মোহাম্মদ হোসাইন, টেকনাফ (কক্সবাজার)।
উখিয়া-টেকনাফের সাবেক সংসদ সদস্য, বিশিষ্ট জননেতা ও সমাজসেবক মরহুম আলহাজ্ব আবদুল গফুর চৌধুরীর জীবন, রাজনৈতিক দর্শন, জনসেবা এবং কর্মময় জীবনের নানা দিক তুলে ধরে প্রকাশিত হচ্ছে নতুন গ্রন্থ "আলহাজ্ব আবদুল গফুর চৌধুরীর জীবন কথা"।
মরহুম আলহাজ্ব আবদুল গফুর চৌধুরী দীর্ঘ প্রায় ৩৫ বছর হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ছিলেন টেকনাফ উপজেলা পরিষদের প্রথম চেয়ারম্যান, কক্সবাজার জেলা পরিষদের সদস্য এবং উখিয়া-টেকনাফের সাবেক সংসদ সদস্য। এছাড়াও তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেটের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
তিনি হ্নীলা উচ্চ বিদ্যালয়সহ অসংখ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তাঁর উদ্যোগে হ্নীলা হাসপাতাল, হ্নীলা ভূমি অফিসসহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ধর্মীয় ও সামাজিক উন্নয়নে তাঁর অবদান আজও দক্ষিণ চট্টগ্রামের মানুষের কাছে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণীয়।
ব্যক্তিগত জীবনেও তিনি ছিলেন অত্যন্ত মানবিক ও উদার। উখিয়া-টেকনাফের পরিচিত কাউকে যেখানে-সেখানে দেখলে তিনি আন্তরিকতার সঙ্গে ডেকে খাওয়াতেন এবং প্রয়োজন হলে নিজ খরচে গাড়িভাড়া দিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দিতেন। মৃত্যুর আগে সন্তানদের উদ্দেশে তিনি বলেছিলেন, "আমি তোমাদের জন্য ধন-সম্পদ রেখে যেতে না পারলেও মানুষের ভালোবাসা রেখে গেলাম।" এই উক্তি তাঁর মানবিক জীবনদর্শনের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হয়।
এছাড়াও তিনি পশ্চিম পানখালী জামে মসজিদ, পশ্চিম পানখালী কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠসহ অসংখ্য মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য জমি দান করেন। সমাজকল্যাণ ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের বিকাশে তাঁর অবদান ছিল অনন্য।
গ্রন্থটির রচয়িতা বহু গ্রন্থের প্রণেতা, বিশিষ্ট কবি, শিক্ষাবিদ ও গবেষক এম. এরশাদুর রহমান। বইটির প্রচ্ছদে জাতীয় সংসদ ভবনের পটভূমিতে আলহাজ্ব আবদুল গফুর চৌধুরীর প্রতিকৃতি স্থান পেয়েছে। সেখানে তাঁকে "জননেতা, সমাজসেবক ও মানুষের কল্যাণে নিবেদিত প্রাণ" হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।
গ্রন্থটিতে তাঁর রাজনৈতিক জীবন, নেতৃত্বের দর্শন, জনসম্পৃক্ততা, সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড, দেশ ও মানুষের প্রতি অবদান এবং স্মরণীয় বিভিন্ন উক্তি সংকলিত হয়েছে। বইয়ের পেছনের প্রচ্ছদে রাজনীতিকে ক্ষমতার নয়, মানুষের সেবা ও দায়িত্ব পালনের অঙ্গীকার হিসেবে দেখার আহ্বান, সততা ও নিষ্ঠার মাধ্যমে মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নেওয়ার গুরুত্ব এবং সাধারণ মানুষের কল্যাণকেই উন্নয়নের মূল লক্ষ্য হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
লেখক জানান, নতুন প্রজন্মের কাছে আলহাজ্ব আবদুল গফুর চৌধুরীর জীবনাদর্শ, রাজনৈতিক চিন্তাভাবনা এবং জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড তুলে ধরার লক্ষ্যেই বইটি রচিত হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, "আলহাজ্ব আবদুল গফুর চৌধুরীর জীবন কথা" গ্রন্থটি তাঁর জীবনসংগ্রাম, রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, সামাজিক অবদান এবং মানবকল্যাণে নিবেদিত কর্মময় জীবনের একটি মূল্যবান প্রামাণ্য দলিল হিসেবে পাঠকমহলে সমাদৃত হবে।