মোমিন আলি লস্কর জয়নগর:-দক্ষিন ২৪পরগনার এই সর্বপ্রথম জয়নগর মজিরপুরে স্পন্দন মেটারনিটি এ্যন্ড নাসিংহোমে শুভ উদ্বোধন হলো ক্যাথলেপ। এই উদ্বোধনে ফলে সুন্দরবন প্রত্যন্ত এলাকা সাধারণ মানুষ আর সুদুর কলকাতায় দৌড়ে যেতে হবেনা। এবং হার্টের চিকিৎসা স্বল্প খরচে এখানে হবে বলে জানালেন এই নাসিংহোমের কর্ণধার হরিসাধন নস্কর। তিনি মহতি অনুষ্ঠানে তানার গর্ভধারিনী মাকে ফুল সহ মেমন্ট এবং পায়ে হাত দিয়ে প্রনাম জানিয়ে সংবর্ধনা জানালেন। সেই সঙ্গে সঙ্গে নিমপীঠ আশ্রমের মহারাজ স্বামী সদানন্দ মহারাজ কে ফুল সহ মেমন্ট পায়ে হাত দিয়ে সংবর্ধনা ক্ষাপন করেন। একে একে দুই বিধায়ক সহ জেলাপরিষদের সদস্য খান জিয়া , জয়নগর এক নম্বর ব্লকের আধিকারিক, বিশিষ্ট ব্যাক্তিগন কে ফুল ও মেমন্ট দিয়ে সংবর্ধনা ক্ষাপন জানালেন।জয়নগর, কুলতলী সহ সুন্দরবন প্রত্যন্ত এলাকায় হরিসাধন নস্কর নার্সিংহোমের হার্টের চিকিৎসার এক যুগান্তকারী নজীর করেছেন। যার শুভ উদ্বোধন অনুষ্টিত করলেন নিমপীঠ রামকৃষ্ণ আশ্রমের মহারাজ সদানন্দ স্বামীজী নির্দেশে জয়নগর বিধান সভার বিধায়ক বিশ্বনাথ দাস, কুলতলীর বিধায়ক গনেশ চন্দ্র মন্ডল ও মহারাজ সদান্দ স্বামীজী সহ বিশিষ্ট ডাক্তার, বিশিষ্ট ব্যাক্তিগনের উপস্থিতে জয়নগর বিধান সভার বিধায়ক বিশিষ্ট শিক্ষক বিশ্বনাথ দাস ফিতে কেটে শুভ উদ্বোধন করলেন স্পন্দন মেটারনিটি এ্যন্ড নাসিংহোমের হার্টের মেশিন উদ্বোধন।
জয়নগর বিধান সভার বিধায়ক বিশিষ্ট শিক্ষক বিশ্বনাথ দাস সাংবাদিকের মুখোমুখি হয়ে বলেন- এটা তো আমাদের কাছে একটা গর্বের কথা। যেহেতু আমরা সুন্দরবন এলাকার মানুষ সুন্দরবন এলাকার বিধায়ক।ফলে এই যে চিন্তা ভাবনা করেছেন আমাদের ডক্টর হরিসাধন নস্কর তার স্পন্দন যে নার্সিংহোমে এই সুন্দরবন অধ্যুষিত এলাকার গরিব মানুষজনদের জন্য একটা নতুন পলকের আবির্ভাব করেছেন।আমি বিধায়ক হিসাবে হরিসাধন নস্কর কে অংসখ্যা ধন্যাবাদ জানাই এমন উদ্যোক্তার জন্য।
তিনি বলেন হার্টের সমস্যা জন্য কলকাতায় দৌড়াতে যেতে হয়।এখান থেকে একটা মুমূর্ষু রোগীকে কলকাতায় নিয়ে যাওয়াতে দু ঘন্টা যে সময় লাগে সেই জায়গাটা তাড়াতাড়ি এই জিনিসটা এখানে রিকভার করা যাবে ফলে আমি বলবো যে হরি বাবু তার চিন্তা ভাবনা বা পরিকল্পনা করে একের পর এক যে ব্যবস্থাগুলো করছে এটা এই সুন্দরবন এলাকার মানুষের কাছে একটা নতুন দিশা দেখাচ্ছে। আমরা যারা জনপ্রতিনিধি আছি আমাদের মহারাজ আছেন আমরা পরামর্শ দিতে পারি পাশে থাকতে