
ধান-সবজি-মাছ চাষে গোপন বাণিজ্য,রাজস্বহীন লক্ষ লক্ষ টাকার কারবারের অভিযোগ
বিশেষ প্রতিনিধি-মামুনুর রশীদ মামুন, ময়মনসিংহ: রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি প্রতিষ্ঠান তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসি–এর ময়মনসিংহ আঞ্চলিক কার্যালয়ের বিশাল সরকারি মাঠ দখল করে দীর্ঘদিন ধরে বাণিজ্যিক কৃষি কার্যক্রম পরিচালনা ও সেখান থেকে অর্জিত অর্থ ব্যক্তিগতভাবে আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে কয়েকজন কর্মচারীর বিরুদ্ধে। সংশ্লিষ্ট অফিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে,কার্যালয়ের আঙিনায় কয়েক একর জায়গাজুড়ে থাকা মাঠে ধান,বিভিন্ন সবজি ও মাছ চাষ করে বাণিজ্যিকভাবে আয় করা হলেও সেই অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়নি। অভিযোগ রয়েছে—নিলুফা,সেলিম ও মনির নামের কয়েকজন কর্মচারী দীর্ঘদিন ধরে এসব কার্যক্রম পরিচালনা করে ব্যক্তিগত ভাবে লাভবান হচ্ছেন।
স্থানীয়দের দাবি,সরকারি সম্পত্তি ব্যবহার করে এ ধরনের বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন নেওয়া হয়নি। বরং প্রভাব খাটিয়ে ও প্রশাসনিক দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে অভিযুক্তরা নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছেন। অভিযোগ আরও রয়েছে, কোনো নিয়মনীতি ও আইনকানুনের তোয়াক্কা না করে সরকারি সম্পদের অপব্যবহার করে তারা ব্যক্তিগত আয় করছেন। এতে রাষ্ট্রের আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি প্রশাসনিক জবাবদিহিতার বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিতাস গ্যাসের ময়মনসিংহ অঞ্চলের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (প্রশাসন) সাধন রায় সরাসরি কোনো মন্তব্য না করে সংশ্লিষ্ট ম্যানেজারের সঙ্গে কথা বলার কথা বলে ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। পরে ম্যানেজার মাকসুদুজ্জামান পাঠান বলেন, “ভবিষ্যতে সরকারের অনুমতি ছাড়া এ ধরনের কোনো বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে দেওয়া হবে না।” তবে অতীত ও বর্তমান অনিয়মের বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে কিনা—এ প্রশ্নে তিনি সুস্পষ্ট জবাব দিতে পারেননি। এদিকে একই কার্যালয় ঘিরে আরও নানা অনিয়মের অভিযোগ সামনে এসেছে। স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, অফিসের বাউন্ডারি ওয়াল থেকে লক্ষ লক্ষ টাকার কাঁটাতার চুরি, আশপাশের প্রভাবশালী মহলে অবৈধ গ্যাস সংযোগ প্রদান সহ একাধিক ঘটনায় কর্তৃপক্ষের রহস্যজনক নীরবতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সচেতন মহলের মতে,একটি রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের সম্পদ এভাবে ব্যক্তি স্বার্থে ব্যবহার হওয়া শুধু আর্থিক ক্ষতিই নয়,বরং শাসন-ব্যবস্থার দুর্বলতার প্রতিফলন। তারা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন,দ্রুত কার্যকর তদন্ত না হলে সরকারি সম্পদ অপব্যবহারের এ প্রবণতা আরও বিস্তৃত হতে পারে। তাই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে পেট্রোবাংলাসহ সরকারের উচ্চ-পর্যায়ের হস্তক্ষেপ জরুরি বলে মত দিয়েছেন তারা।
প্রতিনিধির নাম 



















