১০:২২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মুন্নি আক্তারের অভিযোগ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা কাজ করতে পারলে আমি কেনো পারবো না

 

মোঃ রিফাত আলী
(দেওয়ানগঞ্জ প্রতিনিধি)

অবহেলার অন্ধকার থেকে জনগণের রায়, এক অপরাজিতা মানুষের অধিকারের আর্তনাদ
​”সরকার আসে, সরকার যায়; কিন্তু আমাদের ভাগ্য কি কোনোদিন বদলাবে না
​আমি মুন্নী আক্তার। বাংলাদেশের মানচিত্রে জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ থেকে উঠে আসা এক লড়াকু প্রাণ। আমার পরিচয় সমাজ নির্ধারণ করে দিয়েছে ‘তৃতীয় লিঙ্গ’ হিসেবে, কিন্তু আমার পরিচয় আমি দিতে চেয়েছিলাম একজন দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে। যে বয়সে অন্য শিশুরা মা-বাবার আদরে স্কুলে যায়, সেই বয়সে আমি সমাজ আর পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পথে নেমেছিলাম।
​হ্যাঁ, আমি সেই মানুষ, যে বছরের পর বছর রাস্তায় দাঁড়িয়ে মানুষের কাছে হাত পেতেছে, ভিক্ষাবৃত্তি করে পেটের ক্ষুধা মিটিয়েছে। অবজ্ঞা, ঘৃণা আর লাঞ্ছনা সইতে সইতে আমার মনে একটি জেদ জেগেছিল—আমি আর কতদিন মানুষের বোঝা হয়ে থাকব, সেই জেদ থেকেই আমি পথে পথে ভিক্ষা করা ছেড়ে মানুষের দরজায় দরজায় গিয়েছি ভোটের জন্য। জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জের তেইশ হাজার সাতশত আটষট্টি (২৩,৭৬৮) জন মানুষ যখন আমাকে ভোট দিয়ে জয়ী করল, সেদিন পুরো বিশ্ব দেখেছিল এক নতুন ইতিহাস।
​আমার এই জয় কোনো রাজনৈতিক দয়া ছিল না, সেটি ছিল সাধারণ মানুষের ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ। আজ আমার প্রশ্ন রাষ্ট্রের কাছে—ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা যদি বর্তমানে স্বপদে বহাল থেকে তাদের দায়িত্ব পালন করতে পারেন, তবে আমি কেন পারব না আমি তো কোনো অবৈধ পথে আসিনি, বরং সাধারণ মানুষের সরাসরি ভোটে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছি। যদি তৃণমূলের জনপ্রতিনিধিরা কাজ চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পান, তবে জনগণের বিপুল ভোটে নির্বাচিত একজন নারী প্রতিনিধির অধিকার কেন এক আদেশে কেড়ে নেওয়া হলো,
​রাষ্ট্র যেখানে আমাদের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার কথা, সেখানে এক কলমের খোঁচায় আমার অর্জিত সম্মান এবং জনগণের পবিত্র আমানত কেড়ে নেওয়া হলো। আমাকে অপসারণ করা মানে কেবল মুন্নীকে সরানো নয়, বরং বাংলাদেশের সকল তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের কপালে আবারও ‘অবহেলার ছাপ’ মেরে দেওয়া।
​আমি আর সেই অন্ধকারে ফিরে যেতে চাই না। আমি মানুষের মাঝে বাঁচতে চাই, মানুষের সেবা করেই মরতে চাই। রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হোক, কিন্তু জনগণের সরাসরি ভোটে পাওয়া অধিকার কেন কেড়ে নেওয়া হবে? আমি রাষ্ট্রপ্রধানদের কাছে বিচার চাই। আমাকে আমার অধিকার ফিরিয়ে দিন, আমাকে তেইশ হাজার মানুষের আমানত রক্ষা করার সুযোগ দিন।
​”মানুষ মানুষের জন্য—এই কথাটি কি কেবল আমার জন্যই আজ মিথ্যা হয়ে থাকবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গুলশানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল, ৫ দিন পর ওসি বদলি

