নিজস্ব প্রতিবেদক,
নারায়ণগঞ্জ: হেযবুত তওহীদকে নিষিদ্ধ করার দাবিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছেন সংগঠনটির নারায়ণগঞ্জ জেলা সভাপতি আরিফ উদ্দিন। তিনি এ ধরনের দাবি অগণতান্ত্রিক, অযৌক্তিক এবং নাগরিকের আইনসঙ্গত মতপ্রকাশ ও সংগঠিত হওয়ার অধিকারের পরিপন্থী বলে মন্তব্য করেছেন।
বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুর ৩টায় সিদ্ধিরগঞ্জের সানারপাড় দারুল উলুম মাদ্রাসায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানা ইমাম ওলামা ঐক্য পরিষদের উদ্যোগে হেযবুত তওহীদকে নিষিদ্ধের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন সিদ্ধিরগঞ্জ থানা ইমাম ওলামা ঐক্য পরিষদের সভাপতি মুফতি আবু তাহের আল মাদানী।
এর পরিপ্রেক্ষিতে এক প্রতিবাদ বিবৃতিতে আরিফ উদ্দিন বলেন, কোনো সংগঠনের সঙ্গে ধর্মীয়, আকিদাগত বা দৃষ্টিভঙ্গিগত মতপার্থক্য থাকতেই পারে। তবে মতপার্থক্যের কারণে কোনো সংগঠনকে নিষিদ্ধ করার দাবি গণতান্ত্রিক ও ন্যায়সংগত সমাধান হতে পারে না।
তিনি বলেন, কোনো সংগঠন আইন লঙ্ঘন করেছে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট আইনগত কর্তৃপক্ষের। কোনো পক্ষের দাবি বা চাপের ভিত্তিতে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট আইনভঙ্গের অভিযোগ থাকলে যথাযথ তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তা উপস্থাপনের আহ্বান জানান তিনি।
আরিফ উদ্দিন আরও বলেন, ধর্মীয় বা আদর্শিক মতপার্থক্যের সমাধান হওয়া উচিত যুক্তি, আলোচনা ও শান্তিপূর্ণ মতবিনিময়ের মাধ্যমে। নিষেধাজ্ঞা, অপপ্রচার বা সামাজিক চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে মতপার্থক্যের সমাধান করা উচিত নয়।
তিনি বলেন, “আমরা কোনো আলেম, মাদ্রাসা বা ধর্মীয় সংগঠনের সঙ্গে বিরোধে যেতে চাই না। আমরা চাই শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং আইন ও সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রেখে মতপার্থক্যের সমাধান।”
সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা সভাপতি বলেন, কোনো পক্ষের চাপ, আবেগ বা একতরফা বক্তব্যের ভিত্তিতে নয়, বরং নিরপেক্ষ, বস্তুনিষ্ঠ ও আইনগত দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি মূল্যায়ন করতে হবে। একই সঙ্গে কোনো সংগঠন বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য, গুজব কিংবা উসকানিমূলক বক্তব্য প্রচারের মাধ্যমে যাতে সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান এর তিনি।
তিনি আরও বলেন, হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে সংগঠনটি যথাযথ আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তা মোকাবিলা করতে প্রস্তুত। তবে শুধুমাত্র মতাদর্শগত বা ধর্মীয় মতপার্থক্যের কারণে সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ করার দাবি তারা দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করছেন।
সবশেষে আরিফ উদ্দিন দেশের সামগ্রিক শান্তি, সামাজিক সম্প্রীতি ও আইনশৃঙ্খলার স্বার্থে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে শান্ত ও সহনশীল থাকার আহ্বান জানান। মতপার্থক্যকে সংঘাতের কারণ না বানিয়ে আইন, যুক্তি ও শান্তিপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ অনুসরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।