১০:২৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পেকুয়ায় জমি দখল করে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ

পেকুয়া প্রতিনিধি-

কক্সবাজারের পেকুয়ায় দীর্ঘবছরের ভোগদখলীয় জমি দখল করে স্থাপনা নির্মাণ চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।
গত ১৮ এপ্রিল উপজেলার সদর ইউনিয়নের চৈরভাঙা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এঘটনায় একই এলাকার মৃত রশিদ আহমদের স্ত্রী শাহানা বেগম বাদী হয়ে পেকুয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, চৈরভাঙা এলাকার মৃত বাদশা মিয়ার ছেলে রমিজ উদ্দিন, মোক্তার আহমদের ছেলে মো.ওসমান, ইসমাঈল, ফারুক, আব্দুল করিমের ছেলে নাছির উদ্দিন, আমির হোছাইনের ছেলে খোকন,সোলাইমানের ছেলে নজরুল ইসলাম, আলী আহমদের ছেলে ওয়াজ উদ্দিন ও ওসমানের ছেলে সাকিব হোছেন কে বিবাদী করা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, মৃত লাল মোহাম্মদ গং এর মেহেরনামা মৌজায় আরএস ৫৩৪ নং খতিয়ানের ৯৫৮ নং দাগের ব/৩৫ এর ৩৫ শতক জমি বিবাদীরা দখল করে ঐ স্থানের শ্রেণী পরিবর্তন করে নতুন করে স্থাপনা নির্মাণ করে যাচ্ছে।

ওয়ারিশ সূত্রে রশিদ আহমদের ছেলে হাসান আলী ও আব্দুর রহিম খোকন বলেন, দীর্ঘবছর যাবৎ পরিবার নিয়ে আমরা ঐ জায়গায় বসবাস করে আসছি। সেখানে আমাদের ঘরবাড়ি,মুরগীর খামার,টিউবওয়েল, বিভিন্ন ফলের গাছসহ সীমানাপ্রাচীর ছিল। কিন্তু বিবাদীরা হঠাৎ সন্ত্রাসী কায়দায় রাতের আঁধারে আমাদের ঘরবাড়ি ভাংচুর করে সবাইকে আহত করে ঐ জায়গা দখলে নেয়। পরবর্তীতে শ্রেণী পরিবর্তন করে নিজেদের জায়গা বলে দাবি করে। সেই থেকে এখনো আমরা পরিবারের সকলে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।
এবিষয়ে বিজ্ঞ আদালত, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, এলাকায় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত হয়ে বহুবার সামাধানের চেষ্টা করে। কিন্তু তারা কখনো কাগজপত্র নিয়ে বসবে বলে বসে না।

মৃত ফজল করিমের ছেলে ছাবের আহমদ বলেন, আমার দাদা লাল মোহাম্মদ, মোহাম্মদ কালু, আব্দুল গণি, আব্দুল ওয়াদুদ, ওজির আলী, ফজর আলী, বুধা গাজী, নজর আলী মেহেরনামা মৌজার আরএস ৫৩৪ নং খতিয়ানের মালিক। তাদের মরণে আমরা ওয়ারিশ সূত্রে মালিক হই। ১৯১০ সন থেকে আমার পূর্ব পুরুষরা স্থায়ীভাবে নালিশী জমি ভোগদখল করে আসছে। পরবর্তীতে বিএস জরিপের বিরুদ্ধে আমাদের বিজ্ঞ যুগ্ন জজ আদালতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা আছে যার অপর মামলা নং- ১৯/১৯৯৯ ইং। তারা নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বর্তামানে স্থাপনা নির্মাণ করে যাচ্ছে। এমতাবস্থায় এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। সে কোন সময় ঐ জায়গায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হতে পারে। আমরা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

 

বিবাদীর পক্ষে মুস্তাফিজুর রহমানের ওয়ারিশ সূত্রে বরাদ দিয়ে রমিজ উদ্দিন বলেন,
১৯৩৩ ইং সনে নিলাম খরিদ ও দখল দেওয়ানী বয়নামা দলিল মূলে মালিক আলমাছ খাতুন চৌধুরানী। উক্ত মালিক মরণে ওয়ারিশি মালিক নুরুল ইসলাম চৌধুরী গং তাহাদের নামে এমআরআর ও বিএস জরিপ রেকর্ড চুড়ান্ত ভাবে প্রচারিত হয়।
নিলাম খরিদের পরে চৌধুরী প্রজা সুত্রে মালিক মেহেরনামা মৌজার এমআরআর ৭১৩ নং বিএস ৩৪৪ নং খতিয়ানের রেকর্ডিয় মালিক সোলাইমান, মুস্তাফিজুর রহমান ও কবির আহমদ এর নামে ৩ একর জমি রেকর্ড চুড়ান্ত প্রচার আছে।
উক্ত রেকর্ড মূলে ওয়ারিশগণ দীর্ঘ ৭০ বছর ধরে ভোগদখলে।

আওয়ামিলীগ সরকার আসলে ক্ষমতার অপব্যবহার করে জোর পূর্বক আমাদের নালিশি জমি শ্রেণি পরিবর্তন করে দখলে নেয়। এখন সেই জমি জবরদখল থেকে উদ্ধার করতে গিয়ে উল্টো দখলবাজ হয়ে যাচ্ছি। বিগত সময়ে তারা ৫টি দেওয়ানী আদালতে মামলা দায়ের করে। আদালত কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে তাদের মামলা খারিজ করে আমাদেরকে রায় প্রদান করে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গুলশানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল, ৫ দিন পর ওসি বদলি

