০৭:৫৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দামুড়হুদায় ভাড়াটে বাহিনীর তাণ্ডব: দুই ভাই মৃত্যুর মুখে, উত্তাল রাজপথ

 

মোঃ নাঈম উদ্দীন
বিশেষ প্রতিনিধি, চুয়াডাঙ্গা।

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার খাঁ পাড়ায় এক তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে একদল সশস্ত্র যুবকের বর্বরোচিত হামলায় একটি পরিবার আজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে।

স্থানীয় জাহিদুল মেম্বারের ভাড়াটে বাহিনীর এই নৃশংসতায় বর্তমানে ঢাকার দুটি হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন সাজু ও রাজু নামে দুই সহোদর। এ ঘটনার প্রতিবাদে এবং আসামিদের গ্রেফতারের দাবিতে বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) এলাকাবাসীকে সাথে নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও অবস্থান ধর্মঘট পালন করেছে ভুক্তভোগী পরিবারটি।

গত শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে দামুড়হুদা খাঁ পাড়ার বাবলু খাঁর বাড়িতে নেমে আসে অতর্কিত এক নারকীয় তাণ্ডব। প্রত্যক্ষদর্শী ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, চুয়াডাঙ্গা থেকে মোটরসাইকেল যোগে আসা একদল হেলমেটধারী যুবক রামদা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বাবলু খাঁর বাড়ির দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে।

হামলাকারীরা বাবলু খাঁর দুই ছেলে সাজু ও রাজুকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। ঘরের মেঝেতে জমে থাকা জমাট বাঁধা রক্ত আর ভাঙা আসবাবপত্র এখনো সেই বীভৎসতার সাক্ষী দিচ্ছে।

হামলায় গুরুতর আহত দুই ভাইয়ের অবস্থা বর্তমানে অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। সাজু বর্তমানে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। রাজু ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ নিউরোসায়েন্স ও হাসপাতালের আইসিইউতে (ICU) মৃত্যুর সাথে লড়ছেন।

চিকিৎসকদের মতে, দুজনের শরীরেই গভীর ক্ষত রয়েছে এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে তাদের অবস্থা সংকটাপন্ন।

এ ঘটনায় সাজু ও রাজুর চাচা খসরু খাঁ বাদী হয়ে ৭ জনের নাম উল্লেখসহ আরও ৮/১০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে ২২ ফেব্রুয়ারি দামুড়হুদা মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, ঘটনার কয়েকদিন পেরিয়ে গেলেও পুলিশ এখনো কোনো উল্লেখযোগ্য আসামিকে গ্রেফতার করতে পারেনি।

এদিকে, ঘটনার দিন গ্রামবাসীদের প্রতিরোধে হামলাকারী দলের একজন সদস্য সাজু (৩০) গণপিটুনিতে মারাত্মক আহত হয়। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকা মেডিকেল কলেজে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। হামলাকারীর এই মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে, যা ভুক্তভোগী পরিবারটিকে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ফেলে দিয়েছে।

প্রকৃত আসামিদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবিতে আজ বুধবার সকালে দামুড়হুদা উপজেলা সদরের জিরো পয়েন্ট চৌরাস্তা মোড়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে ভুক্তভোগী পরিবার ও গ্রামবাসী। এর আগে তারা উপজেলা সদরের প্রধান প্রধান সড়কে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের করেন।

বিক্ষোভের কারণে দীর্ঘ সময় দামুড়হুদা উপজেলা শহর যানজটের শহরে পরিণত হয়, স্থবির হয়ে পড়ে যান চলাচল।
“আমরা নিরপরাধ, আমাদের ওপর বিনা কারণে হামলা চালানো হলো। এখন আমরাই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। পুলিশ কেন আসামিদের ধরছে না?”
— ক্ষোভের সাথে জানান ভুক্তভোগী পরিবারের এক সদস্য।

মামলা হলেও আসামি গ্রেফতারে পুলিশের শিথিলতা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে মূল পরিকল্পনাকারী জাহিদুল মেম্বারসহ তার ভাড়াটে বাহিনীকে আইনের আওতায় আনতে হবে।

অন্যথায় আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গুলশানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল, ৫ দিন পর ওসি বদলি

