১১:৫৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সুন্দরবনে তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা: প্রজনন সুরক্ষায় কড়াকড়ি, সংকটে কর্মহীন বনজীবীরা

 

 

জি.এম.আমিনুর রহমান সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি:

সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং মাছসহ বিভিন্ন জলজ প্রাণীর নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে আজ ১ জুন থেকে সুন্দরবনে তিন মাসের জন্য সব ধরনের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে। এ সময়ে বনের অভ্যন্তরে মাছ ও কাঁকড়া আহরণ, মধু সংগ্রহ এবং পর্যটকদের প্রবেশ সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে।

বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত সময়টি সুন্দরবনের অধিকাংশ মাছ ও জলজ প্রাণীর প্রধান প্রজনন মৌসুম। এ সময় বন্যপ্রাণীর অবাধ বিচরণ, প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং বনাঞ্চলের উদ্ভিদরাজির স্বাভাবিক পুনর্জন্ম নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রতিবছরের মতো এবারও এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তবে এ নিষেধাজ্ঞার ফলে সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল হাজারো জেলে, মৌয়াল ও বনজীবী কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। আয়ের প্রধান উৎস বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিবার-পরিজন নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন তারা। বনজীবীদের দাবি, বন বন্ধ থাকলে বিকল্প আয়ের সুযোগ না থাকায় সংসার চালাতে অনেককে ঋণ বা ধারদেনার ওপর নির্ভর করতে হয়।

স্থানীয় বনজীবীরা জানান, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের স্বার্থে তারা সরকারি সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেন। তবে নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ে খাদ্য সহায়তা ও আর্থিক প্রণোদনা না থাকায় তাদের দুর্ভোগ বাড়ে। এ কারণে তারা বিশেষ খাদ্য সহায়তা ও আর্থিক প্রণোদনার দাবি জানিয়েছেন।

বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বনের সুরক্ষা ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণের স্বার্থে নিষেধাজ্ঞা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হবে। এ সময় বনাঞ্চলে নজরদারি জোরদার থাকবে এবং নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এ ধরনের পদক্ষেপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে বননির্ভর জনগোষ্ঠীর জীবিকা সুরক্ষায় কার্যকর সহায়তা নিশ্চিত করাও সমানভাবে প্রয়োজন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গুলশানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল, ৫ দিন পর ওসি বদলি

সুন্দরবনে তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা: প্রজনন সুরক্ষায় কড়াকড়ি, সংকটে কর্মহীন বনজীবীরা

Update Time : ১০:৪৭:৪৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬

 

 

জি.এম.আমিনুর রহমান সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি:

সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং মাছসহ বিভিন্ন জলজ প্রাণীর নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে আজ ১ জুন থেকে সুন্দরবনে তিন মাসের জন্য সব ধরনের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে। এ সময়ে বনের অভ্যন্তরে মাছ ও কাঁকড়া আহরণ, মধু সংগ্রহ এবং পর্যটকদের প্রবেশ সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে।

বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত সময়টি সুন্দরবনের অধিকাংশ মাছ ও জলজ প্রাণীর প্রধান প্রজনন মৌসুম। এ সময় বন্যপ্রাণীর অবাধ বিচরণ, প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং বনাঞ্চলের উদ্ভিদরাজির স্বাভাবিক পুনর্জন্ম নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রতিবছরের মতো এবারও এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তবে এ নিষেধাজ্ঞার ফলে সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল হাজারো জেলে, মৌয়াল ও বনজীবী কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। আয়ের প্রধান উৎস বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিবার-পরিজন নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন তারা। বনজীবীদের দাবি, বন বন্ধ থাকলে বিকল্প আয়ের সুযোগ না থাকায় সংসার চালাতে অনেককে ঋণ বা ধারদেনার ওপর নির্ভর করতে হয়।

স্থানীয় বনজীবীরা জানান, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের স্বার্থে তারা সরকারি সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেন। তবে নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ে খাদ্য সহায়তা ও আর্থিক প্রণোদনা না থাকায় তাদের দুর্ভোগ বাড়ে। এ কারণে তারা বিশেষ খাদ্য সহায়তা ও আর্থিক প্রণোদনার দাবি জানিয়েছেন।

বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বনের সুরক্ষা ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণের স্বার্থে নিষেধাজ্ঞা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হবে। এ সময় বনাঞ্চলে নজরদারি জোরদার থাকবে এবং নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এ ধরনের পদক্ষেপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে বননির্ভর জনগোষ্ঠীর জীবিকা সুরক্ষায় কার্যকর সহায়তা নিশ্চিত করাও সমানভাবে প্রয়োজন।