১১:৫৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চুয়াডাঙ্গায় সাংবাদিকদের সাথে নবনিযুক্ত পুলিশ সুপারের মতবিনিময়: অপরাধমুক্ত জনপদ গড়ার প্রত্যয়

 

মোঃ নাঈম উদ্দীন
বিশেষ প্রতিনিধি, চুয়াডাঙ্গা।

চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের নবনিযুক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে এবং একটি জনবান্ধব পুলিশি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সাংবাদিকদের সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করেছেন।

আজ বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) বেলা ১১:৩০ ঘটিকায় পুলিশ সুপারের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক পরিচিতি ও মতবিনিময় সভায় তিনি এই আহ্বান জানান।

সভার শুরুতেই নবাগত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান চুয়াডাঙ্গায় কর্মরত ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকদের সাথে সৌজন্য ও কুশল বিনিময় করেন। উপস্থিত সাংবাদিকবৃন্দ পর্যায়ক্রমে তাদের পরিচয় এবং পেশাগত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। এ সময় এক সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

বক্তব্য প্রদানকালে পুলিশ সুপার জেলার জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর আলোকপাত করেন।

তিনি বলেন, চুয়াডাঙ্গাকে একটি নিরাপদ ও শান্তিময় জেলা হিসেবে গড়ে তুলতে পুলিশি কার্যক্রমে আরও গতিশীলতা আনা হবে। বিশেষ করে যে বিষয়গুলোতে তিনি জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেন:

মাদক ও চোরাচালান: সীমান্তঘেঁষা জেলা হওয়ায় মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে কঠোর নজরদারি ও বিশেষ অভিযান জোরদার করা হবে।

চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেট দমন: সড়ক-মহাসড়কে পণ্যবাহী পরিবহনে কোনো প্রকার চাঁদাবাজি বা সিন্ডিকেট সহ্য করা হবে না।

যানজট ও ফুটপাত দখলমুক্তকরণ: সাধারণ মানুষের চলাচল নির্বিঘ্ন করতে শহরের ফুটপাত দখলমুক্ত করা এবং যানজট নিরসনে ট্রাফিক বিভাগকে আরও সক্রিয় করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

পুলিশ সুপার তার বক্তব্যে কেবল অপরাধ দমন নয়, বরং অপরাধের মূল কারণগুলো দূর করার জন্য সামাজিক আন্দোলনের ওপর জোর দেন। তিনি উল্লেখ করেন:

সাইবার বুলিং ও কিশোর গ্যাং: বর্তমান সময়ের আতঙ্ক ‘কিশোর গ্যাং’ কালচার এবং সাইবার বুলিং বন্ধে পুলিশ কঠোর অবস্থানে থাকবে।

সামাজিক ব্যাধি: বাল্যবিবাহ এবং আত্মহত্যার প্রবণতা রোধে পুলিশের পাশাপাশি সমাজের সকল স্তরের মানুষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

পুলিশ সুপার সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, “সাংবাদিকরা সমাজের দর্পণ। আপনাদের লেখনীর মাধ্যমে সমাজের সঠিক চিত্র উঠে আসে।” তিনি প্রকৃত ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে পুলিশকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার অনুরোধ জানান।

তিনি বিশ্বাস করেন, পুলিশ ও সাংবাদিকদের মধ্যে পেশাদারিত্ব এবং সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় থাকলে অপরাধ নির্মূল ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা অনেক সহজ হবে।

মতবিনিময় সভায় পুলিশ সুপারের সাথে আরও উপস্থিত ছিলেন- মোঃ মিনহাজ-উল-ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ)।
মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল)।

সভায় চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রেস ক্লাব ও সাংবাদিক সমিতির নেতৃবৃন্দসহ জেলায় কর্মরত বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সাংবাদিকরা জেলার বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন এবং নবাগত পুলিশ সুপারকে সব ধরণের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গুলশানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল, ৫ দিন পর ওসি বদলি

