১১:১৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মোরেলগঞ্জে সৌদি প্রবাসীর কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ, প্রাণনাশের হুমকি—থানায় মামলা

মোরেলগঞ্জ (বাগেরহাট) প্রতিনিধি:
বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার বলইবুনিয়া ইউনিয়নের কিসমত জামুয়া এলাকায় এক সৌদি প্রবাসীর কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী প্রবাসী মো. মোস্তাফিজুর রহমান খান মোরেলগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়ে মামলা দায়ের করেছেন। ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয় সূত্র ও অভিযোগপত্রে জানা গেছে, মোস্তাফিজুর রহমান খান দীর্ঘ প্রায় ১৮ বছর সৌদি আরবে বসবাসের পর ২০২৫ সালে দেশে ফেরেন। দেশে ফিরে তিনি নিজ এলাকায় শান্তিপূর্ণভাবে বসবাসের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হন। তার পিতা রুস্তম আলী খান দীর্ঘ প্রায় ৩০ বছর ধরে ৯নং বলইবুনিয়া ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের বারবার নির্বাচিত ইউপি সদস্য (মেম্বার) হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, এলাকার কয়েকজন ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, মাদক সেবন ও বিক্রি, চাঁদাবাজি এবং এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে আসছে। বিদেশ থেকে ফেরার পর থেকেই অভিযুক্তরা বিভিন্নভাবে মোস্তাফিজুর রহমানের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের চেষ্টা চালিয়ে আসছিল।
জানা যায়, কিসমত জামুয়া ও আমবাড়িয়া সংযোগ খালের ওপর থাকা একটি পুরনো ব্রিজ ধ্বংস হয়ে গেলে স্থানীয় জনসাধারণের চলাচলের সুবিধার্থে নিজ অর্থায়নে প্রায় ১০০ ফুট দীর্ঘ একটি কাঠের পুল নির্মাণ করেন মোস্তাফিজুর রহমান। এলাকাবাসীর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ওই পুলের ওপর দিয়ে ভারী মালবাহী যান চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৫ এপ্রিল ২০২৬, সকাল আনুমানিক ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে কয়েকজন ব্যক্তি ইট, বালু, সিমেন্ট ও খোয়া বোঝাই ভ্যান নিয়ে ওই কাঠের পুল পারাপারের চেষ্টা করলে মোস্তাফিজুর রহমান বাধা দেন। এ সময় কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে অভিযুক্তরা সংঘবদ্ধ হয়ে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাকে ঘিরে ফেলে।
ভুক্তভোগীর দাবি, অভিযুক্তরা তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে, ধারালো দা দিয়ে হত্যার হুমকি দেয় এবং ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদার টাকা না দিলে এলাকায় বসবাস করতে না দেওয়া এবং বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে হত্যারও হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে একাধিকবার সালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হলেও অভিযুক্তরা চাঁদা ছাড়া কোনো আপোষ-মীমাংসায় রাজি হয়নি বলে অভিযোগ করেন মোস্তাফিজুর রহমান। বর্তমানে তিনি ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলেও জানিয়েছেন।
মামলায় সাইফুল ইসলাম শেখ, হাফিজ খান, হাবিব খান, বাচ্চু শেখ, ফেরদৌস শেখ, শাওন খান ও মাঈন খান-সহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪/৫ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীর নাম সাক্ষী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. মিরাজ খান ও মো. কুদ্দুস শেখ জানান,
“ঘটনার সময় আমরা সেখানে উপস্থিত ছিলাম। প্রকাশ্যেই অভিযুক্তরা পাভেলের কাছে চাঁদা দাবি করে এবং দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে মহড়া দেয়। এতে এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।”
এ বিষয়ে পাঁচবারের নির্বাচিত ইউপি সদস্য খান রুস্তম আলী বলেন,
“আমার ছেলে নিজের টাকায় জনগণের সুবিধার জন্য কাঠের পুল নির্মাণ করেছে। সেখানে ভারী যান চলাচল নিষেধ ছিল। বিষয়টি নিয়ে এভাবে হুমকি ও চাঁদা দাবি অত্যন্ত দুঃখজনক। আমি প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি।”
এ বিষয়ে মোরেলগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃমাহমুদুর রহমান বলেন,আমরা একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তবে অভিযুক্তদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে এলাকায় স্বস্তি ফিরে আসবে। বর্তমানে ঘটনাটি নিয়ে পুরো এলাকায় উদ্বেগ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গুলশানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল, ৫ দিন পর ওসি বদলি

