১০:২৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চামড়া নিয়ে দেশী বিদেশি আগ্রাসন সিন্ডিকেট লুটপাট এতিম শিশুরা ও হতদরিদ্র মানুষ বঞ্চিত

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

YOUSUF ঈদের পর কোরবানির চামড়া নিয়ে যে তামাশা হয়, সেটা বছরের পর বছর দেখে আসছি।

বাস্তবতা কী দাঁড়িয়েছে:
1. দাম নেই: ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেটের অনেক মাদ্রাসা-এতিমখানায় এবারও খবর আসছে – “ফ্রিতেও ট্যানারি চামড়া নেয় না”। লবণ-পরিবহন খরচই উঠে না। অথচ সেই চামড়া ট্যান করে বিদেশে ৫০ টাকার জুতা, ১০ টাকার ব্যাগ হয়ে যায়।
2. সিন্ডিকেটের খেলা: কয়েকটা বড় ট্যানারি + আড়তদার মিলে দাম নির্ধারণ করে দেয়। মৌসুমি ব্যবসায়ী-মাদ্রাসার লোক দামাদামির সুযোগই পায় না। “চামড়া পঁচে যাবে” ভয় দেখিয়ে ২০০-৩০ টাকায় কিনে নেয়।
3. ক্ষতিগ্রস্ত কারা?: সবচেয়ে বেশি বঞ্চিত হয় মাদ্রাসা-এতিমখানা। তারা সারাবছর এই চামড়ার টাকার জন্য অপেক্ষা করে। গরিব মানুষ কোরবানি দিয়ে ভাবে “চামড়াটা অন্তত কাজে লাগবে” – সেটাও হয় না।

চামড়া শিল্প ধ্বংসের পথে কেন?
– কাঁচামাল নষ্ট: লবণ ঠিকমতো না দেওয়া, দেরিতে ট্যানারিতে পৌঁছানো। ৩০-৪০% চামড়াই নষ্ট হয়ে যায়।
– মূল্য সংযোজন নেই: আমরা কাঁচা চামড়া ৩০ টাকায় বিক্রি করি। ভারত-চীন সেটা ট্যান করে ৩০ টাকার পণ্য বানিয়ে রপ্তানি করে। আমাদের ফিনিশড লেদার গুডসের রপ্তানি দিন কমছে।
– কর্মসংস্থান কমছে: হাজারী, সাভারের ট্যানারিগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় লক্ষ শ্রমিক বেকার।

সরকারের সদিচ্ছা থাকলে যা করা দরকার:
1. সিন্ডিকেট ভাঙা: ট্যানারি মালিকদের কার্টেল ভাঙতে প্রতিযোগিতা বাড়ানো। বিদেশি ক্রেতা সরাসরি মাদ্রাসা থেকে কিনতে পারার ব্যবস্থা।
2. সংরক্ষণ ও লজিস্টিকস: ঈদের আগে প্রত্যেক জেলায় সরকারি লবণ ও সংরক্ষণ কেন্দ্র। দ্রুত ঢাকায় আনার জন্য ভর্তুকি দেওয়া ট্রাক।
3. ন্যূনতম দাম বেঁধে দেওয়া: সরকার যে দাম ঘোষণা করে, সেটা বাস্তবে কার্যকর করা। না মানলে ট্যানারির লাইসেন্স বাতিল।
4. ফিনিশড পণ্যে জোর: কাঁচা চামড়া রপ্তানি বন্ধ করে ব্যাগ, জুতা, জ্যাকেট বানিয়ে রপ্তানি। এতে শ্রমিকের চাকরি বাড়বে, টাকাও বেশি আসবে।

এখন সাধারণ মানুষ/মাদ্রাসা কী করতে পারে?
– চামড়া দ্রুত লবণ দিয়ে ভালোভাবে সংরক্ষণ করা।
– কয়েকটা মাদ্রাসা মিলে একসাথে লট করে ট্যানারির সাথে দরদাম করা।
– “ফ্রিতে দেব না” বলে ২-৩ দিন অপেক্ষা করলে সিন্ডিকেটের দাম বাড়াতে বাধ্য হয়। গত ২-৩ বছর এটা কিছুটা কাজ দিচ্ছে।

আপনার এলাকায় এবার চামড়ার কী অবস্থা দেখলেন? কোনো মাদ্রাসা-এতিমখানা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে?
চামড়া ও চামড়া শিল্প দেশীয় কাচামালের তৈরি রপ্তানি জাতপূণ্য উৎপাদন কারী শিল্প কর্মসংস্থান টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়ন এ শিল্প কারখানা রক্ষা
সরকারের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরী।
এই সিন্ডিকেট ভাঙার জন্য সামাজিক চাপ দরকার। আমরা আওয়াজ না তুললে ওদের টনক নড়বে না।
আলহাজ্ব এমএ ইউসুফ
সভাপতি, বাংলাদেশ শ্রমজীবী কর্মজীবী পেশাজীবি ঐক্যজোট,
বাশকপঐক্যজোট

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গুলশানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল, ৫ দিন পর ওসি বদলি

