১২:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৪০তম ফোবানা সম্মেলন কানাডার টরন্টোর সাংবাদিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত

হাকিকুল ইসলাম খোকন,বাপসনিউজঃ ২০২৫ সালের নিউইয়র্কের নায়াগ্রা ফলসে অনুষ্ঠিত ৩৯তম ফোবানা স্টীয়ারিং কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক এবছরের ৪০তম ফোবানা সম্মেলন কানাডার টরন্টোতে অনুষ্ঠিত হবে। আযোজক সংগঠন হচ্ছে বাংলাদেশ সোসাইটি এসসি ওন্টারিও, কানাডা। ভেন্যু হচ্ছে টরন্টো নিটির নর্থ ইয়র্কের এগলিন্টন ও ডনভ্যালির ‘ডনভ্যালি হোটেল এন্ড সুইটস’। যেহেতো চলতি বছর বিশ্বকাপ ফুটবলের অন্যতম আয়োজক দেশ কানাডা, সেইহেতু টরন্টো ফোবানা সম্মেলনটি-কে ‘ফোবানা, ফিফা বিশ্বকাপ কনভেনশন’ হিসেবে অভিহিত করা হবে। এই সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা প্রবাসী বাংলাদেশী ছাড়াও বাংলাদেশ থেকে আগত অতিথিরা যোগ দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। সম্মেলনের সম্ভাব্য ব্যয় হবে এক লাখ ৩৫ হাজার কানাডিয়ান ডলার। গত বুধবার ,৮ এপ্রিল ২০২৬,সন্ধ্যায় ৮টায় নিউইয়র্ক সিটির জ্যাকসন হাইটসের সেফস মহল রেস্তোরায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ফোবানা কর্মকর্তারা এসব তথ্য জানান। খবর আইবিএননিউজ ।
সংবাদ সম্মেলনে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ফোবানা স্টীয়ারিং কমিটির চেয়ারম্যান গিয়াস আহমেদ। সম্মেলন বিষয়ে নানা তথ্য তুলে ধরে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ফোবানা’র সাবেক চেয়ারম্যান ও ‘পেট্রন এন্ড প্লাটিনাম স্পন্সর’ বিশিষ্ট ব্যবসায়ী শাহ নেওয়াজ। ফোবানার এক্সিকিউটিভ সেক্রেটারী ফিরোজ আহমেদের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন ফোবানার সাবেক চেয়ারম্যান আলী ইমাম ও ডা. খন্দকার মাসুদুর রহমান, সাবেক এক্সিকিউটিভ সেক্রেটারী কাজী আজম, ৪০তম ফোবানা সম্মেলনের আয়োজক সংগঠন বাংলাদেশ সোসাইটি এসসি’র প্রধান উপদেষ্টা ড. দারা আবু যুবায়ের, ফোবানার জয়েন্ট সেক্রেটারী শাহাব উদ্দিন সাগর, কোষাধ্যক্ষ ওয়াহিদ কাজী কাজী এলিন সদস্য খন্দকার ফরহাদ প্রমুখ। পরে ফোবানা কর্মকর্তারা উপস্থিত সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী সহ সঙ্গীত শিল্পী রানো নেওয়াজ, কমিউনিটি অ্যাক্টিভিষ্ট আহসান হাবীব, ডা. নার্গিস রহমান, অনিক রাজ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, অতীতের ধারাবাহিকতায় উত্তর আমেরিকায় প্রবাসী বাংলাদেশীদের শিল্প-সংস্কৃতি তুলে ধরার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মকে এক ছাতার তলে আনাই হবে এবারের ফোবানা সম্মেলনের প্রধান লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। আয়োজকদের প্রত্যাশা প্রবাসী বাংলাদেশী কমিউনিটির অগ্রগতি ও ঐক্যকে আরো শক্তিশালী করতে এবারের ফোবানা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এক প্রশ্নের উত্তরে শাহ নেওয়াজ বলেন, ফোবানায় বিভক্তির পর সম্মিলিতভাবে যে করপোরেশনের মাধ্যমে পরবর্তীতে ঐক্যবদ্ধ ফোবানা সম্মেলন হয় তার সকল অরিজিনাল কাগজপত্র, ডকুমেন্ট আমাদের হাতে। তাই আমাদেরটাই আসল ফোবানা। কেউ বিভক্তি করতে চাইলে কারো কিছু করার নেই।
অপর এক প্রশ্নের উত্তরে গিয়াস আহমেদ বলেন, আমাদের ফোবানাই আসল ফোবানা। এই ফোবানায় কোন বিভক্তি নেই। তিনি আরো বলেন, দীর্ঘ ৩৯ বছরের ফোবানার মাধ্যমে কমিউনিটির চাওয়া-পাওয়া আর প্রত্যাশার অনেক পূরণ হয়েছে। বিশেষ মূলধারার সাথে কমিউনিটির সেতু বন্ধন ফোবানা’র বড় অর্জন বলে তিনি উল্লেখ করেন। অপর এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, কমিউনিটি বড় হয়েছে, প্রবাসী শিল্পীর সংখ্য বাড়ছে, সংগঠন বাড়ছে, বিভক্তিও আছে, সব মিলিয়ে ফোবানা’র গুরুত্বও কমে গেছে।
অপর এক প্রশ্নের উত্তরে গিয়াস আহমেদ বলেন, মামলা করে ফোবানার বিভক্তি বন্ধ করা যাবে না। আর ফোবানা কোন রাজনৈতিক প্লাটফর্ম না। শেখ মুজিবের বা জিয়াউর রহমানের ছবি টাঙ্গিয়ে ফোবানা সম্মেল ন করলে তা ‘ফোবানা সম্মেলন’ হবে না।
ফোবানা সম্মেলন ঘিরে আদম ব্যবসার অভিযোগ সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে গিয়াস আহমেদ বলেন, আমার জানামতে এমন ঘটনা ঘটেনি। তবে আপনাদের কাছে (সাংবদিক) কোন অভিযোগ থাকলে অনুসন্ধান করুন, রিপোর্ট করুন।
এক প্রশ্নের উত্তরে ড. দারা আবু যুবায়ের বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ফোবানার সাথে জড়িত। ৬ বার ফোবানা সম্মেলনের নেতৃত¦ দিয়েছি। অনেক ভুল-ক্রুটি হয়েছে। এজন্য ক্ষমা চাই আর অতীতের অভিজ্ঞতার আলোকে ৪০তম ফোবানা সুন্দর করে আয়োজন করতে সবার সহযোগিতা চাই।
ফোবানা সম্মেলনের লাভ-লোকসান সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিগত বছরগুলোতে যে কয়টি সম্মেলনে নেতৃত্ব দিয়েছে সেসব সম্মেলনে লস (ক্ষতি) হয়েছে। তবে এবার আশা করছি লাভ না হলেও লস হবে না। কারণ এবার আমার সাথে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী শাহ নেওয়াজ ও গিয়াস আহমেদ রয়েছেন।

