১২:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চুয়াডাঙ্গায় কৃষি বিপ্লবের ডাক: ৬ হাজার কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ

মোঃ নাঈম উদ্দীন
বিশেষ প্রতিনিধি, চুয়াডাঙ্গা।

দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষিনির্ভর জেলা চুয়াডাঙ্গায় কৃষির উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং কৃষকদের সহায়তায় বড় ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। জেলার জীবননগর উপজেলায় চলতি খরিপ মৌসুমে পাট, গ্রীষ্মকালীন মুগ, তিল ও উফশি জাতের ধানের আবাদ বৃদ্ধির লক্ষ্যে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও রাসায়নিক সার বিতরণ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে।

সোমবার (৬ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টায় উপজেলা কৃষি অফিস চত্বরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই প্রণোদনা সামগ্রী বিতরণ শুরু হয়।

উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, কৃষি পুনর্বাসন সহায়তা খাতের আওতায় মোট ৬ হাজার ৮৩০ জন কৃষক এই সুবিধার আওতায় আসছেন। বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা ও পরিমাণ নিচে দেওয়া হলো:

(জনপ্রতি) অন্যান্য সহায়তা
উফশি ধান ৬,০০০ জন ৫ কেজি ডিএপি ও পটাশ সার
পাট ৫০০ জন ৫ কেজি ডিএপি ও পটাশ সার
গ্রীষ্মকালীন মুগ ২০০ জন ৫ কেজি ডিএপি ও পটাশ সার
তিল ১৩০ জন ১ কেজি ডিএপি ও পটাশ সার

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আশরাফুল আলম রাসেল কৃষকদের বিভিন্ন সমস্যার কথা শোনেন এবং সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপের আশ্বাস দেন।

তিনি বলেন:
“বর্তমানে ডিজেল নিয়ে কৃষকদের যে সাময়িক ভোগান্তি হচ্ছে, তা নিরসনে আমরা বদ্ধপরিকর। প্রতিটি ব্লকের কৃষকদের জন্য বিশেষ প্রত্যায়নপত্র প্রদান করা হবে। এই কার্ড বা পত্র দেখিয়ে তারা নির্ধারিত এজেন্ট পয়েন্ট থেকে কোনো ঝামেলা ছাড়াই প্রয়োজনীয় জ্বালানি সংগ্রহ করতে পারবেন।”

একই সাথে তিনি সতর্ক করে বলেন, কৃষকদের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে কেউ যদি জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুদ গড়ে তোলে বা বেশি দাম নেয়, তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসেন জানান, সরকারের এই বিপুল পরিমাণ প্রণোদনা যেন প্রকৃত কৃষকের হাতে পৌঁছায় এবং তা যেন জমিতে যথাযথভাবে ব্যবহৃত হয়, সেজন্য উপজেলা কৃষি বিভাগ সতর্ক রয়েছে। মাঠ পর্যায়ে তদারকির জন্য প্রতিটি ইউনিয়নে বিশেষ মনিটরিং টিম গঠন করা হয়েছে। এই দলগুলো নিয়মিত পরিদর্শন করবে এবং কৃষকদের প্রয়োজনীয় কারিগরি পরামর্শ প্রদান করবে।

বীজ ও সার বিতরণ অনুষ্ঠানে সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন:
সৈয়দ আব্দুর জব্বার (উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার)
জাকির উদ্দিন (সমাজসেবা কর্মকর্তা)
আশরাফুল ইসলাম (উপজেলা প্রকৌশলী)
জামিল আক্তার (পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা)
ইসমাইল হোসেন (মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা)
রফিকুল ইসলাম (সহকারী কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা)

প্রণোদনা পেয়ে উপজেলার কৃষকদের মাঝে আনন্দের আমেজ লক্ষ্য করা গেছে। সুবিধাভোগী কৃষকরা জানান, বর্তমান বাজারে সার ও উচ্চফলনশীল বীজের যে দাম, তাতে এই সরকারি সহায়তা তাদের চাষাবাদের খরচ অনেক কমিয়ে দেবে। বিশেষ করে ডিজেল সমস্যার সমাধানের আশ্বাস পাওয়ায় তারা নতুন উদ্যমে মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এই উদ্যোগের ফলে জীবননগর উপজেলায় খাদ্য শস্যের উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে এবং স্থানীয় অর্থনীতি চাঙ্গা হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গুলশানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল, ৫ দিন পর ওসি বদলি

