কক্সবাজার প্রতিনিধি:
কক্সবাজার শহরের কলাতলী বিজয়নগর আবাসিক এলাকায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনস্থ জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (NSDA) এবং বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড অনুমোদিত কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ‘স্কাস টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার’ (STTC) ও স্থানীয় শিশুদের দ্বীনি প্রতিষ্ঠান ‘আস্-সাফফাহ নূরানী মাদ্রাসা’র জমি জবরদখল এবং চাঁদাবাজির মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, এলাকার কথিত ভূমিদস্যু ও চিহ্নিত চাঁদাবাজ রুবেলের নেতৃত্বে ১৫ থেকে ২০ জনের একটি সশস্ত্র সন্ত্রাসী বাহিনী ওই দুটি প্রতিষ্ঠানের জমি দখলের উদ্দেশ্যে চড়াও হয়।
প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রুবেল ও তার সহযোগী বাহিনী মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে আসছিল। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা পরিকল্পিতভাবে সংঘবদ্ধ হয়ে অতর্কিত হামলা চালায় এবং জমি জবরদখল করার অপচেষ্টা চালায়।
ঘটনা চলাকালীন পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক হয়ে উঠলে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ ও সচেতন স্থানীয় বাসিন্দারা জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল দেন। খবর পাওয়ার পরপরই কক্সবাজার সদর থানা পুলিশের একটি জরুরি টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান চালায়।
পুলিশের তাৎক্ষণিক উপস্থিতি টের পেয়ে দখলদার ও চাঁদাবাজ বাহিনীর সদস্যরা তড়িঘড়ি করে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়।
স্কাস টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার (STTC) কর্তৃপক্ষ জানান, এটি সম্পূর্ণ অলাভজনক ও জনকল্যাণমূলক একটি প্রতিষ্ঠান। দীর্ঘদিন ধরে এটি স্থানীয় যুবসমাজকে মানসম্মত কারিগরি প্রশিক্ষণে দক্ষ করে গড়ে তোলার মাধ্যমে কক্সবাজারের বেকারত্ব দূরীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
অন্যদিকে, একই স্থানে অবস্থিত আস্-সাফফাহ নূরানী মাদ্রাসায় এলাকার বহু কোমলমতি শিশু ধর্মীয় শিক্ষা গ্রহণ করছে।
এ রকম জনকল্যাণমুখী ও দ্বীনি প্রতিষ্ঠানের জমি জবরদখলের অপচেষ্টায় পুরো বিজয়নগর আবাসিক এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।
এলাকার সচেতন নাগরিকেরা চিহ্নিত চাঁদাবাজ রুবেল এবং তার বাহিনীর সদস্যদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার জন্য স্থানীয় প্রশাসনের নিকট জোরালো দাবি জানিয়েছেন।