দামুড়হুদায় ভাড়াটে বাহিনীর তাণ্ডব: দুই ভাই মৃত্যুর মুখে, উত্তাল রাজপথ

Update Time : ০১:৪৮:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

 

মোঃ নাঈম উদ্দীন
বিশেষ প্রতিনিধি, চুয়াডাঙ্গা।

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার খাঁ পাড়ায় এক তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে একদল সশস্ত্র যুবকের বর্বরোচিত হামলায় একটি পরিবার আজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে।

স্থানীয় জাহিদুল মেম্বারের ভাড়াটে বাহিনীর এই নৃশংসতায় বর্তমানে ঢাকার দুটি হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন সাজু ও রাজু নামে দুই সহোদর। এ ঘটনার প্রতিবাদে এবং আসামিদের গ্রেফতারের দাবিতে বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) এলাকাবাসীকে সাথে নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও অবস্থান ধর্মঘট পালন করেছে ভুক্তভোগী পরিবারটি।

গত শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে দামুড়হুদা খাঁ পাড়ার বাবলু খাঁর বাড়িতে নেমে আসে অতর্কিত এক নারকীয় তাণ্ডব। প্রত্যক্ষদর্শী ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, চুয়াডাঙ্গা থেকে মোটরসাইকেল যোগে আসা একদল হেলমেটধারী যুবক রামদা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বাবলু খাঁর বাড়ির দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে।

হামলাকারীরা বাবলু খাঁর দুই ছেলে সাজু ও রাজুকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। ঘরের মেঝেতে জমে থাকা জমাট বাঁধা রক্ত আর ভাঙা আসবাবপত্র এখনো সেই বীভৎসতার সাক্ষী দিচ্ছে।

হামলায় গুরুতর আহত দুই ভাইয়ের অবস্থা বর্তমানে অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। সাজু বর্তমানে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। রাজু ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ নিউরোসায়েন্স ও হাসপাতালের আইসিইউতে (ICU) মৃত্যুর সাথে লড়ছেন।

চিকিৎসকদের মতে, দুজনের শরীরেই গভীর ক্ষত রয়েছে এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে তাদের অবস্থা সংকটাপন্ন।

এ ঘটনায় সাজু ও রাজুর চাচা খসরু খাঁ বাদী হয়ে ৭ জনের নাম উল্লেখসহ আরও ৮/১০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে ২২ ফেব্রুয়ারি দামুড়হুদা মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, ঘটনার কয়েকদিন পেরিয়ে গেলেও পুলিশ এখনো কোনো উল্লেখযোগ্য আসামিকে গ্রেফতার করতে পারেনি।

এদিকে, ঘটনার দিন গ্রামবাসীদের প্রতিরোধে হামলাকারী দলের একজন সদস্য সাজু (৩০) গণপিটুনিতে মারাত্মক আহত হয়। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকা মেডিকেল কলেজে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। হামলাকারীর এই মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে, যা ভুক্তভোগী পরিবারটিকে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ফেলে দিয়েছে।

প্রকৃত আসামিদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবিতে আজ বুধবার সকালে দামুড়হুদা উপজেলা সদরের জিরো পয়েন্ট চৌরাস্তা মোড়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে ভুক্তভোগী পরিবার ও গ্রামবাসী। এর আগে তারা উপজেলা সদরের প্রধান প্রধান সড়কে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের করেন।

বিক্ষোভের কারণে দীর্ঘ সময় দামুড়হুদা উপজেলা শহর যানজটের শহরে পরিণত হয়, স্থবির হয়ে পড়ে যান চলাচল।
“আমরা নিরপরাধ, আমাদের ওপর বিনা কারণে হামলা চালানো হলো। এখন আমরাই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। পুলিশ কেন আসামিদের ধরছে না?”
— ক্ষোভের সাথে জানান ভুক্তভোগী পরিবারের এক সদস্য।

মামলা হলেও আসামি গ্রেফতারে পুলিশের শিথিলতা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে মূল পরিকল্পনাকারী জাহিদুল মেম্বারসহ তার ভাড়াটে বাহিনীকে আইনের আওতায় আনতে হবে।

অন্যথায় আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।