১০:২৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রেসক্লাবের সদস্য না হলে কেউ নিজেকে সাংবাদিক দাবি করতে পারবে না-এসিল্যান্ডের এমন মন্তব্যে তীব্র প্রক্রিয়া

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ প্রেসক্লাবের সদস্য না হলে কেউ নিজেকে সাংবাদিক দাবি করতে পারবে না—একজন এসিল্যান্ডের এমন মন্তব্য ঘিরে দেশজুড়ে সাংবাদিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। একইসঙ্গে “ভাই না, স্যার বলে সম্বোধন করতে হবে”—এমন বক্তব্যও নতুন করে বিতর্ক উস্কে দিয়েছে প্রশাসন ও গণমাধ্যমের সম্পর্ক নিয়ে।

সাংবাদিকদের একাংশ বলছেন, এ ধরনের মন্তব্য কেবল অপমানজনকই নয়, বরং এটি সরাসরি গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবিধানিক অধিকারের পরিপন্থী। বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৯ নম্বর অনুচ্ছেদে চিন্তা, বিবেক ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে। ফলে কে সাংবাদিক হবেন বা কে হবেন না—তা নির্ধারণের এখতিয়ার কোনো প্রশাসনিক কর্মকর্তার নেই বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “প্রেসক্লাব কোনোভাবেই সাংবাদিকতার সনদ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান নয়। এটি কেবল একটি সামাজিক বা পেশাজীবী সংগঠন। প্রেসক্লাবের সদস্যপদ না থাকলেই কেউ সাংবাদিক নন—এমন ধারণা সম্পূর্ণ ভ্রান্ত।

তবে এ ঘটনাকে ঘিরে আত্মসমালোচনার জায়গাও দেখছেন অনেকে। বর্তমানে দেশে অসংখ্য সাংবাদিক সংগঠন থাকলেও প্রকৃত পেশাদার ও নীতিবান সাংবাদিক কে—তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন রয়েছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিস্তারের ফলে ‘সাংবাদিক’ পরিচয় এখন অনেকটাই সহজলভ্য হয়ে পড়েছে, যা মূলধারার সাংবাদিকদের জন্য বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করছে।

গণমাধ্যম বিশ্লেষকরা বলছেন, এখন সময় এসেছে রাষ্ট্রীয়ভাবে পেশাদার গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের একটি স্বচ্ছ তালিকা তৈরির। প্রথমে কোনগুলো প্রকৃত গণমাধ্যম—তা নির্ধারণ করে, এরপর সেসব প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সাংবাদিকদের যাচাই-বাছাই করে সনদ দেওয়া যেতে পারে। এতে যেমন ভুয়া পরিচয়ের অপব্যবহার কমবে, তেমনি পেশাদারিত্বও বাড়বে।

তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়ে বলেন, এই প্রক্রিয়া যেন কোনোভাবেই মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে খর্ব না করে। কারণ স্বাধীন গণমাধ্যমই একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের মূল ভিত্তি।
বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রশাসন ও গণমাধ্যমের পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও দায়িত্বশীল আচরণই সংকট নিরসনের প্রধান পথ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গুলশানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল, ৫ দিন পর ওসি বদলি

প্রেসক্লাবের সদস্য না হলে কেউ নিজেকে সাংবাদিক দাবি করতে পারবে না-এসিল্যান্ডের এমন মন্তব্যে তীব্র প্রক্রিয়া

Update Time : ০৩:৫৯:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ প্রেসক্লাবের সদস্য না হলে কেউ নিজেকে সাংবাদিক দাবি করতে পারবে না—একজন এসিল্যান্ডের এমন মন্তব্য ঘিরে দেশজুড়ে সাংবাদিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। একইসঙ্গে “ভাই না, স্যার বলে সম্বোধন করতে হবে”—এমন বক্তব্যও নতুন করে বিতর্ক উস্কে দিয়েছে প্রশাসন ও গণমাধ্যমের সম্পর্ক নিয়ে।

সাংবাদিকদের একাংশ বলছেন, এ ধরনের মন্তব্য কেবল অপমানজনকই নয়, বরং এটি সরাসরি গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবিধানিক অধিকারের পরিপন্থী। বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৯ নম্বর অনুচ্ছেদে চিন্তা, বিবেক ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে। ফলে কে সাংবাদিক হবেন বা কে হবেন না—তা নির্ধারণের এখতিয়ার কোনো প্রশাসনিক কর্মকর্তার নেই বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “প্রেসক্লাব কোনোভাবেই সাংবাদিকতার সনদ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান নয়। এটি কেবল একটি সামাজিক বা পেশাজীবী সংগঠন। প্রেসক্লাবের সদস্যপদ না থাকলেই কেউ সাংবাদিক নন—এমন ধারণা সম্পূর্ণ ভ্রান্ত।

তবে এ ঘটনাকে ঘিরে আত্মসমালোচনার জায়গাও দেখছেন অনেকে। বর্তমানে দেশে অসংখ্য সাংবাদিক সংগঠন থাকলেও প্রকৃত পেশাদার ও নীতিবান সাংবাদিক কে—তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন রয়েছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিস্তারের ফলে ‘সাংবাদিক’ পরিচয় এখন অনেকটাই সহজলভ্য হয়ে পড়েছে, যা মূলধারার সাংবাদিকদের জন্য বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করছে।

গণমাধ্যম বিশ্লেষকরা বলছেন, এখন সময় এসেছে রাষ্ট্রীয়ভাবে পেশাদার গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের একটি স্বচ্ছ তালিকা তৈরির। প্রথমে কোনগুলো প্রকৃত গণমাধ্যম—তা নির্ধারণ করে, এরপর সেসব প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সাংবাদিকদের যাচাই-বাছাই করে সনদ দেওয়া যেতে পারে। এতে যেমন ভুয়া পরিচয়ের অপব্যবহার কমবে, তেমনি পেশাদারিত্বও বাড়বে।

তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়ে বলেন, এই প্রক্রিয়া যেন কোনোভাবেই মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে খর্ব না করে। কারণ স্বাধীন গণমাধ্যমই একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের মূল ভিত্তি।
বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রশাসন ও গণমাধ্যমের পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও দায়িত্বশীল আচরণই সংকট নিরসনের প্রধান পথ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।