
মোঃ নাঈম উদ্দীন
বিশেষ প্রতিনিধি, চুয়াডাঙ্গা।
১৯ এপ্রিল, ২০২৬ ইং
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়নে পারিবারিক বিবাদের জেরে এক হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে। মায়ের সাথে সামান্য মনোমালিন্য ও অভিমান করে বেলায়েত হোসেন (৪০) নামে এক স্থানীয় ব্যবসায়ী নিজের দোকানে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। শনিবার (১৮ এপ্রিল) আনুমানিক রাত ৯টার দিকে কার্পাসডাঙ্গা বাজার পাড়া এলাকায় এই ঘটনাটি ঘটে।
নিহত বেলায়েত হোসেন কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়নের বাজার পাড়ার মৃত নাছির উল্লাহর ছেলে। তিনি পেশায় একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ছিলেন এবং এলাকায় শান্ত প্রকৃতির মানুষ হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সন্ধ্যায় বেলায়েত হোসেনের সাথে তাঁর মায়ের কোনো একটি বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটি ও ঝগড়া হয়। এতে তিনি প্রচণ্ড অভিমান করেন। রাত ৯টার দিকে বাড়ি থেকে বের হয়ে তিনি পার্শ্ববর্তী কার্পাসডাঙ্গা বাজারে তাঁর নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে যান।
রাত সাড়ে ৯টার দিকে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে বাড়িতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে তাঁরা তাঁর দোকানের সামনে গিয়ে ডাকাডাকি করেন। ভেতর থেকে কোনো সাড়া শব্দ না পেয়ে সন্দেহ হলে তারা দোকানের সাটার (ঝাপ) তোলেন। ভেতরে প্রবেশ করে তারা দেখতে পান, সিলিং ফ্যানের সাথে কাপড়ের দড়ি দিয়ে বেলায়েত হোসেনের নিথর দেহ ঝুলছে।
খবর পেয়ে কার্পাসডাঙ্গা ফাঁড়ি পুলিশ ও দামুড়হুদা মডেল থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ লাশের সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করে এবং রাতেই ময়নাতদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর ব্যবস্থা করে।
দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ মেসবাহ উদ্দিন সংবাদ মাধ্যমকে জানান:
“প্রাথমিকভাবে আমরা জানতে পেরেছি যে, মায়ের সাথে পারিবারিক ঝগড়ার জেরে অভিমান করেই বেলায়েত হোসেন আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন। তবে মৃত্যুর পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে কি না, তা নিশ্চিত হতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে একটি অপমৃত্যু মামলার প্রস্তুতি চলছে।”
এদিকে একজন উদীয়মান ব্যবসায়ীর এমন অকাল ও অস্বাভাবিক মৃত্যুতে কার্পাসডাঙ্গা বাজার পাড়া ও সংলগ্ন এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতের পরিবারের সদস্যরা শোকাতুর হয়ে পড়েছেন।পাড়া-প্রতিবেশীরা বলছেন, তুচ্ছ কারণে এমন আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত কোনোভাবেই কাম্য নয়।
রিপোর্টটি লেখা পর্যন্ত ময়নাতদন্তের ফলাফল আসেনি এবং পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় আনুষ্ঠানিক কোনো অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।
প্রতিনিধির নাম 



