পারি যতটুকু সহযোগিতা সাহায্য করা দরকার সেটা করতে পারি কিন্তু তার যে মানসিকতা তার যে উদ্যোগ এটাকে প্রশংসা দাবি রাখে প্রশংসা করার মতো অর্থ থাকলেই সবে যে এই কাজে এগিয়ে যেতে পারে অনেকেই পারে না কিন্তু এটা করে যাচ্ছে এটা উপরওয়ালার আশীর্বাদ আছে এলাকার মানুষদের শুভেচ্ছা ভালোবাসা আছে এই কাজ করে যাচ্ছে আরো আরো ভালো কাজ করবে আমি আশা করবো এবং আমরা সবাই পাশে আছি।
কুলতলীর বিধায়ক গনেশ চন্দ্র মন্ডল বলেন -জয়নগর, কুলতলী সহ সুন্দরবন প্রত্যন্ত এলাকায় হরিসাধন নস্কর নার্সিংহোমের হার্টের চিকিৎসার এক যুগান্তকারী নজীর করেছেন।তারজন্য আমার পক্ষথেকে আন্তরিক শুভেচ্ছা কৃতঞ্জতা ধন্যবাদ জানাই।গ্রামবাংলার জয়নগর কুলতলী বা পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন ব্লকে বহু রুগী এখান আসেন এবং হরিসাধন বাবু ভালো চিকিৎসা করে থাকেন। তিনি আরো ভালো পরিষেবা দেওয়ার জন্য তিনি যে হার্টের একটা ইয়ে এবং প্রসূতি আলাদা ভাবে বিভাগ করেছেন তার জন্য আমি হরিসাধন বাবুকে আমার অন্তরে অন্তস্থল থেকে শ্রদ্ধা কৃতজ্ঞতা জানাই।
স্পন্দন মেটারনিটি এ্যন্ড নাসিংহোমের কর্ণধার, হরিসাধন নস্কর সাংবাদিকের মুখোমুখি হয়ে বলেন-সাধারণ মানুষের জন্যই আমার এই ক্যাথলেপ করা।প্রত্যন্ত সুন্দরবন এলাকার মানুষ যারা কলকাতায় অনেকেই সরকারি হসপিটালে যাওয়ার সময় যাচ্ছে,হয়তো দেরি হচ্ছে বা পরিষেবা পাচ্ছে না কোনো কারণে অনেকে জানেই না কোথায় যেতে হবে কি করতে হবে তাদের জন্যই মূলত আমার এই ক্যাথলেপ টা তৈরি করা।স্বাস্থ্য সাথী কার্ডের মাধ্যমে আমরা পরিষেবা টা দেবো।
এখানে মূলত আমারা আইসিইউ ডায়ালিসিস সবই আছে।আজকে শুধুমাত্র আমরা যেটা করেছি সেটা ক্যাথলাপ যার মাধ্যমে এনজিওগ্রাম এনজিওপ্লাস্টি পেজ মেকার এগুলো আমরা এখান থেকে করতে পারবো এবং একটা স্পন্দনের ইউনিট টু আমরা করেছি যেটা শুধুমাত্র প্রসূতি বিভাগ যেখানে আমরা সম্পূর্ণ বিনা পয়সায় নর্মাল ব্যবস্থা করেছি।আমরা পঁচিশ বর্ষে বর্ষে পদার্পণ করেছি।সবসময়ের জন্য থাকবে।আশা করছি সমস্থ মানুষ উপকৃত হবে এখান থেকে।
বিশিষ্ট হার্টের স্পেটালিস ডাক্তার আসরাফুল হক বলেন-হরিসাধন বাবু যে উদ্যোগটা নিয়েছেন তা সত্যি মানে প্রশংসার যোগ্য মানে,প্রশংসা বললে কম বলাই হবে,মানে এটা সবার পক্ষে সম্ভব নয় এবং উনি যেটা করে দেখিয়েছেন বা দেখাচ্ছেন সেটা একটা সদিচ্ছা তো দরকার তার সঙ্গে সাহসও খুব দরকার। এবার উনি দীর্য পঁচিশ বছর ধরে যেখান থেকে এটা শুরু