মোরেলগঞ্জে সৌদি প্রবাসীর কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ, প্রাণনাশের হুমকি—থানায় মামলা

Update Time : ০১:২৭:০৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬

মোরেলগঞ্জ (বাগেরহাট) প্রতিনিধি:
বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার বলইবুনিয়া ইউনিয়নের কিসমত জামুয়া এলাকায় এক সৌদি প্রবাসীর কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী প্রবাসী মো. মোস্তাফিজুর রহমান খান মোরেলগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়ে মামলা দায়ের করেছেন। ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয় সূত্র ও অভিযোগপত্রে জানা গেছে, মোস্তাফিজুর রহমান খান দীর্ঘ প্রায় ১৮ বছর সৌদি আরবে বসবাসের পর ২০২৫ সালে দেশে ফেরেন। দেশে ফিরে তিনি নিজ এলাকায় শান্তিপূর্ণভাবে বসবাসের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হন। তার পিতা রুস্তম আলী খান দীর্ঘ প্রায় ৩০ বছর ধরে ৯নং বলইবুনিয়া ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের বারবার নির্বাচিত ইউপি সদস্য (মেম্বার) হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, এলাকার কয়েকজন ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, মাদক সেবন ও বিক্রি, চাঁদাবাজি এবং এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে আসছে। বিদেশ থেকে ফেরার পর থেকেই অভিযুক্তরা বিভিন্নভাবে মোস্তাফিজুর রহমানের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের চেষ্টা চালিয়ে আসছিল।
জানা যায়, কিসমত জামুয়া ও আমবাড়িয়া সংযোগ খালের ওপর থাকা একটি পুরনো ব্রিজ ধ্বংস হয়ে গেলে স্থানীয় জনসাধারণের চলাচলের সুবিধার্থে নিজ অর্থায়নে প্রায় ১০০ ফুট দীর্ঘ একটি কাঠের পুল নির্মাণ করেন মোস্তাফিজুর রহমান। এলাকাবাসীর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ওই পুলের ওপর দিয়ে ভারী মালবাহী যান চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৫ এপ্রিল ২০২৬, সকাল আনুমানিক ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে কয়েকজন ব্যক্তি ইট, বালু, সিমেন্ট ও খোয়া বোঝাই ভ্যান নিয়ে ওই কাঠের পুল পারাপারের চেষ্টা করলে মোস্তাফিজুর রহমান বাধা দেন। এ সময় কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে অভিযুক্তরা সংঘবদ্ধ হয়ে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাকে ঘিরে ফেলে।
ভুক্তভোগীর দাবি, অভিযুক্তরা তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে, ধারালো দা দিয়ে হত্যার হুমকি দেয় এবং ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদার টাকা না দিলে এলাকায় বসবাস করতে না দেওয়া এবং বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে হত্যারও হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে একাধিকবার সালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হলেও অভিযুক্তরা চাঁদা ছাড়া কোনো আপোষ-মীমাংসায় রাজি হয়নি বলে অভিযোগ করেন মোস্তাফিজুর রহমান। বর্তমানে তিনি ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলেও জানিয়েছেন।
মামলায় সাইফুল ইসলাম শেখ, হাফিজ খান, হাবিব খান, বাচ্চু শেখ, ফেরদৌস শেখ, শাওন খান ও মাঈন খান-সহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪/৫ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীর নাম সাক্ষী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. মিরাজ খান ও মো. কুদ্দুস শেখ জানান,
“ঘটনার সময় আমরা সেখানে উপস্থিত ছিলাম। প্রকাশ্যেই অভিযুক্তরা পাভেলের কাছে চাঁদা দাবি করে এবং দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে মহড়া দেয়। এতে এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।”
এ বিষয়ে পাঁচবারের নির্বাচিত ইউপি সদস্য খান রুস্তম আলী বলেন,
“আমার ছেলে নিজের টাকায় জনগণের সুবিধার জন্য কাঠের পুল নির্মাণ করেছে। সেখানে ভারী যান চলাচল নিষেধ ছিল। বিষয়টি নিয়ে এভাবে হুমকি ও চাঁদা দাবি অত্যন্ত দুঃখজনক। আমি প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি।”
এ বিষয়ে মোরেলগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃমাহমুদুর রহমান বলেন,আমরা একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তবে অভিযুক্তদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে এলাকায় স্বস্তি ফিরে আসবে। বর্তমানে ঘটনাটি নিয়ে পুরো এলাকায় উদ্বেগ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।