অপর এক প্রশ্নের উত্তরে ডা. খন্দকার মাসুদুর রহমান বলেন, সময়ের প্রয়োজনে গতানুগতিক সম্মেলন নয়, এখন ফোবানা সম্মেলনের অনুষ্ঠানমালায় পরিবর্তন আনা উচিৎ। সম্মেলন আয়োজকদের নতুন নতুন আইডিয়া যোগ করে সেমিনার-সিম্পোজিয়াম করা উচিৎ।সংবাদ সম্মেলন শেষে সবাইকে নৈশভোজে আপ্যায়ন করা হয় ।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গুলশানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল, ৫ দিন পর ওসি বদলি

৪০তম ফোবানা সম্মেলন কানাডার টরন্টোর সাংবাদিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত

Update Time : ০৪:১৭:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

হাকিকুল ইসলাম খোকন,বাপসনিউজঃ ২০২৫ সালের নিউইয়র্কের নায়াগ্রা ফলসে অনুষ্ঠিত ৩৯তম ফোবানা স্টীয়ারিং কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক এবছরের ৪০তম ফোবানা সম্মেলন কানাডার টরন্টোতে অনুষ্ঠিত হবে। আযোজক সংগঠন হচ্ছে বাংলাদেশ সোসাইটি এসসি ওন্টারিও, কানাডা। ভেন্যু হচ্ছে টরন্টো নিটির নর্থ ইয়র্কের এগলিন্টন ও ডনভ্যালির ‘ডনভ্যালি হোটেল এন্ড সুইটস’। যেহেতো চলতি বছর বিশ্বকাপ ফুটবলের অন্যতম আয়োজক দেশ কানাডা, সেইহেতু টরন্টো ফোবানা সম্মেলনটি-কে ‘ফোবানা, ফিফা বিশ্বকাপ কনভেনশন’ হিসেবে অভিহিত করা হবে। এই সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা প্রবাসী বাংলাদেশী ছাড়াও বাংলাদেশ থেকে আগত অতিথিরা যোগ দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। সম্মেলনের সম্ভাব্য ব্যয় হবে এক লাখ ৩৫ হাজার কানাডিয়ান ডলার। গত বুধবার ,৮ এপ্রিল ২০২৬,সন্ধ্যায় ৮টায় নিউইয়র্ক সিটির জ্যাকসন হাইটসের সেফস মহল রেস্তোরায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ফোবানা কর্মকর্তারা এসব তথ্য জানান। খবর আইবিএননিউজ ।
সংবাদ সম্মেলনে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ফোবানা স্টীয়ারিং কমিটির চেয়ারম্যান গিয়াস আহমেদ। সম্মেলন বিষয়ে নানা তথ্য তুলে ধরে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ফোবানা’র সাবেক চেয়ারম্যান ও ‘পেট্রন এন্ড প্লাটিনাম স্পন্সর’ বিশিষ্ট ব্যবসায়ী শাহ নেওয়াজ। ফোবানার এক্সিকিউটিভ সেক্রেটারী ফিরোজ আহমেদের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন ফোবানার সাবেক চেয়ারম্যান আলী ইমাম ও ডা. খন্দকার মাসুদুর রহমান, সাবেক এক্সিকিউটিভ সেক্রেটারী কাজী আজম, ৪০তম ফোবানা সম্মেলনের আয়োজক সংগঠন বাংলাদেশ সোসাইটি এসসি’র প্রধান উপদেষ্টা ড. দারা আবু যুবায়ের, ফোবানার জয়েন্ট সেক্রেটারী শাহাব উদ্দিন সাগর, কোষাধ্যক্ষ ওয়াহিদ কাজী কাজী এলিন সদস্য খন্দকার ফরহাদ প্রমুখ। পরে ফোবানা কর্মকর্তারা উপস্থিত সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী সহ সঙ্গীত শিল্পী রানো নেওয়াজ, কমিউনিটি অ্যাক্টিভিষ্ট আহসান হাবীব, ডা. নার্গিস রহমান, অনিক