১২:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কালিয়াকৈর সরকারি নির্ধারণের দামের চেয়েও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে এলপিজি গ্যাস, দেখার মত কেউ নেই

 

 

শাকিল হোসেন,কালিয়াকৈর (গাজীপুর)প্রতিনিধিঃ

 

গাজীপুর কালিয়াকৈর উপজেলা ভোক্তা পর্যায়ে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) সিলিন্ডারের দাম বাড়িয়ে ১২ কেজির জন্য এক হাজার ৭২৮ টাকা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। আগের মাসের এক হাজার ৩৪১ টাকা থেকে দাম বেড়েছে ৩৮৭ টাকা। তবে সরকারি এই মূল্য নির্ধারণের পরও বাজারে এর কোনো প্রতিফলন নেই- বরং আরও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে এলপিজি সিলিন্ডার।

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) গাজীপুর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এবং খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার ২ হাজার ১০০ থেকে ২ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে দোকানভেদে দামের তারতম্য থাকলেও কোথাও সরকার নির্ধারিত দামে বিক্রি হচ্ছে না।

সরকারি মূল্য বনাম বাস্তবতা
বিইআরসি ঘোষিত মূল্য অনুযায়ী এপ্রিল মাসে একজন ভোক্তার ১২ কেজির একটি সিলিন্ডার কিনতে খরচ হওয়ার কথা এক হাজার ৭২৮ টাকা। কিন্তু বাস্তবে তাকে গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত ৩৫০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত। এতে মাসিক গ্যাস খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে। শুধু ১২ কেজির এলপিজি নয়, অন্যান্য পরিমাপের সিলিন্ডার কিনতেও বাড়তি ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা গুনতে হচ্ছে ভোক্তাদের।

ভোক্তারা বলছেন, এলপিজির দাম আগে থেকেই সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি ছিল। নতুন করে দাম বাড়ানোর ফলে বিক্রেতারা সেটিকে আরও বেশি দামে বিক্রি করছেন।

চন্দ্রা হরতকিতলা বাসিন্দা সিয়াম হোসেন বলেন, আগে ১৮০০ থেকে ১৯০০ টাকায় এলপিজি সিলিন্ডার কিনতাম, এখন ২২০০ টাকা দিতে হচ্ছে। সংসার চালানো কঠিন হয়ে যাচ্ছে। সরকারি দামে কোনো মাসেই এলপিজি কিনতে পারি না।

বিক্রেতারা জানান, সরবরাহ সংকট, পরিবহন খরচ বৃদ্ধি এবং ডিলার পর্যায়ে উচ্চমূল্যের কারণে তারা বাধ্য হয়ে বেশি দামে বিক্রি করছেন। তাদের মতে, নির্ধারিত দামে এলপিজি পাওয়া যাচ্ছে না বলেই খুচরা পর্যায়ে দাম বেড়ে যাচ্ছে।

কথা হয় গাজীপুর কালিয়াকৈর এলপিজির খুচরা ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে। তিনি বলেন, ১২ কেজির সিলিন্ডার ২১০০ টাকায় বিক্রি করছি। আমাদের বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। সরকারি দামে আমরাও পাই না, বিক্রি করবো কীভাবে!

চন্দ্রা এলাকার মায়ের দোয়া এন্টারপ্রাইজের এলপিজি ব্যবসায়ী আফজাল হোসেন মুঠোফোনে বলেন, ১২ কেজির এলপিজি ২২০০ টাকা। সরকার দাম বাড়িয়েছে তাই দাম বেশি। আমরা বেশি দামে কিনে বেশি দামে বিক্রি করি। আমাদের কিছুই করার নেই।

জ্বালানি খাতের বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এলপিজি বাজারে কার্যকর মনিটরিংয়ের অভাব রয়েছে। সরকারি সংস্থাগুলোর নজরদারি দুর্বল হওয়ায় ব্যবসায়ীরা ইচ্ছামতো দাম বাড়ানোর সুযোগ পাচ্ছেন। দ্রুত বাজার নিয়ন্ত্রণ ও সরবরাহ নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন তারা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গুলশানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল, ৫ দিন পর ওসি বদলি