পেকুয়ায় জমি দখল করে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ

Update Time : ০৩:০২:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

পেকুয়া প্রতিনিধি-

কক্সবাজারের পেকুয়ায় দীর্ঘবছরের ভোগদখলীয় জমি দখল করে স্থাপনা নির্মাণ চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।
গত ১৮ এপ্রিল উপজেলার সদর ইউনিয়নের চৈরভাঙা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এঘটনায় একই এলাকার মৃত রশিদ আহমদের স্ত্রী শাহানা বেগম বাদী হয়ে পেকুয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, চৈরভাঙা এলাকার মৃত বাদশা মিয়ার ছেলে রমিজ উদ্দিন, মোক্তার আহমদের ছেলে মো.ওসমান, ইসমাঈল, ফারুক, আব্দুল করিমের ছেলে নাছির উদ্দিন, আমির হোছাইনের ছেলে খোকন,সোলাইমানের ছেলে নজরুল ইসলাম, আলী আহমদের ছেলে ওয়াজ উদ্দিন ও ওসমানের ছেলে সাকিব হোছেন কে বিবাদী করা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, মৃত লাল মোহাম্মদ গং এর মেহেরনামা মৌজায় আরএস ৫৩৪ নং খতিয়ানের ৯৫৮ নং দাগের ব/৩৫ এর ৩৫ শতক জমি বিবাদীরা দখল করে ঐ স্থানের শ্রেণী পরিবর্তন করে নতুন করে স্থাপনা নির্মাণ করে যাচ্ছে।

ওয়ারিশ সূত্রে রশিদ আহমদের ছেলে হাসান আলী ও আব্দুর রহিম খোকন বলেন, দীর্ঘবছর যাবৎ পরিবার নিয়ে আমরা ঐ জায়গায় বসবাস করে আসছি। সেখানে আমাদের ঘরবাড়ি,মুরগীর খামার,টিউবওয়েল, বিভিন্ন ফলের গাছসহ সীমানাপ্রাচীর ছিল। কিন্তু বিবাদীরা হঠাৎ সন্ত্রাসী কায়দায় রাতের আঁধারে আমাদের ঘরবাড়ি ভাংচুর করে সবাইকে আহত করে ঐ জায়গা দখলে নেয়। পরবর্তীতে শ্রেণী পরিবর্তন করে নিজেদের জায়গা বলে দাবি করে। সেই থেকে এখনো আমরা পরিবারের সকলে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।
এবিষয়ে বিজ্ঞ আদালত, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, এলাকায় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত হয়ে বহুবার সামাধানের চেষ্টা করে। কিন্তু তারা কখনো কাগজপত্র নিয়ে বসবে বলে বসে না।

মৃত ফজল করিমের ছেলে ছাবের আহমদ বলেন, আমার দাদা লাল মোহাম্মদ, মোহাম্মদ কালু, আব্দুল গণি, আব্দুল ওয়াদুদ, ওজির আলী, ফজর আলী, বুধা গাজী, নজর আলী মেহেরনামা মৌজার আরএস ৫৩৪ নং খতিয়ানের মালিক। তাদের মরণে আমরা ওয়ারিশ সূত্রে মালিক হই। ১৯১০ সন থেকে আমার পূর্ব পুরুষরা স্থায়ীভাবে নালিশী জমি ভোগদখল করে আসছে। পরবর্তীতে বিএস জরিপের বিরুদ্ধে আমাদের বিজ্ঞ যুগ্ন জজ আদালতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা আছে যার অপর মামলা নং- ১৯/১৯৯৯ ইং। তারা নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বর্তামানে স্থাপনা নির্মাণ করে যাচ্ছে। এমতাবস্থায় এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। সে কোন সময় ঐ জায়গায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হতে পারে। আমরা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

 

বিবাদীর পক্ষে মুস্তাফিজুর রহমানের ওয়ারিশ সূত্রে বরাদ দিয়ে রমিজ উদ্দিন বলেন,
১৯৩৩ ইং সনে নিলাম খরিদ ও দখল দেওয়ানী বয়নামা দলিল মূলে মালিক আলমাছ খাতুন চৌধুরানী। উক্ত মালিক মরণে ওয়ারিশি মালিক নুরুল ইসলাম চৌধুরী গং তাহাদের নামে এমআরআর ও বিএস জরিপ রেকর্ড চুড়ান্ত ভাবে প্রচারিত হয়।
নিলাম খরিদের পরে চৌধুরী প্রজা সুত্রে মালিক মেহেরনামা মৌজার এমআরআর ৭১৩ নং বিএস ৩৪৪ নং খতিয়ানের রেকর্ডিয় মালিক সোলাইমান, মুস্তাফিজুর রহমান ও কবির আহমদ এর নামে ৩ একর জমি রেকর্ড চুড়ান্ত প্রচার আছে।
উক্ত রেকর্ড মূলে ওয়ারিশগণ দীর্ঘ ৭০ বছর ধরে ভোগদখলে।

আওয়ামিলীগ সরকার আসলে ক্ষমতার অপব্যবহার করে জোর পূর্বক আমাদের নালিশি জমি শ্রেণি পরিবর্তন করে দখলে নেয়। এখন সেই জমি জবরদখল থেকে উদ্ধার করতে গিয়ে উল্টো দখলবাজ হয়ে যাচ্ছি। বিগত সময়ে তারা ৫টি দেওয়ানী আদালতে মামলা দায়ের করে। আদালত কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে তাদের মামলা খারিজ করে আমাদেরকে রায় প্রদান করে।