রাজ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, অতীতের ধারাবাহিকতায় উত্তর আমেরিকায় প্রবাসী বাংলাদেশীদের শিল্প-সংস্কৃতি তুলে ধরার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মকে এক ছাতার তলে আনাই হবে এবারের ফোবানা সম্মেলনের প্রধান লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। আয়োজকদের প্রত্যাশা প্রবাসী বাংলাদেশী কমিউনিটির অগ্রগতি ও ঐক্যকে আরো শক্তিশালী করতে এবারের ফোবানা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এক প্রশ্নের উত্তরে শাহ নেওয়াজ বলেন, ফোবানায় বিভক্তির পর সম্মিলিতভাবে যে করপোরেশনের মাধ্যমে পরবর্তীতে ঐক্যবদ্ধ ফোবানা সম্মেলন হয় তার সকল অরিজিনাল কাগজপত্র, ডকুমেন্ট আমাদের হাতে। তাই আমাদেরটাই আসল ফোবানা। কেউ বিভক্তি করতে চাইলে কারো কিছু করার নেই।
অপর এক প্রশ্নের উত্তরে গিয়াস আহমেদ বলেন, আমাদের ফোবানাই আসল ফোবানা। এই ফোবানায় কোন বিভক্তি নেই। তিনি আরো বলেন, দীর্ঘ ৩৯ বছরের ফোবানার মাধ্যমে কমিউনিটির চাওয়া-পাওয়া আর প্রত্যাশার অনেক পূরণ হয়েছে। বিশেষ মূলধারার সাথে কমিউনিটির সেতু বন্ধন ফোবানা’র বড় অর্জন বলে তিনি উল্লেখ করেন। অপর এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, কমিউনিটি বড় হয়েছে, প্রবাসী শিল্পীর সংখ্য বাড়ছে, সংগঠন বাড়ছে, বিভক্তিও আছে, সব মিলিয়ে ফোবানা’র গুরুত্বও কমে গেছে।
অপর এক প্রশ্নের উত্তরে গিয়াস আহমেদ বলেন, মামলা করে ফোবানার বিভক্তি বন্ধ করা যাবে না। আর ফোবানা কোন রাজনৈতিক প্লাটফর্ম না। শেখ মুজিবের বা জিয়াউর রহমানের ছবি টাঙ্গিয়ে ফোবানা সম্মেল ন করলে তা ‘ফোবানা সম্মেলন’ হবে না।
ফোবানা সম্মেলন ঘিরে আদম ব্যবসার অভিযোগ সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে গিয়াস আহমেদ বলেন, আমার জানামতে এমন ঘটনা ঘটেনি। তবে আপনাদের কাছে (সাংবদিক) কোন অভিযোগ থাকলে অনুসন্ধান করুন, রিপোর্ট করুন।
এক প্রশ্নের উত্তরে ড. দারা আবু যুবায়ের বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ফোবানার সাথে জড়িত। ৬ বার ফোবানা সম্মেলনের নেতৃত¦ দিয়েছি। অনেক ভুল-ক্রুটি হয়েছে। এজন্য ক্ষমা চাই আর অতীতের অভিজ্ঞতার আলোকে ৪০তম ফোবানা সুন্দর করে আয়োজন করতে সবার সহযোগিতা চাই।
ফোবানা সম্মেলনের লাভ-লোকসান সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিগত বছরগুলোতে যে কয়টি সম্মেলনে নেতৃত্ব দিয়েছে সেসব সম্মেলনে লস (ক্ষতি) হয়েছে। তবে এবার আশা করছি লাভ না হলেও লস হবে না। কারণ এবার আমার সাথে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী শাহ নেওয়াজ ও গিয়াস আহমেদ রয়েছেন।

অপর এক প্রশ্নের উত্তরে ডা. খন্দকার মাসুদুর রহমান বলেন, সময়ের প্রয়োজনে গতানুগতিক সম্মেলন নয়, এখন ফোবানা সম্মেলনের অনুষ্ঠানমালায় পরিবর্তন আনা উচিৎ। সম্মেলন আয়োজকদের নতুন নতুন আইডিয়া যোগ করে সেমিনার-সিম্পোজিয়াম করা উচিৎ।সংবাদ সম্মেলন শেষে সবাইকে নৈশভোজে আপ্যায়ন করা হয় ।