০৮:১৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঝালকাঠিতে দোকান পোড়ানোর মামলা করে বিপাকে বাদী, মামলা তুলে নিতে আসামীদের হুমকি

 

মো. নাঈম হাসান ঈমন, ঝালকাঠি প্রতিনিধি: ঝালকাঠিতে এক প্রতিবন্ধীর দোকান পোড়ানোর অভিযোগে আদালতে মামলা করে বিপাকে পড়েছেন বাদী বারেক খন্দকার। তাকে মামলা তুলে নিতে প্রতিনিয়ত নানা ধরনের হুমকি দিচ্ছে আসামীরা।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলার বারৈগাতী এলাকার প্রতিবন্ধী বারেক খন্দকার তালতলা বাজারে একটি মুদি দোকান পরিচালনা করেন। তিনি প্রতিদিন দোকানেই রাত্রিযাপন করতেন। তবে গত ৬ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার রাতে দোকান বন্ধ করে বাড়িতে চলে যান। আসামীরা ধারণা করেছিল তিনি দোকানের ভেতরেই আছেন। তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে দোকানে পেট্রোল ও কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে দোকানে থাকা টিভি, ফ্রিজ, চাল, ডাল, আটা, আলু, মরিচ, বিস্কুটসহ বিভিন্ন মালামাল পুড়ে যায়। এতে প্রায় ৯ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এ ঘটনায় গত ৯ মার্চ ঝালকাঠির বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১) আঃ মতিন হাওলাদার (৪৫), ২) আলমগীর তালুকদার (৪৮), ৩) আঃ জলিল শেখ (৪৪) ও ৪) মনির হোসেন (৪০)-এর নাম উল্লেখ করে নালিশি অভিযোগ দায়ের করেন রুস্তম খন্দকার। অভিযোগ দায়েরের পর থেকেই আসামীরা মামলা তুলে নিতে বিভিন্ন সময় তাকে হুমকি দিয়ে আসছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

মামলার বাদী বারেক খন্দকার বলেন, “আমার দোকান পোড়ানোর ঘটনায় মামলা করায় আঃ মতিনসহ আসামীরা মামলা তুলে নিতে বিভিন্ন সময় আমাকে হুমকি দিচ্ছে। তারাই আমার দোকান পুড়িয়ে আমাকে স্থানীয় কিছু বিএনপির নেতাদের নামে মামলা দিতে বলে। নির্বাচনের আগে বিএনপির লোকজনই দোকান পুড়িয়েছে, অন্য কেউ নয়—এমন কথা বলতে আসামীরা আমাকে চাপ প্রয়োগ করে। আমাকে বলা হয়, তাদের নামে মামলা দিলে মামলার সব খরচ তারা বহন করবে এবং নতুন দোকান তৈরি করে দেবে। কিন্তু তারা যাদের নামে মামলা দিতে বলছে, তারা সবাই নেছারাবাদ কায়েদ সাহেব হুজুরের মাজারে গিয়ে শপথ করেছে যে তারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয়। তাহলে আমি কেন তাদের নামে মিথ্যা মামলা দেবো।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, “আসামী আঃ জলিল শেখ পূর্বেও এ ধরনের ঘটনায় জড়িত ছিল এবং ঘরে আগুন দেওয়ার ঘটনায় সিআইডির তদন্তে তার সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেছে।”

অভিযোগ অস্বীকার করে আঃ মতিন হাওলাদার বলেন, “এ ঘটনার সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। আমি বাদীকে কোনো ধরনের হুমকি দেইনি। আমার শত্রুদের প্ররোচনায় বাদী আমাকে হয়রানি করছে।”

এ বিষয়ে ঝালকাঠি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমতিয়াজ আহমেদ জানান, আদালতের নির্দেশে অভিযোগটি তদন্তের জন্য থানায় পাঠানো হয়েছে। তদন্ত শেষে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, “বাদীকে হুমকির বিষয়টি আমাদের জানা নেই। এ বিষয়ে তার সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ক্যাপশনঃ বারৈগাতী এলাকার প্রতিবন্ধী বারেক খন্দকারের তালতলা বাজারে মুদি দোকান আগুনে পুড়ছে।

ক্যাপশনঃ মুদি দোকানী প্রতিবন্ধী বারেক খন্দকার

 

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গুলশানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল, ৫ দিন পর ওসি বদলি