চুয়াডাঙ্গায় সাংবাদিকদের সাথে নবনিযুক্ত পুলিশ সুপারের মতবিনিময়: অপরাধমুক্ত জনপদ গড়ার প্রত্যয়

Update Time : ০৩:৩৭:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬

 

মোঃ নাঈম উদ্দীন
বিশেষ প্রতিনিধি, চুয়াডাঙ্গা।

চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের নবনিযুক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে এবং একটি জনবান্ধব পুলিশি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সাংবাদিকদের সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করেছেন।

আজ বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) বেলা ১১:৩০ ঘটিকায় পুলিশ সুপারের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক পরিচিতি ও মতবিনিময় সভায় তিনি এই আহ্বান জানান।

সভার শুরুতেই নবাগত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান চুয়াডাঙ্গায় কর্মরত ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকদের সাথে সৌজন্য ও কুশল বিনিময় করেন। উপস্থিত সাংবাদিকবৃন্দ পর্যায়ক্রমে তাদের পরিচয় এবং পেশাগত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। এ সময় এক সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

বক্তব্য প্রদানকালে পুলিশ সুপার জেলার জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর আলোকপাত করেন।

তিনি বলেন, চুয়াডাঙ্গাকে একটি নিরাপদ ও শান্তিময় জেলা হিসেবে গড়ে তুলতে পুলিশি কার্যক্রমে আরও গতিশীলতা আনা হবে। বিশেষ করে যে বিষয়গুলোতে তিনি জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেন:

মাদক ও চোরাচালান: সীমান্তঘেঁষা জেলা হওয়ায় মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে কঠোর নজরদারি ও বিশেষ অভিযান জোরদার করা হবে।

চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেট দমন: সড়ক-মহাসড়কে পণ্যবাহী পরিবহনে কোনো প্রকার চাঁদাবাজি বা সিন্ডিকেট সহ্য করা হবে না।

যানজট ও ফুটপাত দখলমুক্তকরণ: সাধারণ মানুষের চলাচল নির্বিঘ্ন করতে শহরের ফুটপাত দখলমুক্ত করা এবং যানজট নিরসনে ট্রাফিক বিভাগকে আরও সক্রিয় করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

পুলিশ সুপার তার বক্তব্যে কেবল অপরাধ দমন নয়, বরং অপরাধের মূল কারণগুলো দূর করার জন্য সামাজিক আন্দোলনের ওপর জোর দেন। তিনি উল্লেখ করেন:

সাইবার বুলিং ও কিশোর গ্যাং: বর্তমান সময়ের আতঙ্ক ‘কিশোর গ্যাং’ কালচার এবং সাইবার বুলিং বন্ধে পুলিশ কঠোর অবস্থানে থাকবে।

সামাজিক ব্যাধি: বাল্যবিবাহ এবং আত্মহত্যার প্রবণতা রোধে পুলিশের পাশাপাশি সমাজের সকল স্তরের মানুষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

পুলিশ সুপার সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, “সাংবাদিকরা সমাজের দর্পণ। আপনাদের লেখনীর মাধ্যমে সমাজের সঠিক চিত্র উঠে আসে।” তিনি প্রকৃত ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে পুলিশকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার অনুরোধ জানান।

তিনি বিশ্বাস করেন, পুলিশ ও সাংবাদিকদের মধ্যে পেশাদারিত্ব এবং সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় থাকলে অপরাধ নির্মূল ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা অনেক সহজ হবে।

মতবিনিময় সভায় পুলিশ সুপারের সাথে আরও উপস্থিত ছিলেন- মোঃ মিনহাজ-উল-ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ)।
মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল)।

সভায় চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রেস ক্লাব ও সাংবাদিক সমিতির নেতৃবৃন্দসহ জেলায় কর্মরত বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সাংবাদিকরা জেলার বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন এবং নবাগত পুলিশ সুপারকে সব ধরণের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।