চুয়াডাঙ্গায় কৃষি বিপ্লবের ডাক: ৬ হাজার কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ

Update Time : ০৫:১১:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬

মোঃ নাঈম উদ্দীন
বিশেষ প্রতিনিধি, চুয়াডাঙ্গা।

দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষিনির্ভর জেলা চুয়াডাঙ্গায় কৃষির উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং কৃষকদের সহায়তায় বড় ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। জেলার জীবননগর উপজেলায় চলতি খরিপ মৌসুমে পাট, গ্রীষ্মকালীন মুগ, তিল ও উফশি জাতের ধানের আবাদ বৃদ্ধির লক্ষ্যে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও রাসায়নিক সার বিতরণ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে।

সোমবার (৬ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টায় উপজেলা কৃষি অফিস চত্বরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই প্রণোদনা সামগ্রী বিতরণ শুরু হয়।

উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, কৃষি পুনর্বাসন সহায়তা খাতের আওতায় মোট ৬ হাজার ৮৩০ জন কৃষক এই সুবিধার আওতায় আসছেন। বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা ও পরিমাণ নিচে দেওয়া হলো:

(জনপ্রতি) অন্যান্য সহায়তা
উফশি ধান ৬,০০০ জন ৫ কেজি ডিএপি ও পটাশ সার
পাট ৫০০ জন ৫ কেজি ডিএপি ও পটাশ সার
গ্রীষ্মকালীন মুগ ২০০ জন ৫ কেজি ডিএপি ও পটাশ সার
তিল ১৩০ জন ১ কেজি ডিএপি ও পটাশ সার

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আশরাফুল আলম রাসেল কৃষকদের বিভিন্ন সমস্যার কথা শোনেন এবং সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপের আশ্বাস দেন।

তিনি বলেন:
“বর্তমানে ডিজেল নিয়ে কৃষকদের যে সাময়িক ভোগান্তি হচ্ছে, তা নিরসনে আমরা বদ্ধপরিকর। প্রতিটি ব্লকের কৃষকদের জন্য বিশেষ প্রত্যায়নপত্র প্রদান করা হবে। এই কার্ড বা পত্র দেখিয়ে তারা নির্ধারিত এজেন্ট পয়েন্ট থেকে কোনো ঝামেলা ছাড়াই প্রয়োজনীয় জ্বালানি সংগ্রহ করতে পারবেন।”

একই সাথে তিনি সতর্ক করে বলেন, কৃষকদের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে কেউ যদি জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুদ গড়ে তোলে বা বেশি দাম নেয়, তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসেন জানান, সরকারের এই বিপুল পরিমাণ প্রণোদনা যেন প্রকৃত কৃষকের হাতে পৌঁছায় এবং তা যেন জমিতে যথাযথভাবে ব্যবহৃত হয়, সেজন্য উপজেলা কৃষি বিভাগ সতর্ক রয়েছে। মাঠ পর্যায়ে তদারকির জন্য প্রতিটি ইউনিয়নে বিশেষ মনিটরিং টিম গঠন করা হয়েছে। এই দলগুলো নিয়মিত পরিদর্শন করবে এবং কৃষকদের প্রয়োজনীয় কারিগরি পরামর্শ প্রদান করবে।

বীজ ও সার বিতরণ অনুষ্ঠানে সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন:
সৈয়দ আব্দুর জব্বার (উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার)
জাকির উদ্দিন (সমাজসেবা কর্মকর্তা)
আশরাফুল ইসলাম (উপজেলা প্রকৌশলী)
জামিল আক্তার (পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা)
ইসমাইল হোসেন (মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা)
রফিকুল ইসলাম (সহকারী কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা)

প্রণোদনা পেয়ে উপজেলার কৃষকদের মাঝে আনন্দের আমেজ লক্ষ্য করা গেছে। সুবিধাভোগী কৃষকরা জানান, বর্তমান বাজারে সার ও উচ্চফলনশীল বীজের যে দাম, তাতে এই সরকারি সহায়তা তাদের চাষাবাদের খরচ অনেক কমিয়ে দেবে। বিশেষ করে ডিজেল সমস্যার সমাধানের আশ্বাস পাওয়ায় তারা নতুন উদ্যমে মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এই উদ্যোগের ফলে জীবননগর উপজেলায় খাদ্য শস্যের উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে এবং স্থানীয় অর্থনীতি চাঙ্গা হবে।