১২:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নাসিরনগরে হাওরের ধান পানির নিচে: আহাদ মিয়ার মৃত্যু, ফসল হারিয়ে দিশেহারা হাজারো কৃষক

 

নিহারেন্দু চক্রবর্তী, নাসিরনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে হাওরের পানিতে তলিয়ে যাওয়া ধান কাটতে গিয়ে আহাদ মিয়া (৫৫) নামে এক কৃষকের করুণ মৃত্যু হয়েছে। আজ শনিবার (২ মে) সকালে উপজেলার গোয়ালনগর ইউনিয়নের মেদির হাওড়ে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত আহাদ মিয়া ওই ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের রামপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং বর্তমান ইউপি সদস্য আহমদ হোসেন রিতুর চাচাতো ভাই।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, রামপুর গ্রামের কৃষক আহাদ মিয়া সকালে নিজের জমিতে গিয়ে দেখেন তাঁর কষ্টের আবাদি ধান মেদির হাওড়ের পানিতে সম্পূর্ণ তলিয়ে গেছে। শেষ সম্বলটুকু রক্ষার আশায় তিনি নিজেই পানিতে নেমে ধান কাটার চেষ্টা শুরু করেন। দীর্ঘক্ষণ প্রতিকূল পরিবেশে ধান কাটার সময় হঠাৎ তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং ঘটনাস্থলেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। এলাকাবাসীর ধারণা, বুক সমান পানিতে অতিরিক্ত পরিশ্রম ও চোখের সামনে ফসল নষ্ট হওয়ার শোক সইতে না পেরে তিনি হৃদরোগে (স্ট্রোক) আক্রান্ত হয়েছিলেন।
এই ঘটনায় এলাকায় শোকের মাতম চলছে। নিহতের স্বজনদের আহাজারিতে মেদির হাওড়ের বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে।
একই দিনে গোয়ালনগর ইউনিয়নের সোনাতোলা গ্রামে আরও এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য দেখা গেছে। ওই গ্রামের জাহের মিয়ার ছেলে মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম তাঁর চার বিঘা জমির ধান পানির নিচে তলিয়ে যেতে দেখে মাঠেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাঁর জ্ঞান ফিরলেও কষ্টের ফসল হারানোর দুশ্চিন্তায় তিনি এখন মানসিকভাবে দিশেহারা।
এদিকে গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে নাসিরনগরের হাওরাঞ্চলে হাজার হাজার বিঘা জমির আধাপাকা ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। একদিকে ফসল হারানো, অন্যদিকে তীব্র শ্রমিক সংকটের কারণে অনেক কৃষক চাইলেও সময়মতো ধান ঘরে তুলতে পারছেন না। একের পর এক এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় পুরো উপজেলার কৃষক সমাজের মধ্যে এখন চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন স্থানে বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যে মাঠে কাজ করার সময় কৃষকদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন স্থানীয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গুলশানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল, ৫ দিন পর ওসি বদলি

নাসিরনগরে হাওরের ধান পানির নিচে: আহাদ মিয়ার মৃত্যু, ফসল হারিয়ে দিশেহারা হাজারো কৃষক

Update Time : ০৫:০০:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬

 

নিহারেন্দু চক্রবর্তী, নাসিরনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে হাওরের পানিতে তলিয়ে যাওয়া ধান কাটতে গিয়ে আহাদ মিয়া (৫৫) নামে এক কৃষকের করুণ মৃত্যু হয়েছে। আজ শনিবার (২ মে) সকালে উপজেলার গোয়ালনগর ইউনিয়নের মেদির হাওড়ে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত আহাদ মিয়া ওই ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের রামপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং বর্তমান ইউপি সদস্য আহমদ হোসেন রিতুর চাচাতো ভাই।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, রামপুর গ্রামের কৃষক আহাদ মিয়া সকালে নিজের জমিতে গিয়ে দেখেন তাঁর কষ্টের আবাদি ধান মেদির হাওড়ের পানিতে সম্পূর্ণ তলিয়ে গেছে। শেষ সম্বলটুকু রক্ষার আশায় তিনি নিজেই পানিতে নেমে ধান কাটার চেষ্টা শুরু করেন। দীর্ঘক্ষণ প্রতিকূল পরিবেশে ধান কাটার সময় হঠাৎ তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং ঘটনাস্থলেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। এলাকাবাসীর ধারণা, বুক সমান পানিতে অতিরিক্ত পরিশ্রম ও চোখের সামনে ফসল নষ্ট হওয়ার শোক সইতে না পেরে তিনি হৃদরোগে (স্ট্রোক) আক্রান্ত হয়েছিলেন।
এই ঘটনায় এলাকায় শোকের মাতম চলছে। নিহতের স্বজনদের আহাজারিতে মেদির হাওড়ের বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে।
একই দিনে গোয়ালনগর ইউনিয়নের সোনাতোলা গ্রামে আরও এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য দেখা গেছে। ওই গ্রামের জাহের মিয়ার ছেলে মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম তাঁর চার বিঘা জমির ধান পানির নিচে তলিয়ে যেতে দেখে মাঠেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাঁর জ্ঞান ফিরলেও কষ্টের ফসল হারানোর দুশ্চিন্তায় তিনি এখন মানসিকভাবে দিশেহারা।
এদিকে গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে নাসিরনগরের হাওরাঞ্চলে হাজার হাজার বিঘা জমির আধাপাকা ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। একদিকে ফসল হারানো, অন্যদিকে তীব্র শ্রমিক সংকটের কারণে অনেক কৃষক চাইলেও সময়মতো ধান ঘরে তুলতে পারছেন না। একের পর এক এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় পুরো উপজেলার কৃষক সমাজের মধ্যে এখন চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন স্থানে বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যে মাঠে কাজ করার সময় কৃষকদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন স্থানীয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।