চামড়া নিয়ে দেশী বিদেশি আগ্রাসন সিন্ডিকেট লুটপাট এতিম শিশুরা ও হতদরিদ্র মানুষ বঞ্চিত

Update Time : ০৫:৪৮:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

YOUSUF ঈদের পর কোরবানির চামড়া নিয়ে যে তামাশা হয়, সেটা বছরের পর বছর দেখে আসছি।

বাস্তবতা কী দাঁড়িয়েছে:
1. দাম নেই: ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেটের অনেক মাদ্রাসা-এতিমখানায় এবারও খবর আসছে – “ফ্রিতেও ট্যানারি চামড়া নেয় না”। লবণ-পরিবহন খরচই উঠে না। অথচ সেই চামড়া ট্যান করে বিদেশে ৫০ টাকার জুতা, ১০ টাকার ব্যাগ হয়ে যায়।
2. সিন্ডিকেটের খেলা: কয়েকটা বড় ট্যানারি + আড়তদার মিলে দাম নির্ধারণ করে দেয়। মৌসুমি ব্যবসায়ী-মাদ্রাসার লোক দামাদামির সুযোগই পায় না। “চামড়া পঁচে যাবে” ভয় দেখিয়ে ২০০-৩০ টাকায় কিনে নেয়।
3. ক্ষতিগ্রস্ত কারা?: সবচেয়ে বেশি বঞ্চিত হয় মাদ্রাসা-এতিমখানা। তারা সারাবছর এই চামড়ার টাকার জন্য অপেক্ষা করে। গরিব মানুষ কোরবানি দিয়ে ভাবে “চামড়াটা অন্তত কাজে লাগবে” – সেটাও হয় না।

চামড়া শিল্প ধ্বংসের পথে কেন?
– কাঁচামাল নষ্ট: লবণ ঠিকমতো না দেওয়া, দেরিতে ট্যানারিতে পৌঁছানো। ৩০-৪০% চামড়াই নষ্ট হয়ে যায়।
– মূল্য সংযোজন নেই: আমরা কাঁচা চামড়া ৩০ টাকায় বিক্রি করি। ভারত-চীন সেটা ট্যান করে ৩০ টাকার পণ্য বানিয়ে রপ্তানি করে। আমাদের ফিনিশড লেদার গুডসের রপ্তানি দিন কমছে।
– কর্মসংস্থান কমছে: হাজারী, সাভারের ট্যানারিগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় লক্ষ শ্রমিক বেকার।

সরকারের সদিচ্ছা থাকলে যা করা দরকার:
1. সিন্ডিকেট ভাঙা: ট্যানারি মালিকদের কার্টেল ভাঙতে প্রতিযোগিতা বাড়ানো। বিদেশি ক্রেতা সরাসরি মাদ্রাসা থেকে কিনতে পারার ব্যবস্থা।
2. সংরক্ষণ ও লজিস্টিকস: ঈদের আগে প্রত্যেক জেলায় সরকারি লবণ ও সংরক্ষণ কেন্দ্র। দ্রুত ঢাকায় আনার জন্য ভর্তুকি দেওয়া ট্রাক।
3. ন্যূনতম দাম বেঁধে দেওয়া: সরকার যে দাম ঘোষণা করে, সেটা বাস্তবে কার্যকর করা। না মানলে ট্যানারির লাইসেন্স বাতিল।
4. ফিনিশড পণ্যে জোর: কাঁচা চামড়া রপ্তানি বন্ধ করে ব্যাগ, জুতা, জ্যাকেট বানিয়ে রপ্তানি। এতে শ্রমিকের চাকরি বাড়বে, টাকাও বেশি আসবে।

এখন সাধারণ মানুষ/মাদ্রাসা কী করতে পারে?
– চামড়া দ্রুত লবণ দিয়ে ভালোভাবে সংরক্ষণ করা।
– কয়েকটা মাদ্রাসা মিলে একসাথে লট করে ট্যানারির সাথে দরদাম করা।
– “ফ্রিতে দেব না” বলে ২-৩ দিন অপেক্ষা করলে সিন্ডিকেটের দাম বাড়াতে বাধ্য হয়। গত ২-৩ বছর এটা কিছুটা কাজ দিচ্ছে।

আপনার এলাকায় এবার চামড়ার কী অবস্থা দেখলেন? কোনো মাদ্রাসা-এতিমখানা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে?
চামড়া ও চামড়া শিল্প দেশীয় কাচামালের তৈরি রপ্তানি জাতপূণ্য উৎপাদন কারী শিল্প কর্মসংস্থান টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়ন এ শিল্প কারখানা রক্ষা
সরকারের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরী।
এই সিন্ডিকেট ভাঙার জন্য সামাজিক চাপ দরকার। আমরা আওয়াজ না তুললে ওদের টনক নড়বে না।
আলহাজ্ব এমএ ইউসুফ
সভাপতি, বাংলাদেশ শ্রমজীবী কর্মজীবী পেশাজীবি ঐক্যজোট,
বাশকপঐক্যজোট