১২:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সৌদি আরবে মিসাইল হামলায় নিহত বাচ্চু মিয়ার জানাজা এবং দাফন সম্পন্ন

 

এ.এস.এম হামিদ হাসান
কটিয়াদী(কিশোরগঞ্জ)প্রতিনিধি:

সৌদি আরবের আল খারিজ শহরে মিসাইল হামলায় জালালপুর ইউনিয়নের ফেকামারা গ্রামের নিহত বাচ্চু মিয়ার জানাজা এবং দাফন সম্পন্ন হয়েছে সৌদি আরবে।

শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে মরহুমের জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে আল খারিজের স্থানীয় একটি কবরস্থানে দাফন কার্য সম্পন্ন হয়।

অন্যদিকে জানাজা এবং দাফনে অংশ নেন রিয়াদ বাংলাদেশ দূতাবাসের মান্যবর রাষ্ট্রদূত এবং লেবার উইং এর বিভিন্ন কর্মকর্তাবৃন্দ।

উল্লেখ্য যে,গত ৯ মার্চ সৌদি আরবে ইরানের মিসাইল হামলায় কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের ফেকামারা গ্রামের বাচ্চু মিয়া (৩৫) নামে এক প্রবাসী বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যু হয়েছে। ওইদিন ইফতারের আগ মুহূর্তে সৌদি আরবের আল খারিজ শহরে একটি শ্রমিক ক্যাম্পে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

নিহত বাচ্চু মিয়া কিশোরগঞ্জ জেলার কটিয়াদী উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের পশ্চিম ফেকামারা গ্রামের রইস উদ্দিনের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবে আল তোয়াইক বলদিয়া কোম্পানিতে শ্রমিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। জীবিকার তাগিদে কয়েক বছর আগে তিনি প্রবাসে পাড়ি জমান।

স্থানীয় ও প্রবাসী সূত্রে জানা গেছে, ইফতারের আগে শ্রমিকদের আবাসিক ক্যাম্পে হঠাৎ একটি মিসাইল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে সেখানে অবস্থানরত শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিস্ফোরণে গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই বাচ্চু মিয়ার মৃত্যু হয়।

সৌদি আরবে তার সাথে কর্মরত সহকর্মীরা বলেন ঘটনার সময় বাচ্চু মিয়া কর্মস্থলের ক্যাম্পেই অবস্থান করছিলেন। বিস্ফোরণের পর সহকর্মীরা তাকে উদ্ধার করার চেষ্টা করলেও ততক্ষণে তিনি মারা যান।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বাচ্চু মিয়া দুই কন্যা সন্তানের জনক। তাদের মধ্যে একজন মানসিক প্রতিবন্ধী। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন তিনি। প্রবাসে তার এমন আকস্মিক মৃত্যুর খবরে পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজনরা তার মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন একাধিকবার।

বাচ্চু মিয়ার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে তার গ্রামের বাড়ি পশ্চিম ফেকামারা এলাকায় শোকের আবহ তৈরি হয়। মরহুমের আত্মীয় স্বজন, প্রতিবেশী ও এলাকাবাসী তার অকাল মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

এছাড়াও ইতোমধ্যে স্থানীয় সংসদ সদস্য, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী,জেলা প্রশাসক,উপজেলা প্রশাসন, জামায়াতে ইসলামীর জেলা ও উপজেলা আমিরসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ মরহুমের পরিবারের সদস্যদের নিয়মিত খোঁজখবর নিচ্ছেন। সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।
সূত্র – সৌদি প্রবাসী ইমরান হোসেনের তথ্যসূত্র থেকে সংগৃহীত।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গুলশানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল, ৫ দিন পর ওসি বদলি

সৌদি আরবে মিসাইল হামলায় নিহত বাচ্চু মিয়ার জানাজা এবং দাফন সম্পন্ন

Update Time : ০১:৩৬:৪৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬

 

এ.এস.এম হামিদ হাসান
কটিয়াদী(কিশোরগঞ্জ)প্রতিনিধি:

সৌদি আরবের আল খারিজ শহরে মিসাইল হামলায় জালালপুর ইউনিয়নের ফেকামারা গ্রামের নিহত বাচ্চু মিয়ার জানাজা এবং দাফন সম্পন্ন হয়েছে সৌদি আরবে।

শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে মরহুমের জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে আল খারিজের স্থানীয় একটি কবরস্থানে দাফন কার্য সম্পন্ন হয়।

অন্যদিকে জানাজা এবং দাফনে অংশ নেন রিয়াদ বাংলাদেশ দূতাবাসের মান্যবর রাষ্ট্রদূত এবং লেবার উইং এর বিভিন্ন কর্মকর্তাবৃন্দ।

উল্লেখ্য যে,গত ৯ মার্চ সৌদি আরবে ইরানের মিসাইল হামলায় কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের ফেকামারা গ্রামের বাচ্চু মিয়া (৩৫) নামে এক প্রবাসী বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যু হয়েছে। ওইদিন ইফতারের আগ মুহূর্তে সৌদি আরবের আল খারিজ শহরে একটি শ্রমিক ক্যাম্পে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

নিহত বাচ্চু মিয়া কিশোরগঞ্জ জেলার কটিয়াদী উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের পশ্চিম ফেকামারা গ্রামের রইস উদ্দিনের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবে আল তোয়াইক বলদিয়া কোম্পানিতে শ্রমিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। জীবিকার তাগিদে কয়েক বছর আগে তিনি প্রবাসে পাড়ি জমান।

স্থানীয় ও প্রবাসী সূত্রে জানা গেছে, ইফতারের আগে শ্রমিকদের আবাসিক ক্যাম্পে হঠাৎ একটি মিসাইল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে সেখানে অবস্থানরত শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিস্ফোরণে গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই বাচ্চু মিয়ার মৃত্যু হয়।

সৌদি আরবে তার সাথে কর্মরত সহকর্মীরা বলেন ঘটনার সময় বাচ্চু মিয়া কর্মস্থলের ক্যাম্পেই অবস্থান করছিলেন। বিস্ফোরণের পর সহকর্মীরা তাকে উদ্ধার করার চেষ্টা করলেও ততক্ষণে তিনি মারা যান।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বাচ্চু মিয়া দুই কন্যা সন্তানের জনক। তাদের মধ্যে একজন মানসিক প্রতিবন্ধী। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন তিনি। প্রবাসে তার এমন আকস্মিক মৃত্যুর খবরে পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজনরা তার মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন একাধিকবার।

বাচ্চু মিয়ার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে তার গ্রামের বাড়ি পশ্চিম ফেকামারা এলাকায় শোকের আবহ তৈরি হয়। মরহুমের আত্মীয় স্বজন, প্রতিবেশী ও এলাকাবাসী তার অকাল মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

এছাড়াও ইতোমধ্যে স্থানীয় সংসদ সদস্য, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী,জেলা প্রশাসক,উপজেলা প্রশাসন, জামায়াতে ইসলামীর জেলা ও উপজেলা আমিরসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ মরহুমের পরিবারের সদস্যদের নিয়মিত খোঁজখবর নিচ্ছেন। সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।
সূত্র – সৌদি প্রবাসী ইমরান হোসেনের তথ্যসূত্র থেকে সংগৃহীত।