করেছেন এই চিকিৎসা ব্যবস্থাটাকে এখন একটা এমন জায়গায় নিয়ে গেছেন এমনকি অনেক ডিস্ট্রিক্ট শহরেও আপনি এই ব্যবস্থাটা হয়তো পাবেন না, ক্যাথলা ব্যাপারটা হচ্ছে এটা একটা OT র মতো মানে operation theater এর মতো যেখানে আপনি heart এর কিছু advance treatment করতে পারেন এর মুল লক্ষ্যন কোনো patient এর ধরুন বুকে ব্যথা হলো যেটা আমরা diagnose করলাম heart attack হয়েছে মানে কোনো heart attack টা মানে হচ্ছে একটা কোনো ব্লক এর জন্য যেটা heart এর artery আর কি ধমনী যেটা হার্টের মাসেলকে সাপ্লাই দিচ্ছে,সেটা ব্লক হওয়ার দরুন হার্টের মাসেল ব্লাড পাচ্ছে না,বুকে ব্যথা হচ্ছে তো এটা যত তাড়াতাড়ি ট্রিটমেন্ট করা যায়,তত পেশেন্টের জন্য ভালো।মানে পেশেন্টটাকে বাঁচানোর অ্যাটলিস্ট যেতে পারে।আমাদের বিশেষ করে প্রত্যন্ত এরিয়ায় কেউ বুকে ব্যথা বুঝতে বুকে ব্যথা হয়তো গ্যাস অম্বল হচ্ছে,মানে সবকিছুতেই গ্যাস অম্বল বলে আমরা চালিয়ে দিই।
গ্ৰামীন চিকিৎসক নার্সিংহোমে পাঠালেন কিন্তু ডাক্তার বাবুরা দেখে বললেন হার্ট অ্যাটাক হয়ে গেছে।কলকাতায় পাঠাতে হবে পেশেন্টকে তো রাস্তায় যেতে যেতে আমরা দেখি মারা যায়।advance cardiac care যেটা খুবই রুগীর জন্য কারণ আমাদের দেশে সবচেয়ে বেশি হার্টের মৃত্যু হচ্ছে এবং ইনিশিয়াল ট্রিটমেন্টটা খুব তাড়াতাড়ি হওয়া উচিত এই জন্যই ক্যাথল্যাবের প্রয়োজনীয়তা খুবই বেশি গ্রামে দেখে সঙ্গে পেশেন্টকে এই সেন্টারে যদি পাঠিয়ে দেন তাহলে ট্রিটমেন্টটা খুব তাড়াতাড়ি হয়ে যাবে। আশা করছি তো এর জন্য হরিসাধন বাবুকে তো খুবই আমাদের অভ্যর্থনা দেওয়া উচিত। আর আশা করি উনি ভবিষ্যতে এই জিনিসটাকে নিয়ে আরো বেশি উদ্যোগ নেবেন যাতে কোঅর্ডিনেটেড ওয়েতে সবার সঙ্গে কাজ করা যায় এবং তাতে এই গ্রাম বাংলার বিশেষ করে প্রত্যন্ত এরিয়ার মানুষরা খুব উপকৃত হবেন।
এই মহতি অনুষ্টানে উপস্থিত ছিলেন নিমপীঠ আশ্রমের মহারাজ স্বামী সদানন্দ মহারাজ, জয়নগর বিধান সভার বিধায়ক বিশিষ্ট শিক্ষক বিশ্বনাথ দাস, কুলতলীর বিধায়ক গনেশ চন্দ্র মন্ডল, জয়নগর এক নম্বর ব্লকের ব্লক উন্নয়ন আধিকারিক শুভদীপ মহাশয়, বিশিষ্ট হার্টের চিকিৎসক ডাক্তার আশরাফুল হক,জেলা পরিষদের সদস্য খান জিয়াউল হক, পৌরসভার চেয়ারম্যান সুকুমার, ভাইস চেয়ারম্যান রথীন, রাখি, চিন্ময় বাবু, সর্বোপরি স্পন্দন মেটারনিটি এ্যন্ড নাসিংহোমের কর্ণধার হরিসাধন নস্কর ঐ নাসিংহোমের সমস্থ বিশিষ্ট ডাক্তার সহবিশিষ্ট ব্যাক্তিবর্গগন।