ঝালকাঠিতে দোকান পোড়ানোর মামলা করে বিপাকে বাদী, মামলা তুলে নিতে আসামীদের হুমকি

Update Time : ০২:২৪:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬

 

মো. নাঈম হাসান ঈমন, ঝালকাঠি প্রতিনিধি: ঝালকাঠিতে এক প্রতিবন্ধীর দোকান পোড়ানোর অভিযোগে আদালতে মামলা করে বিপাকে পড়েছেন বাদী বারেক খন্দকার। তাকে মামলা তুলে নিতে প্রতিনিয়ত নানা ধরনের হুমকি দিচ্ছে আসামীরা।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলার বারৈগাতী এলাকার প্রতিবন্ধী বারেক খন্দকার তালতলা বাজারে একটি মুদি দোকান পরিচালনা করেন। তিনি প্রতিদিন দোকানেই রাত্রিযাপন করতেন। তবে গত ৬ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার রাতে দোকান বন্ধ করে বাড়িতে চলে যান। আসামীরা ধারণা করেছিল তিনি দোকানের ভেতরেই আছেন। তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে দোকানে পেট্রোল ও কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে দোকানে থাকা টিভি, ফ্রিজ, চাল, ডাল, আটা, আলু, মরিচ, বিস্কুটসহ বিভিন্ন মালামাল পুড়ে যায়। এতে প্রায় ৯ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এ ঘটনায় গত ৯ মার্চ ঝালকাঠির বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১) আঃ মতিন হাওলাদার (৪৫), ২) আলমগীর তালুকদার (৪৮), ৩) আঃ জলিল শেখ (৪৪) ও ৪) মনির হোসেন (৪০)-এর নাম উল্লেখ করে নালিশি অভিযোগ দায়ের করেন রুস্তম খন্দকার। অভিযোগ দায়েরের পর থেকেই আসামীরা মামলা তুলে নিতে বিভিন্ন সময় তাকে হুমকি দিয়ে আসছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

মামলার বাদী বারেক খন্দকার বলেন, “আমার দোকান পোড়ানোর ঘটনায় মামলা করায় আঃ মতিনসহ আসামীরা মামলা তুলে নিতে বিভিন্ন সময় আমাকে হুমকি দিচ্ছে। তারাই আমার দোকান পুড়িয়ে আমাকে স্থানীয় কিছু বিএনপির নেতাদের নামে মামলা দিতে বলে। নির্বাচনের আগে বিএনপির লোকজনই দোকান পুড়িয়েছে, অন্য কেউ নয়—এমন কথা বলতে আসামীরা আমাকে চাপ প্রয়োগ করে। আমাকে বলা হয়, তাদের নামে মামলা দিলে মামলার সব খরচ তারা বহন করবে এবং নতুন দোকান তৈরি করে দেবে। কিন্তু তারা যাদের নামে মামলা দিতে বলছে, তারা সবাই নেছারাবাদ কায়েদ সাহেব হুজুরের মাজারে গিয়ে শপথ করেছে যে তারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয়। তাহলে আমি কেন তাদের নামে মিথ্যা মামলা দেবো।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, “আসামী আঃ জলিল শেখ পূর্বেও এ ধরনের ঘটনায় জড়িত ছিল এবং ঘরে আগুন দেওয়ার ঘটনায় সিআইডির তদন্তে তার সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেছে।”

অভিযোগ অস্বীকার করে আঃ মতিন হাওলাদার বলেন, “এ ঘটনার সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। আমি বাদীকে কোনো ধরনের হুমকি দেইনি। আমার শত্রুদের প্ররোচনায় বাদী আমাকে হয়রানি করছে।”

এ বিষয়ে ঝালকাঠি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমতিয়াজ আহমেদ জানান, আদালতের নির্দেশে অভিযোগটি তদন্তের জন্য থানায় পাঠানো হয়েছে। তদন্ত শেষে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, “বাদীকে হুমকির বিষয়টি আমাদের জানা নেই। এ বিষয়ে তার সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ক্যাপশনঃ বারৈগাতী এলাকার প্রতিবন্ধী বারেক খন্দকারের তালতলা বাজারে মুদি দোকান আগুনে পুড়ছে।

ক্যাপশনঃ মুদি দোকানী প্রতিবন্ধী বারেক খন্দকার