মুন্নি আক্তারের অভিযোগ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা কাজ করতে পারলে আমি কেনো পারবো না

Update Time : ০৫:২৭:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬

 

মোঃ রিফাত আলী
(দেওয়ানগঞ্জ প্রতিনিধি)

অবহেলার অন্ধকার থেকে জনগণের রায়, এক অপরাজিতা মানুষের অধিকারের আর্তনাদ
​”সরকার আসে, সরকার যায়; কিন্তু আমাদের ভাগ্য কি কোনোদিন বদলাবে না
​আমি মুন্নী আক্তার। বাংলাদেশের মানচিত্রে জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ থেকে উঠে আসা এক লড়াকু প্রাণ। আমার পরিচয় সমাজ নির্ধারণ করে দিয়েছে ‘তৃতীয় লিঙ্গ’ হিসেবে, কিন্তু আমার পরিচয় আমি দিতে চেয়েছিলাম একজন দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে। যে বয়সে অন্য শিশুরা মা-বাবার আদরে স্কুলে যায়, সেই বয়সে আমি সমাজ আর পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পথে নেমেছিলাম।
​হ্যাঁ, আমি সেই মানুষ, যে বছরের পর বছর রাস্তায় দাঁড়িয়ে মানুষের কাছে হাত পেতেছে, ভিক্ষাবৃত্তি করে পেটের ক্ষুধা মিটিয়েছে। অবজ্ঞা, ঘৃণা আর লাঞ্ছনা সইতে সইতে আমার মনে একটি জেদ জেগেছিল—আমি আর কতদিন মানুষের বোঝা হয়ে থাকব, সেই জেদ থেকেই আমি পথে পথে ভিক্ষা করা ছেড়ে মানুষের দরজায় দরজায় গিয়েছি ভোটের জন্য। জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জের তেইশ হাজার সাতশত আটষট্টি (২৩,৭৬৮) জন মানুষ যখন আমাকে ভোট দিয়ে জয়ী করল, সেদিন পুরো বিশ্ব দেখেছিল এক নতুন ইতিহাস।
​আমার এই জয় কোনো রাজনৈতিক দয়া ছিল না, সেটি ছিল সাধারণ মানুষের ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ। আজ আমার প্রশ্ন রাষ্ট্রের কাছে—ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা যদি বর্তমানে স্বপদে বহাল থেকে তাদের দায়িত্ব পালন করতে পারেন, তবে আমি কেন পারব না আমি তো কোনো অবৈধ পথে আসিনি, বরং সাধারণ মানুষের সরাসরি ভোটে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছি। যদি তৃণমূলের জনপ্রতিনিধিরা কাজ চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পান, তবে জনগণের বিপুল ভোটে নির্বাচিত একজন নারী প্রতিনিধির অধিকার কেন এক আদেশে কেড়ে নেওয়া হলো,
​রাষ্ট্র যেখানে আমাদের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার কথা, সেখানে এক কলমের খোঁচায় আমার অর্জিত সম্মান এবং জনগণের পবিত্র আমানত কেড়ে নেওয়া হলো। আমাকে অপসারণ করা মানে কেবল মুন্নীকে সরানো নয়, বরং বাংলাদেশের সকল তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের কপালে আবারও ‘অবহেলার ছাপ’ মেরে দেওয়া।
​আমি আর সেই অন্ধকারে ফিরে যেতে চাই না। আমি মানুষের মাঝে বাঁচতে চাই, মানুষের সেবা করেই মরতে চাই। রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হোক, কিন্তু জনগণের সরাসরি ভোটে পাওয়া অধিকার কেন কেড়ে নেওয়া হবে? আমি রাষ্ট্রপ্রধানদের কাছে বিচার চাই। আমাকে আমার অধিকার ফিরিয়ে দিন, আমাকে তেইশ হাজার মানুষের আমানত রক্ষা করার সুযোগ দিন।
​”মানুষ মানুষের জন্য—এই কথাটি কি কেবল আমার জন্যই আজ মিথ্যা হয়ে থাকবে।