কালিয়াকৈর সরকারি নির্ধারণের দামের চেয়েও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে এলপিজি গ্যাস, দেখার মত কেউ নেই

Update Time : ১২:১৪:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬

 

 

শাকিল হোসেন,কালিয়াকৈর (গাজীপুর)প্রতিনিধিঃ

 

গাজীপুর কালিয়াকৈর উপজেলা ভোক্তা পর্যায়ে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) সিলিন্ডারের দাম বাড়িয়ে ১২ কেজির জন্য এক হাজার ৭২৮ টাকা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। আগের মাসের এক হাজার ৩৪১ টাকা থেকে দাম বেড়েছে ৩৮৭ টাকা। তবে সরকারি এই মূল্য নির্ধারণের পরও বাজারে এর কোনো প্রতিফলন নেই- বরং আরও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে এলপিজি সিলিন্ডার।

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) গাজীপুর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এবং খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার ২ হাজার ১০০ থেকে ২ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে দোকানভেদে দামের তারতম্য থাকলেও কোথাও সরকার নির্ধারিত দামে বিক্রি হচ্ছে না।

সরকারি মূল্য বনাম বাস্তবতা
বিইআরসি ঘোষিত মূল্য অনুযায়ী এপ্রিল মাসে একজন ভোক্তার ১২ কেজির একটি সিলিন্ডার কিনতে খরচ হওয়ার কথা এক হাজার ৭২৮ টাকা। কিন্তু বাস্তবে তাকে গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত ৩৫০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত। এতে মাসিক গ্যাস খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে। শুধু ১২ কেজির এলপিজি নয়, অন্যান্য পরিমাপের সিলিন্ডার কিনতেও বাড়তি ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা গুনতে হচ্ছে ভোক্তাদের।

ভোক্তারা বলছেন, এলপিজির দাম আগে থেকেই সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি ছিল। নতুন করে দাম বাড়ানোর ফলে বিক্রেতারা সেটিকে আরও বেশি দামে বিক্রি করছেন।

চন্দ্রা হরতকিতলা বাসিন্দা সিয়াম হোসেন বলেন, আগে ১৮০০ থেকে ১৯০০ টাকায় এলপিজি সিলিন্ডার কিনতাম, এখন ২২০০ টাকা দিতে হচ্ছে। সংসার চালানো কঠিন হয়ে যাচ্ছে। সরকারি দামে কোনো মাসেই এলপিজি কিনতে পারি না।

বিক্রেতারা জানান, সরবরাহ সংকট, পরিবহন খরচ বৃদ্ধি এবং ডিলার পর্যায়ে উচ্চমূল্যের কারণে তারা বাধ্য হয়ে বেশি দামে বিক্রি করছেন। তাদের মতে, নির্ধারিত দামে এলপিজি পাওয়া যাচ্ছে না বলেই খুচরা পর্যায়ে দাম বেড়ে যাচ্ছে।

কথা হয় গাজীপুর কালিয়াকৈর এলপিজির খুচরা ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে। তিনি বলেন, ১২ কেজির সিলিন্ডার ২১০০ টাকায় বিক্রি করছি। আমাদের বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। সরকারি দামে আমরাও পাই না, বিক্রি করবো কীভাবে!

চন্দ্রা এলাকার মায়ের দোয়া এন্টারপ্রাইজের এলপিজি ব্যবসায়ী আফজাল হোসেন মুঠোফোনে বলেন, ১২ কেজির এলপিজি ২২০০ টাকা। সরকার দাম বাড়িয়েছে তাই দাম বেশি। আমরা বেশি দামে কিনে বেশি দামে বিক্রি করি। আমাদের কিছুই করার নেই।

জ্বালানি খাতের বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এলপিজি বাজারে কার্যকর মনিটরিংয়ের অভাব রয়েছে। সরকারি সংস্থাগুলোর নজরদারি দুর্বল হওয়ায় ব্যবসায়ীরা ইচ্ছামতো দাম বাড়ানোর সুযোগ পাচ্ছেন। দ্রুত বাজার নিয়ন্ত্রণ ও সরবরাহ নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন তারা।