরকারি ভিজিএফ (VGF) চালের কার্ড বিতরণ করেন শাহজাহান সিরাজী। তখন এক দরিদ্র নারীকে তার ও তার স্বামীর জন্য দুটি কার্ড দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ওই নারী চাল তুলে তা পুনরায় বিএনপি নেতার বাড়িতে ফিরিয়ে দিতে আসেন। নেতার স্ত্রী তাকে চাল নিয়ে যেতে বললে ওই নারী বলেন, “আমি ভিক্ষা করে খাই, আমার এই চাল লাগবে না।” পরবর্তীতে প্রতিপক্ষরা এই ঘটনাকে পুঁজি করে দুজন স্থানীয় সংবাদকর্মীর মাধ্যমে ভিডিও ধারণ করিয়ে ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়, যা নিয়ে স্থানীয় জনগণ ও দলীয় নেতা-কর্মীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

​এলাকাবাসী জানান, শাহজাহান সিরাজীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সম্পূর্ণ অসত্য ও বানোয়াট। তারা এই অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা জানান এবং ভবিষ্যতে এই ধরনের অরাজনৈতিক ও শিষ্টাচারবহির্ভূত সংবাদ প্রকাশ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।

​এ বিষয়ে কটিয়াদী পৌর বিএনপির সভাপতি আশরাফুল হক দাদন বলেন, “আমাদের দলের নেতার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। মূলত তার রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন ও তাকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য ফ্যাসিষ্টের কিছু দুষ্কৃতকারী পরিকল্পিতভাবে এই ঘটনা ঘটিয়েছে। আমি পৌর বিএনপির পক্ষ থেকে এর তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাচ্ছি।”

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গুলশানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল, ৫ দিন পর ওসি বদলি

কটিয়াদীতে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ,পৌর বিএনপির তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা

Update Time : ০১:১৪:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬

 

​কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি:

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলা পৌর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান সিরাজীর বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার ও ভিত্তিহীন গুজব ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছে কটিয়াদী পৌর বিএনপি এবং স্থানীয় এলাকাবাসী।
​আজ দুপুরে নিজ বাসভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন ভুক্তভোগী বিএনপি নেতা শাহজাহান সিরাজী।

তিনি বলেন, “বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর একজন ক্ষুদ্র কর্মী হিসেবে ফ্যাসিষ্ট হাসিনা সরকারের আমলে অনেক প্রতিকূল পথ পাড়ি দিয়ে সামাজিক উন্নয়নমুলক কাজ করেছি এবং অপরাধ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করেছি। চব্বিশের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানেও জীবন বাজি রেখে জনগণের পাশে ছিলাম।”

​তিনি অভিযোগ করে বলেন, “সম্প্রতি একটি স্থানীয় নিউজ পোর্টালে আমাকে জড়িয়ে সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে। স্বৈরাচারের কিছু দোসর ও দুষ্কৃতকারী নারী-পুরুষ আমার রাজনৈতিক ও পারিবারিক সুনাম নষ্ট করতে এই ষড়যন্ত্র করছে। ভিডিওতে যে নারীকে দিয়ে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য বলানো হয়েছিল, তিনি পরবর্তীতে স্বীকার করেছেন যে একটি কুচক্রী মহলের প্ররোচনায় ও টাকার বিনিময়ে তিনি ক্যামেরার সামনে এসব বলতে বাধ্য হয়েছিলেন।”

​বিএনপি নেতা আরও যোগ করেন, “দলীয় নেতা তারেক রহমানের নির্দেশনায় গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে জনগণের জানমাল রক্ষায় আমি সর্বদা সজাগ ছিলাম। মূলত বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যারা জামায়াতের পক্ষে কাজ করেছিল এবং যাদের সাথে আমার পারিবারিক জমি সংক্রান্ত বিরোধ রয়েছে, তারাই এই সাজানো নাটকটি করেছে। এর পেছনে বিএনপি নামধারী দু-একজন ব্যক্তি ও ফ্যাসিষ্টদের দোসররা জড়িত। আমি আমাদের নেতা তারেক রহমান এবং স্থানীয় মাননীয় সংসদ সদস্যের কাছে এই কুচক্রী মহলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।”

​এদিকে ঘটনার বিষয়ে অভিযুক্ত পক্ষ জানায়,শাহজাহান সিরাজীর বিরুদ্ধে করা অভিযোগগুলো সত্য নয় এবং এটি একটি ভুল বোঝাবুঝি ছিল। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে তাদের কোনো অভিযোগ নেই এবং তার কার্যকলাপে তারা সন্তুষ্ট।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ মে (রবিবার) কটিয়াদী পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের তেলিচাড়া গ্রামে অসহায় ও দরিদ্রদের মাঝে সরকারি ভিজিএফ (VGF) চালের কার্ড বিতরণ করেন শাহজাহান সিরাজী। তখন এক দরিদ্র নারীকে তার ও তার স্বামীর জন্য দুটি কার্ড দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ওই নারী চাল তুলে তা পুনরায় বিএনপি নেতার বাড়িতে ফিরিয়ে দিতে আসেন। নেতার স্ত্রী তাকে চাল নিয়ে যেতে বললে ওই নারী বলেন, “আমি ভিক্ষা করে খাই, আমার এই চাল লাগবে না।” পরবর্তীতে প্রতিপক্ষরা এই ঘটনাকে পুঁজি করে দুজন স্থানীয় সংবাদকর্মীর মাধ্যমে ভিডিও ধারণ করিয়ে ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়, যা নিয়ে স্থানীয় জনগণ ও দলীয় নেতা-কর্মীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

​এলাকাবাসী জানান, শাহজাহান সিরাজীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সম্পূর্ণ অসত্য ও বানোয়াট। তারা এই অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা জানান এবং ভবিষ্যতে এই ধরনের অরাজনৈতিক ও শিষ্টাচারবহির্ভূত সংবাদ প্রকাশ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।

​এ বিষয়ে কটিয়াদী পৌর বিএনপির সভাপতি আশরাফুল হক দাদন বলেন, “আমাদের দলের নেতার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। মূলত তার রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন ও তাকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য ফ্যাসিষ্টের কিছু দুষ্কৃতকারী পরিকল্পিতভাবে এই ঘটনা ঘটিয়েছে। আমি পৌর বিএনপির পক্ষ থেকে এর তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাচ্ছি।”